ব্যাংকিং সেবায় তৃপ্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা

বাণিজ্যমেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আর্থিক লেনদেন সহজ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে সরকারি-বেসরকারি খাতের ৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এটিএম বুথ এবং ডিপোজিট মেশিনের পাশাপাশি রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা। ২৪ ঘণ্টাই এসব মেশিনে টাকা জমা বা উত্তোলন করতে পারছেন মেলায় অংশ নেয়া ক্রেতা-বিক্রেতারা। একইসঙ্গে এসব ব্যাংকের প্যাভিলিয়ন থেকে ব্যাংকের হিসাব খোলা ও ঋণ-আমানত সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা দেয়া হচ্ছে। এবারের মেলায় অংশ নেয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সোনালী ও জনতা ব্যাংক, বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক এবং মেঘনা ব্যাংক। এ ছাড়া রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাপ্রদানকারী সংস্থা বিকাশ। এর মাধ্যমে মোবাইলে অর্থ জমা, তোলা ও স্থানান্তরের সুবিধা নিতে পারছেন গ্রাহকরা। বরাবরের মতো মেলায় ব্যাংকের সেবা থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা মেলা প্রাঙ্গণে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। মেলায় অংশ নেয়া ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের লেনদেনের সুবিধার্থে মেলায় সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কেনাকাটা করতে চাহিদামতো টাকা তোলা এবং বিক্রেতাদের নগদ টাকা জমা নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ সেবা দেয়া হচ্ছে। এসব শাখায় পণ্যের ভ্যাট পরিশোধ, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর মতো সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি এটিএম বুথের মাধ্যমে নগদ টাকা তোলারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তারা আরো বলেন, ব্যাংকের প্যাভিলিয়নগুলোতে নতুন হিসাব খোলা, বিভিন্ন আমানত ও ঋণ প্রকল্প এবং ব্যাংকের নতুন নতুন পণ্য সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হচ্ছে। জনতা ব্যাংকের মিনি প্যাভিলিয়নে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা জমা দেন মেলায় অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরা। শুক্র ও শনিবার তা বেড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি হয়। আর ক্রেতা-দর্শনার্থীসহ যে কেউ জনতা ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন। জনতা ব্যাংকের প্যাভিলিয়নে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলেন, ক্রেতাদের চেয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি আসছেন। মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যাংকের কর্পোরেট গ্রাহক। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিদিনের বিক্রির অর্থ এখানে জমা দেন। টাকা তোলা ও জমা দেয়া ছাড়াও অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে মেলায় আগত ক্রেতাদের। মেলায় সোনালী ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা তোলা ও সরাসরি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাও আছে। এ ছাড়া, কেনাবেচার ওপর যে ভ্যাট দিচ্ছেন ক্রেতারা, তা এই ব্যাংকে জমা দিচ্ছেন স্টল ও প্যাভিলিয়নের ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট জমা পড়ছে।

অন্যদিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) প্যাভিলিয়নে টাকা জমার জন্য ক্যাশ ডিপোজিট ও উত্তোলনের জন্য এটিএম মেশিন আছে। এ ছাড়া কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের জন্য মেলায় ৫০টির বেশি স্টলে আছে ব্যাংকের পস (পয়েন্ট অব সেলস) মেশিন।
মেলায় টাকা জমা, উত্তোলনসহ নানা সেবা নিয়ে মেলায় আছে ইসলামী ব্যাংক। মেলার মূল ফটকের বঁাঁ দিকে হাঁটলেই পাওয়া যাবে এ ব্যাংকের প্যাভিলিয়ন। এ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, মেলায় অংশ নেয়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাংকিং সুবিধা দিতেই আমরা এই মেলায় অংশ নিয়েছি। এখানে আমাদের নতুন নতুন পণ্য সম্পর্কে গ্রাহকদের ধারণা দিচ্ছি। এ ছাড়া লেনদেনের সুবিধার্থে ২টি এটিএম বুথ এবং একটি ডিপোজিট মেশিনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টাই সেবা দিচ্ছি। এসব মেশিনের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতারা খুব সহজেই নগদ টাকা উত্তোলন এবং জমা করতে পারছেন। ইসলামী ব্যাংকের প্যাভিলিয়নের পাশেই রয়েছে মেঘনা ব্যাংকের একটি বুথ। এ ছাড়া মেলার মূল ফটক থেকে বাঁ দিকে এগুলেই রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একটি বুথ। এই বুথের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছেন ওসমান নামের এক ব্যক্তি।

তিনি বলেন, বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বুথগুলোতে খুব ভিড় হয়। আর শুক্র ও শনিবারে লম্বা লাইন হয়ে যায়। সে সময় খুব চাপ সামলাতে হয়। মেলার প্রধান ফটক থেকে বরাবর এগোলে হাতিল ফার্নিচার প্যাভিলিয়নের পাশে আছে ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশের বুথ। সেখান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে পারছেন যে কেউ। শুধু তাই নয়, মেলায় প্রবেশের আগে বিকাশে অ্যাকাউন্ট খুললে টিকিট ছাড়াই যে কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন। সেখানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের লম্বা লাইনও দেখা গেছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি স্টলেও বিকাশে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন ক্রেতা সাধারণ। রাজধানীর ডেমরা থেকে মেলায় এসেছেন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, মেলা থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার কেনাকাটা করেছি। কিন্তু বাসা থেকে এক টাকাও নিয়ে আসিনি। ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলে তারপর কেনাকাটা করেছি। তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মেলায় ব্যাংকিং সেবা খুবই জরুরি। কেননা এতে আমাদের মতো ক্রেতাদের ঝুঁকি নিয়ে সঙ্গে টাকা বহনের প্রয়োজন হয় না। আবার মেলায় অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরাও বিক্রি শেষে সহজেই ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা রাখতে পারছেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ২৩তম মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকছে এ মেলা। প্রবেশ ফি প্রতিজন ৩০ টাকা, ছোটদের জন্য ২০ টাকা।

মানবকণ্ঠ/এসএস