ব্যস্ত নগরজীবনে তৈরি খাবার

শুধু নগরের সুপার স্টোরেই নয়, পাড়ার বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও রয়েছে রেডিমেড ফুড বা তৈরি খাবারের পসরা। কাজের ফাঁকে দু-দণ্ড সময় মেলে না ব্যস্ত নগরবাসীর। সুস্থির হয়ে হেঁশেলে খাবার তৈরি করার সময় নেই তাদের। তাই ভোজনরসিক বা রসনাবিলাসীদের সময় বাঁচাতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকম তৈরি খাবার। এসব তৈরি খাবার যে সব সময় ঘরে এনেই পরিবেশন করা যাবে, তা কিন্তু নয়। খেতে হলে হয়তো সেঁকে, কখনো বা ভেজে, আবার কখনো সামান্য কষিয়ে খাওয়া যাবে। এতেই অনেক খুশি ক্রেতারা।

ছুটির দিন সকালে মা-বাবার সঙ্গে ধানমণ্ডির নন্দন সুপার স্টোরে এসেছে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নিশিতা। হাতে রাখা ঝুঁড়িতে কয়েক প্যাকেট চিকেন নাগেটস সে নিজেই তুলে নিল।
মা-বাবা দুজনই কর্মজীবী হওয়ার কারণে মায়ের হাতের টিফিন খুব একটা পায় না নিশিতা। তাই চিকেন নাগেটসই ভরসা। অবশ্য এটা নিয়ে মন খারাপ হয় না তার। চিকেন নাগেটস তার বেশ পছন্দের।
বাবা ব্যাংকার সাদিক বলেন, ওকে সঙ্গে নিয়ে আসি, কারণ ওর যেটা পছন্দ, সেটাই ও নেবে। এদিকে কর্মজীবী সাদিয়া নূরের ঝুঁড়িতে উঁকি মারছে পরোটা আর চাপাতি রুটির প্যাকেট।
তিনি বলেন, সারাদিনের জন্য বেরিয়ে যাওয়ার আগে সকালের নাস্তাটা ঠিকঠাক হওয়া চাই। আর তাই সময় বাঁচাতে এই রুটিই ভরসা।
শুধু নগরের সুপার স্টোরগুলোতেই নয়, পাড়ার বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও রয়েছে রেডিমেড ফুড বা তৈরি খাবারের পসরা। কাজের ফাঁকে দু-দণ্ড সময় মেলে না ব্যস্ত নগরবাসীর।
সুস্থির হয়ে হেঁশেলে খাবার তৈরি করার সময় নেই তাদের। তাই ভোজনরসিক বা রসনাবিলাসীদের সময় বাঁচাতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকম তৈরি খাবার। এসব তৈরি খাবার যে সব সময় ঘরে এনেই পরিবেশন করা যাবে, তা কিন্তু নয়।
খেতে হলে হয়তো সেঁকে, কখনো বা ভেজে, আবার কখনো সামান্য কষিয়ে খাওয়া যাবে। এতেই অনেক খুশি ক্রেতারা।
ধানমণ্ডির মীনা বাজার থেকে ফিশ ফিঙ্গার আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিনছিলেন অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা অ্যানা আর এরিন। অ্যানা বলেন, ‘নিজের দেশে তো বটেই, বাংলাদেশেও আমরা রেডিমেড খাবার কিনে থাকি। তাছাড়া আজ রাতে বাসায় পার্টি আছে, তাই সময় বাঁচাতে এই খাবারগুলো কিনতে এসেছি।’ মিরপুরের আগোরাতে আসা তানিয়া রহমান বলেন, কেবল বাচ্চাদের পছন্দমতো টিফিন দেয়াই নয়, বিকেলের নাস্তা হিসেবে রেডিমেড খাবারের জুড়ি মেলা ভার।
কর্মজীবী নারী শাহ্জাবীন রহমান বলেন, ‘বাসায় কোনো মেহমান এলে ফ্রিজ থেকে বের করে ঝটপট ভেজে দেয়া যায় শিঙ্গাড়া, চিজ বল, কাবাব, কোপ্তার মতো খাবার। এতে করে নিজের হাতের ছোঁয়াও থাকছে, আবার সময় বাঁচিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারটাও পরিবেশন করতে পারছি। তবে এসব পণ্যের দাম একটু চড়া।’
দামের প্রসঙ্গে একটি কনজুমার প্রোডাক্টের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বলেন, গুণগত মান আর পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে সময় বাঁচানোর জন্য যে খাবারটা ক্রেতা কিনবেন, তার দাম তো স্বভাবতই একটু বেশি হবে। নগরে প্যাকেটজাত তৈরি খাবার যে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে, তা জানালেন গোল্ডেন হারভেস্টের কর্পোরেট সেলস ম্যানেজার বলেন, ‘শুরুতে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে সহজ উপায়ে সুস্বাদু খাবারটা পৌঁছে দেয়া। শুরুর দিকে এর প্রচার কম থাকলেও এখন প্রসারিত হয়েছে রেডিমেড ফ্রোজেন ফুডের বাজার।’
মিরপুর আগোরার স্টোর ম্যানেজার বলেন, দিনে দিনে স্টোরে রেডিমেড পণ্য বা খাবারের পদ বাড়ছে। বর্তমানে ফ্রোজেনসহ ২৫-৩০ ধরনের রেডিমেড খাবার রয়েছে। এর বাইরেও রসনাবিলাসীদের জন্য রয়েছে হাতে তৈরি হালুয়া, পিঠা আর লাড্ডু। কয়েক বছর আগে এসব খাবারের জনপ্রিয়তা এত বেশি না থাকলেও এখন দিনে দিনে বাড়ছে এর কদর।
রাজধানীবাসীর রেডিমেড খাবারের সংস্কৃতি কিন্তু অনেকটাই হাল আমলের। তবে এই সংস্কৃতি আবার একদিনে গড়ে ওঠেনি। ধীরে এবং পর্যায়ক্রমে এই বাজার প্রসারিত হয়েছে। এমনটাই জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক বলেন, কোনো পণ্য বাজারজাত করতে গেলে কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আর সেটা যদি হয় অপ্রচলিত কিছু, তাহলে তো কথাই নেই।
নতুন পণ্য, বিশেষ করে এসব রেডিমেড খাবার বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হয়েছে, কোন জনগোষ্ঠীর কাছে এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে। তবে খাবারগুলো হতে হবে একাধারে সুস্বাদু এবং সময়-সাশ্রয়ী। সে জন্য প্রস্তুত প্রণালিটাও হতে হবে সহজতর।
তথ্য ও ছবি: ইন্টারনেট – নগরে নাগরিক ডেস্ক