বিমানের দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স লিমিটেডের দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বিমানমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাত্রীরা বিমানের টিকিট কিনতে গেলে বলা হয় টিকিট নেই। আর প্রায় ফাঁকা উড়োজাহাজ নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্য উড়ে যায় বিমান।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর তেজাগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যে এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্টের খসড়া নিয়ে আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী বিমানের নানা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিসভার সিনিয়র এক সদস্য মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে বিমানের ভেতরকার দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বলেন। তিনি বলেন, সেলসসহ প্রতিটি ম্যানেজার দুনীতিগ্রস্ত। কোনো রুটের টিকিট চেয়ে যাত্রীরা সহজে পান না। বলেন, বুকিং আছে। বিমানের টিকিট না পেয়ে তারা অন্য বেসরকারি দেশি-বিদেশি এয়ার লাইন্সে যান। বিমান ছাড়ার আগে এর ম্যানেজাররা বুকিং বাতিল করেন। আর বিমানকে প্রায় যাত্রীশূন্য অবস্থায় ফ্লাই করতে হচ্ছে। এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিন। যে বিমানের বেতন-ভাতাদি দিয়ে তাদের সংসার চলে সেই বিমানের যাত্রী মোটা অঙ্কের কমিশন খেয়ে অন্য এয়ার লাইন্সে তুলে দেন। এদের ধরেন, ব্যবস্থা নিন।

এদিকে জাতিসংঘের পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বাক্ষরের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাবনা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনকালে ‘ট্রিটি অন দ্য প্রহিবিটেশন অব নিউক্লিয়ার ওপেনস’ প্রস্তাবের খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী অধিবেশন চলাকালে সুবিধাজনক সময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য ‘এয়ার সার্ভিসেস এগ্রিমেন্ট’র খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ২৩ মার্চ থেকে দুই দেশের মধ্যে এক চুক্তির মাধ্যমে বিমান চলাচল শুরু হয়। যা এখনো অব্যাহত আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দুই দেশের সম্মতিতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়। ২০০৬, ২০০৭, ২০১১ সালে চুক্তি সংশোধন করা হয়। ২০১৭ সালের প্রস্তাবিত সংশোধন অনুযায়ী, চুক্তিটি বাংলা ও আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হবে এবং দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বাইরেও অন্য সংস্থাগুলোকে বিমান চলাচলে অনুমতি দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে যে কোনো দেশ চুক্তি বাতিল করতে পারবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, দুই দেশের বিমানমন্ত্রী সংশোধিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

সভায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা ভালো। ১৭টি লক্ষ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনে ভালো করবে। কারণ এ সম্পর্কে পৃথক একটি বই প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। যা অন্য কোনো দেশ করেনি। এ ছাড়া সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি পৃথক দফতর করেছে। যেখানে চিফ কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সভায় কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বারের মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.