বিমানে যাত্রীসেবার মান বাড়ান

আকাশপথে ভ্রমণ এখন বিলাসিতা নয়। বরং সময় এবং ভৌগলিক দূরত্ব কমাতে আকাশপথে ভ্রমণ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের সেবার মান বাড়তে তৎপর। যাত্রী সাধারণকে আকর্ষণ করতে বিভিন্ন বিমান সংস্থাগুলোর রয়েছে নানামুখী প্রচার এবং সেবা। কিন্তু সেই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে আমাদের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ভারতের যোধপুর রাজ্যের মহারাজা আমাদের মুক্তিবাহিনীকে একটি ডাকোটা উড়োজাহাজ দিয়েছিলেন। আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিমান অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবাহিনীর কাছ থেকে সেই একমাত্র উড়োজাহাজটি লাভ করে, যা দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিমানের প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়ে যে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠা, অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে আজ সেই প্রতিষ্ঠানটি ভাবমূর্তি সংকটে। দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকাবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১০ গুন বাড়লেও বাড়েনি সেবার মান। বর্তমানে আমাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির বহরে রয়েছে ১৫টি উড়োজাহাজ। ১৬টি আন্তর্জাতিক ও ৭টি অভ্যন্তরীণ রুটে এ সীমিত সংখ্যক উড়োজাহাজ নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি। আর এ কারণেই প্রতিনিয়ত নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিমানকে। অথচ এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের মাথাব্যথা নেই বলেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যুগের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ এ সংস্থাটিকে কেন্দ্র করে বিমানের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী লুটপাটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, বিমানের জ্বালানি খাতে, ক্যটারিং ও বিমান মেরামতের নামেও চলছে নানা দুর্নীতি আর লুটপাট। প্রতিষ্ঠা লাভের ৪৭ বছরেও বিমান গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বিমানের সিডিউল বিপর্যয়, সময় মতো ফ্লাইট পরিচালনা না করা, যাত্রীদের লাগেজ হারানো, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং খাবারের মান নিয়ে অন্তহীন অভিযোগের পরেও সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা এ বিষয়ে কোনো ধরনের সমাধান করতে পারেননি। এমনকি ৫২টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৫টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও দক্ষ লোকবলের ঘাটতির কারণে কাক্সিক্ষত অবস্থানে যেতে পারেনি সংস্থাটি। তবে সময়সূচি ঠিক রাখা ও সেবার মান বাড়ানো গেলে, বাড়বে বিমানের মুনাফা এমন প্রত্যাশাও বিশেষজ্ঞদের।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের সেবার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিমানের যাত্রীর চাপ বাড়ছে। যাত্রীর বাড়তি চাপ সামাল দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরগুলোর হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি ও অবকাঠামো সুবিধা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ বিমান যাতে যাত্রীদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে সেই লক্ষ্যে আন্তরিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। যার মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবার মান, ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও ক্রান্তিকাল মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।