বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনুন

একটি সভ্য সমাজে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়া খুব জরুরি। যে কোনো সমাজে অপরাধ সংঘটন খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ যে সব অভ্যন্তরীণ ক্রিয়ার সমন্বয়ে মানুষের মনন তৈরি এর মধ্যে অপরাধ প্রবৃত্তি অন্যতম। এই প্রবৃত্তিকে সবাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ ছাড়া পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি একজন মানুষকে অপরাধী করে তুলতে পারে। তবে যে কারণেই অপরাধ ঘটুক না কেন, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ অপরাধীর বিচার না হলে নানা অরাজকতায় দেশ ও সমাজ ছেয়ে যাবে এবং তা কারো জন্যই সুখকর হবে না। বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার একটি দেশ। দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকায় নানা অসংগতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের অভাব, পারিবারিক, সামাজিক অশান্তি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নীতিহীনতা, অন্যায় হস্তক্ষেপ, আয়ের চেয়ে ব্যয়ভার বেশি হওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে নিত্য অপরাধ ঘটছেই। ফলে সংগত কারণেই মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে। কারণ একজন নাগরিকের বিচার পাওয়া নাগরিক অধিকার। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদে সারাদেশের আদালতে মামলার জট বাড়ছে, কারণ বিচার সম্পন্ন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যে বিচারক এর সংকট রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ১০ লাখ মানুষের জন্য বিচারক রয়েছেন মাত্র ১০ জন। স্বাভাবিকভাবেই এত অল্পসংখ্যক বিচারক দ্বারা এত বিপুল সংখ্যক মানুষের বিচার যথাসময়ে নিশ্চিত করা শুধু কঠিনই না, বলা যায় অসম্ভবও।
বিচারক স্বল্পতার কারণে মামলার জট কমানো যাচ্ছে না এটি যেমন বাস্তবতা তেমনি আপস মীমাংসার মাধ্যমেও যে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব তাও আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে সচেতনতার অভাব ও আপস মনোভাব না থাকার কারণে। এছাড়া সমাজে যে বা যারা আর্থিক বা লোকবলের দিক থেকে একটু দুর্বল তারা প্রভাবশালী বা ক্ষমতাশালীদের দ্বারা নানা ধরনের মামলার শিকার হচ্ছেন। জমিজমা সংক্রান্তও নানা জটিলতার জট খুলতেও মানুষকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। অথচ এইসব সমস্যা স্থানীয়ভাবেই জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও শত্রুতামূলক মামলার সংখ্যাও বাড়ছে। তথ্যানুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৪১৫টি মামলার বিচার চলছে। সারাদেশের নি¤œ আদালতে ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে-এই বিপুল সংখ্যক মামলা জট কমাতে হলে দক্ষ বিচারক বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাব্য আরো বিকল্প উপায়ও বের করতে হবে।
মামলার জট কমাতে বিচারকের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। সময়টা এখন প্রযুক্তির। তাই বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে। সনাতনী পদ্ধতিতে বিচার প্রক্রিয়াও বিচারিক প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আরেকটি কারণ। আপস মীমাংসার আইনগত বিধানকে বাধ্যতামূলক করে তা কার্যকর করতে হবে। এছাড়া যে সব কারণে সমাজে অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে এর কারণ অনুসন্ধান করে সমাধানের চেষ্টা করলে তাও ফলপ্রসূ হবে।