ব্রাজিল সীমান্ত বন্ধের আদেশ মাদুরোর

বৈদেশিক ত্রাণ ঠেকাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার ব্রাজিল সীমান্ত বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। বৈদেশিক ত্রাণ নিয়ে মার্কিন সমর্থিত বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুয়াইডোর সঙ্গে বিরোধের মধ্যেই এমন ঘোষণা দিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে মাদুরো বলেন,রাত ৮টা(স্থানীয় সময়) থেকে  ব্রাজিলের সঙ্গে সীমানা পুরোপুরি এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া বৈদেশিক ত্রাণ বন্ধে কলোম্বিয়া সীমান্ত বন্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাদুরো। পাঠানো ত্রাণকে উস্কানিমূলক এবং শিশুদের খেলা আখ্যায়িত করে মাদুরো জানান, এই ত্রাণ ভেনেজুয়ালায় মার্কিন সেনা অভিযানের পূর্বাভাস।

এদিকে ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সীমান্ত বন্ধ থাকলেও আকাশ পথে ত্রাণ সরবরাহ করবে তারা। পাশাপাশি সীমান্ত শহর পেছেরাইমাতে অপচনশীল খাবার এবং ঔষধের মজুদ রাখবে।

এই বিষয়ে ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেমিল্টন মৌরাও বলেন, যদি ভেনেজুয়েলা চায় তাহলে আমরা সীমান্তে ত্রাণ সরবরাহ করতে পারি যাতে তারা আসতে পারেন এবং সেগুলো নিতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ত্রাণ কার্যে সাহায্য করার ঘোষণা দেয়ার পর ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ইতিমধ্যে ডাচ ক্যারিবিয়ান দ্বীপ আরুবা, কুরাছাও এবং বোনাইরের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকেই দেশটিতে ব্যাপকভাবে চলছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। একদিকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শপথ নিয়ে নিজেকে বৈধ দাবি করছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা তাকে অবৈধ উল্লেখ করে নিজেকেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে বসে আছেন। আর এ ইস্যুতেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি পক্ষগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপ দেশটিতে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গুইদোকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলো। তবে রাশিয়া, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ নিকোলাস মাদুরোর প্রতি নিজেদের সমর্থন জানিয়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের নিন্দা করেছে। জানুয়ারির নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরো শপথ নিলেও নির্বাচনকে প্রথম থেকেই অবৈধ দাবি করছে বিরোধী দলগুলো। কারণ বেশিরভাগ বিরোধী দলীয় নেতা ওই সময় হয় কারাগারে থাকার কারণে বা নির্বাচন বয়কটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

মানবকণ্ঠ/এআর