বিধি জানার আগ্রহ নেই সংসদ সদস্যদের

বিধি জানার আগ্রহ নেই সংসদ সদস্যদেরসংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসহ সংসদীয় কার্যক্রমের নানা বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বিভিন্ন গ্রন্থে সমৃদ্ধ দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সংগ্রহশালা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদ লাইব্রেরিতে পা পড়ছে না নতুন সংসদ এমপিদেরও। চলতি সংসদের সদস্য হিসেবে প্রায় অর্ধশত নতুন মুখ এলেও বিধিবিধান না জানা তরুণ এসব এমপির কেউই এইমুখো হচ্ছেন না।

এমপি হওয়াতে যতটুকু আগ্রহ নিয়ে ছুটোছুটি করেছেন এমপির দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে ততোটুকুই অনাগ্রহ তাদের। প্রথমবারের মতো এমপি হয়ে ইতিমধ্যে দু’বার সংসদ লাইব্রেরি ব্যবহার করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ হেলাল এমপির ছেলে শেখ তন্ময়। দুষ্প্রাপ্য বইয়ের এ জগতে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংসদীয় কার্যক্রমের রেকর্ড তালাশ করেন তিনি। এ সময় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি জানতে তিনি একাধিক বইও সংগ্রহ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয় চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি। ইতোমধ্যে শপথ নেয়া ২৯২ জন (বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ৮ জন নির্বাচিত এখনো শপথ নেননি) এমপির মধ্যে সংসদ লাইব্রেরিতে পা পড়েছে মাত্র ২৫ জনের। সংসদীয় রীতিনীতি অনুসরণ ও জানার জন্য অনেকেই বই লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করেছেন সংসদীয় রীতিনীতি অনুসরণ ও জানার জন্য অনেকেই বই লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে দশম সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই একবারের জন্যও যাননি তাদের জন্য করা বিস্তৃত পরিসরের সুসজ্জিত এই গ্রন্থাগারে। আর যারা গিয়েছেন তাদের অনেকেই চলে গেছেন পত্রিকা পড়েই। পরিসংখ্যান বলছে, গত সংসদের অর্ধেক মেয়াদ পর্যন্ত গ্রন্থাগারে গিয়েছিলেন ১১২ জন এমপি। আর একবারের জন্যও যাননি ২৩৮ জন। সংসদের মেয়াদ শেষে এ সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও তা দেড়শ’র কোটা ছাড়ায়নি।

লাইব্রেরিতে দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ২৫ জন সদস্য এ লাইব্রেরি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে একজন মন্ত্রীও রয়েছেন। তরুণ অনেক এমপি এ সংসদে থাকলেও শেখ তন্ময় ছাড়া অন্য কারো লাইব্রেরি ব্যবহারে আগ্রহ দেখা যায়নি। তারা বলছেন, সংসদের যাত্রার শুরু হয়েছে মাত্র। কিন্তু সময়ের অভাবে তারা সমৃদ্ধ ওই লাইব্রেরিতে যেতে পারেননি।

বিদায়ী সংসদের মন্ত্রী ছিলেন এমন কয়েকজনকে এখানে এসে বই সংগ্রহ ও লাইব্রেরি ব্যবহার করেছেন বলে তথ্য মিলেছে। তাদের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম রয়েছেন। আর সাবেক সংসদের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, শিক্ষা উপমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী ও শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু রয়েছেন। আর নিয়মিত লাইব্রেরি ব্যবহার করা এমপিদের মধ্যে আবদুল মজিদ খান, রুস্তুম আলী ফরাজী, পঞ্চানন বিশ্বাস, ইসরাফিল আলম, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও হাবিবে মিল্লাত।

এ ছাড়া সংসদ লাইব্রেরিতে ইতোমধ্যে যারা এসেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- অসীম কুমার উকিল, বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন, শাজাহান খান, আলী আশরাফ, মুনছুর রহমান, জহেরুল ইসলাম, এমএ মতিন, শাহেদুজ্জামান, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, শাহে আলম, এনামুল হক, রণজিত কুমার বর্মণ, আহসানুল ইসলাম টিটু ও মইন উদ্দীন খান বাদল।

লাইব্রেরির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল, আইন, অধ্যাদেশ, ঘোষণা, সামরিক বিধি, সরকারি গেজেট, সংসদের বিতর্ক, অ্যাটলাস, মানচিত্র, গবেষণাপত্র, আউট অব প্রিন্ট বহু দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থসহ এ লাইব্রেরির বইসংখ্যা ৮৬ হাজারের অধিক। এখনো পর্যন্ত যারা এখানে এসেছেন তাদের বেশির ভাগই সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং পত্রিকায় প্রকাশিত আলোচিত খবরের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন এসব আইন প্রণেতারা বলে তারা জানান। বলেন, বিভিন্ন ডিবেট সম্পর্কে অবহিত হতে চেয়েছেন কেউ কেউ। যেসব তথ্য তারা জানতে চান সেগুলোর কিছু ফটোকপি করে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া কিছু তথ্য গুগলে সার্চ দিয়ে এমপিদের চাহিদা পূরণ করেন বলে জানান।

লাইব্রেরি ব্যবহারের নিয়মনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এক কর্মকর্তা বলেন, লাইব্রেরি ব্যবহারের কয়েক ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে রানিং এমপিরা লাইব্রেরি ব্যবহারের পাশাপাশি বই ইস্যু করে বাসায় নিয়ে চর্চা করতে পারেন। আর পুরনো এমপিরা শুধু লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারলেও কোনো বই এখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারেন না। আর সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বই ইস্যু করে নিতে পারলেও তা দ্রুতই জমা দিতে হয়। এর বাইরে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে কোনো গবেষণার কাজে এই লাইব্রেরি কেউ ব্যবহার করতে ইচ্ছুক হলে লিখিতভাবে জানালে কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে তারা লাইব্রেরি ব্যবহার করলেও কোনো গ্রন্থ সঙ্গে নিতে পারেন না।

সংসদ লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ডেপুুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এ বিষয়ে বলেন, নিজেকে জানার পাশাপাশি সংসদীয় রীতিনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণার জন্য লাইব্রেরি ওয়ার্ক করার বিকল্প নেই। কারণ আমাদের সংসদ লাইব্রেরিটি অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দক্ষ। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে নবীন-প্রবীণ কয়েকজন এমপি লাইব্রেরি ব্যবহার করেছেন এবং করছেন। আশা করি ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বাড়বে।

মানবকণ্ঠ/এএম