বিজয় নিশ্চিতে প্রতিকূলতার সঙ্গেও লড়াই করবে ঐক্যফ্রন্ট

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বিজয় নিশ্চিত করতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট লড়াই করে যাবে নির্বাচনী মাঠে। নির্যাতন, বাধা আর ধরপাকড় করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তারা বলছেন, ক্ষমতাসীন সরকার ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে মানুষের জনস্রোত দেখে তাদের দমিয়ে রাখতে প্রচারণায় হামলা, পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে।

এদিকে প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই রাজধানী ছেয়ে গেছে মহাজোটের পোস্টারে। দু’একটি এলাকা ছাড়া কোথায় চোখে পড়ে নাই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনী পোস্টার। ঐক্যফন্ট নেতারা দাবি করছেন, পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়া হচ্ছে, আর লাগানো হলেও তা ছিঁড়ে ফেলছে সরকারদলীয় লোকজন। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। রাজধানীসহ সারাদেশে কোনো প্রার্থী গ্রেফতার আতঙ্কে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ভয়ে উদ্বেগ আর নানা উৎকণ্ঠা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন।

অপরদিকের জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিএনপির সাবেক এমপি এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রার্থিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শত বাধা বিপত্তি-গ্রেফতার ও হামলা উপেক্ষা করে চারদিকে ধানের শীষের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে থামিয়ে দিতেই পুলিশ এ অভিযানের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার জন্য যা যা করার দরকার আওয়ামী লীগ তাই করবে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন বানচালও করে দিতে পারে তারা। সে কারণে আমরা গতকাল দলের পক্ষ থেকে আজকেই সেনা মোতায়েনের দাবি করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবির ঘণ্টাখানেক পরই তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের দিনের পাঁচ দিন আগে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিল ইসি। তবে আমরা সব বাধা অতিক্রম করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটের লড়াই করে যাব।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের পুলিশ বাহিনী চিরুনি অভিযানের পরিকল্পনা করেছে। সারাদেশে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ। এই অবৈধ সরকার আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে হামলা ও গ্রেফতার বাড়িয়ে দিয়েছে।

রিজভী আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং আওয়ামী হানাদারদের কবল থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে- আইজিপি সব ডিআইজি ও এসপিদের ঢাকায় তলব করেছেন আজ। পুলিশ বিএনপির আড়াই লাখ নেতাকর্মীর একটি তালিকা করেছে।

অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন থেকেই ঢাকার বাইরের আসনগুলোয় জোরেশোরে গণসংযোগ শুরু করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ব্যাপক শোডাউনও চলছে। কিন্তু রাজধানীর চিত্র ঠিক ভিন্ন। কয়েকটি আসন ছাড়া অধিকাংশ জায়গায় বিএনপির প্রার্থীরা গণসংযোগে নামেননি। প্রার্থীরা অবশ্য দাবি করছেন, গ্রেফতার, হামলা-মামলার কারণে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব আসনের প্রার্থীরা এখনো মাঠে নামেননি তারা হলেন ঢাকা-৫ আসনের নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৭ আসনের মোস্তফা মহসিন মন্টু, ঢাকা-১০ আসনের আবদুল মান্নান, ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৫ আসনের ডা. সফিকুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনের আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা-১৭ আসনের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। জেলার মধ্যে ঢাকা-১৯ আসনের ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিন ও ঢাকা-২০ আসনের তমিজউদ্দিন আহমদ এখন পর্যন্ত গণসংযোগ শুরু করেননি।

ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আদালতের মাধ্যমে জামিন নিয়ে তিনি দ্রুতই গণসংযোগে অংশ নেবেন। তিনি প্রচারে অংশ না নিলেও তার স্ত্রী ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারকাজ চালাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় রাজধানীর উত্তরখানের শাহ কবির মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন স্বপন। তার সঙ্গে ছিলেন ঐক্যফ্রণ্টের শীর্ষনেতা আ স ম রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে পুলিশ তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়ার আংশিক) নির্বাচনী এলাকা সাঁথিয়া বাজারে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী (গণফোরাম) আবু সাইয়িদের নির্বাচনী প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওইদিন দুপুরে ল²ীপুর-১ রামগঞ্জ আসনের ২০ দলীয় জোট প্রার্থী শাহদাত হোসেন সেলিমের করপাড়ার বাড়িতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ার হোসেন খাঁনের সমর্থকরা। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল, সভা মঞ্চের চেয়ারটেবিল ও বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানার ৭টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গাজীপুরের ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ জানান, ফজলুল হক মিলন সব মামলায় জামিনে ছিলেন। তার পরও এলাকায় না আসতে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। কয়েকদিন আগে তার ঢাকার বাসায় রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। বাসায় না থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

তিনি জানান, গ্রেফতার আতঙ্কে তিনি এতদিন এলাকায় আসেননি। সকাল ১০টার দিকে ফজলুল হক মিলন গ্রামের বাড়িতে আসলে বেলা আড়াইটার দিকে তাকে গাজীপুর ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ