বিক্ষোভকারীদের ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষমা চাইলো দ. কোরিয়া

৩৮ বছর আগের এক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষমা চাইলো দক্ষিণ কোরিয়া। যৌন নিপীড়নের ওইসব ঘটনাকে ‘অবর্ণনীয় কষ্টের’ অভিজ্ঞতা আখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাইলের সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তবে একে যথেষ্ট বলে মানতে নারাজ ধর্ষণের শিকার নারীরা। দায়ী সেনা সদস্যদের যথাযথ শাস্তির দাবি তুলেছেন তারা। খবর বিবিসি’র

১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় জেনারেল চুন ডু হুয়ানের সামরিক অভ্যুত্থানের পরের বছর সামরিক শাসন বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গুয়াংজু। ওই বিক্ষোভ দমনে পাঠানো হয় সেনাবাহিনী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভিযানের পর তখন কমপক্ষে দুইশো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় ওই ঘটনায় প্রায় ১৭ জন নারী ধর্ষণের স্বীকার হয়েছিল। ধর্ষণের ভুক্তভোগীদের মধ্যে কিশোরী এবং গর্ভবতী নারীও ছিল । বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিয়ং কিয়ং ডুয়ো জানান, তদন্তে দেখা গেছে সেনা সদস্যরা ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে নত হয়ে অবর্ণনীয়, গভীর ক্ষতচিহ্ন ও কষ্ট বয়ে বেড়ানো নিরীহদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

ওই সময়ে যৌন নির্যাতনের সন্দেহ করা হলেও ইস্যুটি এতদিন আড়ালে ছিল। ২০১৭ সালে উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন ক্ষমতাসীন হয়েই গুয়াংজুর নৃশংসতা তদন্ত পুনরায় শুরুর কথা বলেন। নিপীড়নের শিকারদের মধ্যে গর্ভবর্তী নারী ও মেয়ে শিশুরাও ছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইয়নও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘অযথা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নারীদের জীবন পদদলিত করা হয়েছে… আমি অসম্ভব কষ্ট পাচ্ছি’।

গত মে মাসে কিম জাং সুক নামের এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আনার পরই যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ধর্ষণের শিকার কিম জাং সুক জানিয়েছেন, তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনাতে সন্তুষ্ট নন। সুক বলেছেন, ‘দায়ী সেনাসদস্যদের যথাযথ শাস্তি না দিয়ে এমন করে লাখ লাখ বার ক্ষমা চাওয়া হলেও তা অর্থহীন।

১৯৮০ সালের মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা সামরিক আইন জারি করেন। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয় গনতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ। বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর গুয়াংজু। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর বল প্রয়োগ শুরু করলে দিন দিন বাড়তে থাকে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা। লাখ লাখ সাধারণ মানুষ যোগ দিতে থাকে ওই বিক্ষোভে। গণজোয়ার ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় আধাসামরিক বাহিনী।

মানবকণ্ঠ/এআর

Leave a Reply

Your email address will not be published.