মহাসমাবেশে বক্তারা

বিড়ি শিল্পকে অবিলম্বে কুটির শিল্প ঘোষণার দাবি

ভারতে যেখানে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশে বিড়ির উপর দফায় দফায় শুল্ক আরোপ করে এ শিল্পকে ধ্বংসের পায়তারা চলছে বলে দাবি করেন বিড়ি শিল্পের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে বিড়ি শ্রমিকরা পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈষম্যের এসব চিত্র তুলে ধরেন। ‘শুল্কনীতির বৈষম্যে বিড়ি শ্রমিক এবং বিড়ি শিল্প’ সমাবেশটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ।

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিড়ির উপর শুল্ক ১৮ গুণ বেশি। ভারতে যেখানে এক হাজার বিড়িতে শুল্ক মাত্র ১৪ টাকা সেখানে বাংলাদেশে এক হাজার বিড়িতে শুল্ক ২৪৭.৫০ টাকা। এছাড়া ভারতে যেসব কারখানা বছরে ২০ লাখ স্টিকের নিচে বিড়ি তৈরি করে তাদেরকে কোন শুল্ক দিতে হয় না অপরদিকে বাংলাদেশে যে কোন পরিমাণ বিড়ি তৈরীর জন্য শুল্ক দিতে হয়।

বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি আমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সাধারন সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সাধারন সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ফজলুল হক, বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি বিজয় কৃষণ দে, গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, সাধারন সম্পাদক জান্নাত-এ-ফেরদৌসী,বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমকে বাঙ্গালী, যুগ্মসাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হারিক হোসেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাসির বিড়ি, রশিদা বিড়ি, বিউটি বিড়ি, কারিকর বিড়ি, আনছার বিড়ি, বেঙ্গল বিড়ি, আবুল বিড়ি, আকিজ বিড়ি সহ বিভিন্ন বিড়ি কোম্পানীর প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক এই মহাসমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষণা করে নিম্নতম মজুরি ১০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে বিড়ি শ্রমিকেরা। সেইসঙ্গে বিড়ি শিল্প তিন বছরের মধ্যে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সিগারেট শিল্পের ন্যায় আগামি ২০ বছরের প্রকল্পের আওতায় আনার দাবি সমাবেশে তোলা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার দফায় দফায় শুল্ক বাড়িয়ে বিড়ি শিল্প বন্ধ করারা পায়তারা করছে অথচ কোন সরকারি কর্মকর্তা কখনো কোনদিন বিড়ি শ্রমিকের কাছে যায় নি। তারা কত কষ্ট করে দিনযাপন করে সে খোঁজ কেউ নেয়নি। আমরা তো আর কোন কাজ জানি না। কিন্তু বিড়ি শিল্প বন্ধ করা হলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তারা বলেন, দেশকে তামাক মুক্ত করতে হলে শুধু বিড়ি কেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সিগেরেটকেও বন্ধ করতে হবে আগে। তারা কর ফাকি দিয়ে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করছে অথচ অর্থমন্ত্রী ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে গড়ীবের পেটে লাথি দেয়ার চেষ্টা করছে।

মানবকণ্ঠ/আরএ