বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল ফটকের সামনে লেগুনা ও ঘোড়ার গাড়ির স্ট্যান্ড

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল ফটকের সামনে লেগুনা ও ঘোড়ার গাড়ির স্ট্যান্ড

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটক থেকে একটু সামনে গেলেই ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল অবস্থিত। আর ঠিক এর মাঝামাঝি জায়গায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক। কিন্তু দূর থেকে দেখলে বোঝার কোনো কায়দা নেই যে, এটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক। বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ফটক ও ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সামনের জায়গা দখল করে লেগুনা ও ঘোড়ার গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে লেগুনার মালিক ও ঘোড়ার গাড়ির শ্রমিকরা। এতে একদিকে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে আর অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজিয়েট স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, লেগুনা মালিক সমিতির কর্মকর্তারা প্রশাসন ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের প্রতি মাসে ম্যানেজ করেই এই জায়গায় লেগুনা স্ট্যান্ড টিকিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে স্ট্যান্ডের লেগুনার এক-তৃতীয়াংশের মালিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও স্ট্যান্ড তুলে দিতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক আর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের গেটের সামনে সবসময় ৩০ থেকে ৪০টি লেগুনা ও ৮ থেকে ১০টি ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। এখান থেকে সদরঘাট-যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও জুরাইন রুটে প্রতিদিন বাহাদুরশাহ্ পরিবহনের ১০৮টি লেগুনা চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে ৪০টি লেগুনার মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। সে কারণে সবসময় সেখানে ৮ থেকে ১০টি ঘোড়ার গাড়ি অবস্থান করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা দেয়াল ঘেষে গড়ে উঠেছে ৩০ থেকে ৪০টি ছোট ছোট ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন প্রকার খাবারের দোকান। আর ফুটপাতজুড়ে রিকশার গ্যারেজ। যার অধিকাংশ দোকানের মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতারা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ভবনের কাজ চলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এ সুযোগে লেগুনা মালিক সমিতি ফটকের সামনের পুরো জায়গায় স্ট্যান্ড গড়ে তোলে। এর ফলে ফটকটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও ভোগান্তির শিকার হন। এ ছাড়া লেগুনা স্ট্যান্ডের আড়ালে দিন ও রাতে সবসময় মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। মাদকসেবীরা মাদকের অর্থ জোগান দিতে লেগুনা স্ট্যান্ডের আড়ালে সদরঘাট, বাংলাবাজার, ইসলামপুরগামী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা, মোবাইল হাতিয়ে নেন। ৯ ও ১০ আগস্ট লেগুনা স্ট্যান্ডের এ স্থানে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ২টি মামলাও হয়েছে।

এদিকে রাস্তার মধ্যে লেগুনার যাত্রী ওঠানামার কারণে সদরঘাটগামী রাস্তাটি বন্ধ হয়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে জানা যায়, বাহাদুরশাহ, মহানগর ও রাজধানী পরিবহন নামে ৪ রুটের লেগুনা চললেও অনুমতি আছে মাত্র ২টি রুটের। মালিক সমিতির লোকজন স্থানীয় ছাত্রনেতা-প্রভাবশালীদের ও পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্যান্ড টিকিয়ে রেখেছেন। মালিক সমিতি প্রতিদিন প্রতিটি লেগুনা থেকে ৩শ’ টাকা আদায় করেন। এ ছাড়া লেগুনা মালিকদের একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাবেক ছাত্রনেতা হওয়ায় লেগুনা স্ট্যান্ড সরাতে তারা বড় বাধা। বাহাদুরশাহ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রায় ৪ দশক থেকে এ জায়গায় লেগুনা স্ট্যান্ডটি আছে। আগে স্ট্যান্ডটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্ররা চাইলে এ জায়গা থেকে স্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়া হবে। স্ট্যান্ড টিকিয়ে রাখতে বিভিন্নজনকে ম্যানেজ ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজেরা সুখে থাকতে চাইলে সবাইকে ম্যানেজ করতে হয়। তবে লেগুনা মালিক সমিতি কর্তৃক উত্তোলিত চাঁদার বড় অংশ লাইনম্যান ও সুপারভাইজারদের বেতনের জন্য সামান্য পরিমাণ অর্থ মালিকদের সম্মতিক্রমে সবাই দিয়ে থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ চলায় দ্বিতীয় ফটকটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলেই প্রশাসনিকভাবেই অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে লেগুনা স্ট্যান্ডটি সরিয়ে দেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.