বৃষ্টিতে ছন্নহারা বইমেলা

বৃষ্টিতে ছন্নহারা বইমেলা

সকালে বৃষ্টি, সারাদিন মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বিকেলে ফের মুসলধারে বৃষ্টি সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া। এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বন্ধ করে দেয়া হয় বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। মেলাকে ঘিরে মাসজুড়ে লেখক-সাহিত্যিক, প্রকাশক আর বইপ্রেমীরা উজ্জীবিত থাকলেও শেষ সময়ে এসে প্রতিকূল এ পরিস্থিতি হতাশ করে দিয়েছে সবাইকে।

বিকেল ৩টায় যখন মেলার দ্বার খুলে দেয়া হয় তখন ফুরফুরে মেজাজে মেলায় প্রবেশ করতে শুরু করে বইপ্রেমীরা। শেষ সময়কে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেন প্রকাশকরা। কারণ সময়ে যারা মেলায় আসে তারা সবাই আসে বই কিনতে। কেউ অযথা ঘোরাফেরা করে সময় নষ্ট করতে চান না। মেলার বাংলা একাডেমি আর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান দু’পাশেই ছিল উত্সব আমেজ। কিন্তু সে আমেজ আর দীর্ঘস্থায়ী হলো না। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয় টিপটিপ বৃষ্টি। সময়ে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বৃষ্টির প্রভাব। সঙ্গে বইতে শুরু করে ঝড়ো হাওয়া। তখনও বইপ্রেমীরা আশাবাদী ছিলেন বৃষ্টি থামবে। কিনবেন প্রিয় লেখকের বইগুলো। কিন্তু তাদের আশা আর পূর্ণ হলো না। থামতেই চাইল না বৃষ্টি। তখন মেলাজুড়ে হাজারো পাঠকের ভিড়। ঝমঝম বৃষ্টিতে বইপ্রেমীরাও পড়েন মহাবিপাকে। যে যেদিকে পারেন দৌড়ে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে থাকেন। স্টলগুলোতে ঢুকে পড়েন অনেকে। অন্যরা পুলিশ, র্যাবের নিরাপত্তা চৌকিতে ঠাঁই নিতে চেষ্টা করেন। এ সময় অনেক পুলিশ এবং র্যাব সদস্যকে নিজেরা বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে বইপ্রেমী পাঠককে নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। তবে এসবেও সকলকে ঠাঁই দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এ সময় অনেককেই অনিচ্ছা সত্ত্ব্বেও অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে নিরাপদ আশ্রয় বেশ দূরে হওয়ায় অনেক পাঠককে তাই কাক ভেজা হয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়তে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিকূল এ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে মাইকে ঘোষণা দেয়া হলো গতকালো মতো মেলা বন্ধ। তাই বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে মনে কষ্ট নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়ে বইপোকাদের। এর আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবারও বৃষ্টি হয়। তবে সেদিন সকালে বৃষ্টি হলেও বিকেলে কোনো বৃষ্টি হয় আবহাওয়াও ছিলো বেশ ঠাণ্ডা। সারাদিন হিমেল বাতাসের কারণে অনেকেই আসেননি মেলায়।

এদিকে মেলার কাঙ্ক্ষিত শেষ দিনগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া থাকার কারণে বিঘ্নিত হয় কেনা-বেচা। বৃষ্টির কারণে ২৬ এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি মেলায় আসতে পারেননি অনেকে। আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির উপনির্বাচনের কারণেও আবার অনেকে আসতে পারবেন না মেলায়। তাই পাঠকের কথা বিবেচনা করা মেলা আরো ১-২ দিন বাড়ানো দাবি করছেন পাঠক আর প্রকাশকরা। মেলার সময় বড়ানারো প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আবহাওয়ার ভালো থাকলে ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে আজ মেলা বন্ধের সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানো হতে পারে। তবে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে অতিরিক্ত দিন বাড়ানো সম্ভব হবে না।

মেলায় আসা পাঠক টুম্পা দাশ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বলেন, ‘আজ অনেক বই কেনার আশা নিয়ে এসেছিলাম। ইচ্ছে ছিল আজকের পর বাকি যে একদিন থাকবে সেদিন মেলায় আসবো না। কারণ কাল অন্য কাজ আছে। কিন্তু যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তাতে বই আর কেনা হলো না। সেই এক ঘণ্টা আগে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখনো ছাড়ানোর কোনো লক্ষণ নেই। কোনোমতে এই স্টলে একটু দাঁড়িয়েছি। তবুও পুরো শরীর ভিজে গেছে। এ অবস্থায় আর বই কেনা সম্ভব নয়। এখন বাসায় ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গতি নেই।’
ইত্যাদি প্রকাশনার সহ প্রকাশক আদিত্য অন্তর বলেন, ‘আগে থেকে আবহাওয়া সতর্ক বার্তা থাকায় সকলেই প্রস্তুত ছিল। এ কারণে ক্ষতি কম হয়েছে। তবে আজ যে বিক্রি হওয়ার কথা ছিলো সেটি না হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।’

অন্বেষা প্রকাশনের প্রকাশক মো. শাহাদাত্ হোসেন বৃষ্টি সম্পর্কে বলেন, ‘মেলার স্টলগুলো অস্থায়ীভাবে নির্মিত। ফলে এভাবে টানা বৃষ্টি বাদলা হতে থাকলে এসব স্টল কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে? তার পরে আবার হচ্ছে বাতাস। যা আরো বেশি ক্ষতির কারণ হচ্ছে। যদিও আবহাওয়ার পূর্ব সতর্কতা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি টানা লেগে থাকায় পূর্ব সতর্কতাও কাজে দিচ্ছে না।’

এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক সেলিনা শিউলীর গ্রন্থ ‘মোনাজাতউদ্দিন: জনসাংবাদিকতার রূপকার’।

মানবকণ্ঠ/এসএস