বিপর্যস্ত জনজীবন, বৃষ্টি থাকবে আরো একদিন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঙ্গলবার থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। তৈরি হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকার রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় মানুষ সীমাহীন কষ্টে পড়েছেন। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগর জীবন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে মিরপুর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, তেজগাঁও, ধানমণ্ডি, মালিবাগ ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কর্মস্থল থকে বাসাগামী মানুষরা।

আবহাওয়াবিদ মো. আবুল কালাম মল্লিক মানবকণ্ঠ বলেন, উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি লঘুচাপের সঙ্গে পূবালী বাতাসের সংমিশ্রণের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। আরও দুই দিন এ রকম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়েছে। আজ দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৫৩ মিলিমিটার। এ ছাড়া চট্টগ্রামে হয়েছে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি। আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ঈশ্বরদীতে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পূর্ব/উত্তর-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.