বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের কষ্টের জীবন

বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের কষ্টের জীবন

টানা বৃষ্টিপাতে মানবেতর জীবন যাপন করছে মিয়ানমারের বর্বরতা থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। গত দুই দিনে টানা বৃষ্টিতে কাদা আর পানিতে একাকার। গতকাল সোমবার টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

টেকনাফের লেদা লবণের মাঠে পাশে আশ্রয় নেয়া সখিনা বেগম বলেন, ‘সহায় সম্বল ও এক ছেলেকে হারিয়ে এপারে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে এসেছি। এরপর থেকে টেকনাফের লেদা লবণের মাঠে ছাউনি দিয়ে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে কাদামাটিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলাম। দেখুন বৃষ্টিতে দুটো কাপড় ছিল তাও ভিজে গেছে, তাই ছেলে খালি গায়ে আছে। এ পারে আসার পর গত দেড় মাস আগে স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু হয়।’

তিনি বলেন, ‘বড় ছেলেকে সেনাদের হাতে হারানোর পর থেকে স্বামী জাহাঙ্গীর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে টেকনাফে পালিয়ে আসার দেড় মাস আগে তিনি মারা যান। এখন সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি আমি। চার সন্তান নিয়ে কি হবে আমার?’

অন্য একটি তাঁবুতে এক রোহিঙ্গা নারী মাটির চুলায় আগুন জ্বালাতে ব্যস্ত। কী রান্নার প্রস্তুতি চলছে জিজ্ঞেস করতেই মরিয়াম বেগম নামে ওই নারী বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য কিছুই রান্না করা যাচ্ছে না। চুলার নিচে পানি জমে থাকায় সকাল থেকে অনেকবার চেষ্টা করেও আগুন জ্বালাতে পারিনি। ছেলেমেয়েরা না খেয়ে বসে আছে। কিছু বিস্কুট ছিল, তা দিয়েছি। দুপুরেও খাওয়া হয়নি রান্না করতে না পারলে রাতে কী খাওয়াব জানি না।’

টেকনাফ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ‘বৃষ্টি ও গরম আবহাওয়ার কারণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমি প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে থাকে। তার মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার রোগীই বেশি। অধিকাংশ রোগীই শিশু।’ টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আবদুল মতলব বলেন, ‘গত দুই দিন সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এরফলে পাহাড়ের ঢালুতে এবং পাদদেশে থাকা তাঁবুগুলোতে কাদাপানি। তারা রান্নার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। কেউ কেউ তাঁবু থেকে মালপত্র সরিয়ে অন্যত্র রাখায় ব্যস্ত। সামান্য বৃষ্টিতে এই অবস্থা ভারি বৃষ্টিপাত হলে এসব অসহায় মানুষদের কি হবে?’

ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার আগে পাহাড়ে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে তাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্যে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। তা না হলে ভারি বৃষ্টিপাতে বড় ধরনের প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.