বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার ‘হংসবলাকা’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ যুক্ত হয়েছে। শনিবার (১ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করে হংসবলাকা। শনিবার রাতে শাহজালালে অবতরণের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাটিকে।

এ সময় ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দেয়া হয় হংসবলাকাকে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদসহ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শাহজালাল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটিকে স্বাগত জানান। বিমান সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, ‘হংসবলাকা’ নামের এই আকাশযান বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করার কথা ছিল, কিন্তু উড্ডয়নের আগ মুহূর্তে বিমানটির ইঞ্জিনের রিডিংয়ে ভুল ধরেন পাইলট। অতঃপর তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিক বোয়িং কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর বোয়িংয়ের প্রকৌশলীরা প্রায় ৫ ঘণ্টা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইঞ্জিনের রিডিং ত্রুটি মেরামত করে ড্রিমলাইনারকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত করেন। এ কারণে উড়োজাহাজটি ৭ ঘণ্টা বিলম্বে উড্ডয়ন করে। একারণে নির্ধারিত সময় থেকে ৭ ঘণ্টা দেরিতে ড্রিমলাইনারটি দেশে পৌঁছায়।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে সিয়াটলের এভারেটে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ২৯ নভেম্বর সকালে চাবি দিয়ে হংসবলাকার মালিকানা হস্তান্তর করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল এটি বুঝে নেন। এ সময় ছিলেন বোয়িং পরিচালক (ডেলিভারি কন্ট্রাক) জন বর্বার ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া) এহসান রাজপুত।

বিমানের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাছমিন আকতারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার ‘হংসবলাকা’ বুঝে নিতে বিমান পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী পরিচালক ও কর্মকর্তাসহ ৩২ জন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।

চাবি বুঝে নিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় ৩০ নভেম্বর সকালে ফিতা কেটে ড্রিমলাইনার হংসবলাকার যাত্রা শুরু করেন। এর মধ্য দিয়ে বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টিতে।

বিরতিহীনভাবে ১৫ ঘণ্টা বিমান চালিয়ে হংসবালাকা নিয়ে আসেন বিমানের চার পাইলট। তারা হলেন স্মল স্কি, মো. আমিনুল, শোয়েব চৌধুরী ও ফার্স্ট অফিসার আনিতা রহমান। ফ্লাইট পার্সার শবনম কাদিরসহ এতে ছিলেন পাঁচজন কেবিন ক্রু।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ড্রিমলাইনার আকাশে উড়বে। ওইদিন থেকে ২৭১ আসনের ড্রিমলাইনারে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে ৬টি, ঢাকা-দাম্মাম রুটে সপ্তাহে ৪টি এবং ঢাকা-ব্যাংকক রুটে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম। উড়োজাহাজের শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে শেভরন প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রিত হবে ইলেকট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় বিমান ওজনে হালকা। ভ‚মি থেকে বিমানটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান কিনতে দুই দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের চুক্তি করে। এই দশটির মধ্যে বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে ছয়টি উড়োজাহাজ। প্রথম ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ ১৯ আগস্ট দেশে আসে। চারটি ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের নাম পছন্দ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাকি দুটি ড্রিমলাইনারের নাম হলো ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’। এই দুটি উড়োজাহাজ ২০১৯ সালে বিমানবহরে যুক্ত হবে।

মানবকণ্ঠ/এএম