ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম

Theresa Mayপ্রধানমন্ত্রীত্ব বাঁচাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে ১০ দিনের সময় দিয়েছেন তারই দলের কয়েক ডজন এমপি। কনজারভেটিভ দলের এই এমপিরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ১০ দিন সময় পাবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যথায়, তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে।

শাসক দল কনজারভেটিভদের ভয়াবহ নির্বাচনী ফল ও লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে অপর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার জেরে টালমাটাল থেরেসা মের সরকার।

শীর্ষ ব্রিটিশ পত্রিকা সানডে টাইমস জানিয়েছে, কয়েক ডজন টোরি এমপি দলীয় নেত্রী তেরেসা মের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার দাবি তোলার হুমকি দিয়েছেন।

গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের পর জনরোষে পড়েছে তেরেসা মের সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে হতাহতদের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, সরকারি সহায়তাকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না অনেকে। ফলে শাসক দলের নেতারা চান, সরকার যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি ঠিক করুক। অন্যথায় খোদ ক্যাবিনেট মন্ত্রীরাও দাবি করেছেন, ২৯ জুন রাণীর ভাষণের ওপর ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী জিতবেন না, এমন আশঙ্কা তৈরি হলে তারা নিজেরাই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্যোগ নেবেন।

বিদ্রোহী এমপিরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছেন তারা। একজন মন্ত্রী তার বন্ধুদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা নিয়ে তিনি চিন্তিত। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আরেকজন মন্ত্রী বলেছেন, ‘নিজেকে নিয়ে দুঃখ পাওয়া থামানো উচিত প্রধানমন্ত্রীর। দ্রুত দেশকে সামনে নেয়া শুরু করা উচিত তার। যদি তিনি তা না পারেন, তাহলে তার উচিত বিদায় নেয়া। সামাল দিন, অথবা ছিটকে পড়ুন।

টোরি সূত্রগুলো বলছে, ২০০৩ সালে আয়ান ডানকান স্মিথকে যেভাবে উৎখাত করা হয়েছিল, তেমন ভাগ্যবরণ করতে হতে পারে তেরেসা মেকেও। ৪৮ এমপি অনাস্থা ভোট ডাকলেই প্রধানমন্ত্রীর গদি নড়বড়ে হয়ে যাবে। সাউথ ক্যামব্রিজশায়ারের এমপি হেইদি অ্যালেন এমপিদের এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, মানুষ এমন একজন নেতা ও দল চায়, যেটি এই উত্তাল সময়ে আমাদেরকে নিয়ে পাড়ি দেবেন। একই সময়ে সাধারণ মানুষের দিকেও তাকাবেন।

সাবেক একজন মন্ত্রী বলেছেন, দেরির বদলে তাকে তাড়াতাড়িই ফিরে যেতে হবে। ২৮ ও ২৯ জুন খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তখনই রাণীর ভাষণ নিয়ে ভোটাভুটি হবে। যদি দেখা যায় যে, ভোটাভুটিতে শাসক দল হেরে যাবে, তাহলে আঘাত হানতে হবে।

এসব এমন সময়ে এলো যখন খোদ প্রধানমন্ত্রী মে গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের হতাহতদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকারও করে নিয়েছেন, হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমর্থন যথেষ্ট ছিল না।

তিনি শনিবার বলেন, জরুরি সেবাদাতা বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সাড়া ছিল নায়কোচিত। যদিও আক্রান্তগণ পর্যাপ্ত সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ আছে।

অন্যদিকে বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আরেক কাণ্ড ঘটান প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎকারে তিনি হতাহতদের প্রতি কোনো সহমর্মিতা ব্যক্ত করেননি। এমনকি প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি চিরাচরিত একঘেয়ে গলায় অন্য উত্তর দেন। এ নিয়ে তার সমালোচনা আরো বাড়ে।

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ