‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতার চাবিকাঠি পেলে রক্তগঙ্গা বইবে’

‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতার চাবিকাঠি পেলে রক্তগঙ্গা বইবে’বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিরা একবার ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে পেলে সবকিছু থেমে যাবে, উল্টে যাবে। রক্তগঙ্গা বহাবে তারা। তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। থেমে নেই ওহাবীবাদী-মওদুদীবাদীদের ষড়যন্ত্র। যা কিছু বাঙালির, যা কিছু বাঙলার তার বিরুদ্ধেই তাদের জেহাদ। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।

মেনন বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় এক দশকের ক্ষমতার সাফল্যগাথা বর্ণনা করেছেন। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে সাধারণ জনগণের কঠোর পরিশ্রম, কৃষক-শ্রমিক-নারী, মাঝারি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম, তার ২০২১ সালের দিকদর্শন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। সম্ভব হয়েছে ১৪ দলের জোট, মহাজোটের ঐক্যের কারণে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এদেশের মানুষের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। উন্নয়নের প্রয়োজনে, বাংলাদেশের শান্তি-সমৃদ্ধির প্রয়োজনেই তাকে ও তার সরকারকে ক্ষমতায় ফিরে আসতে হবে। এর জন্য জোটের ঐক্য, দলের ঐক্য, জনগণের ঐক্য দৃঢ় করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হবে। তার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ২০০৮ ও ২০১৪’র জোটবদ্ধ নির্বাচনে বিজয় এসেছে। এবারও আসবে। তার জন্য সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই।

মন্ত্রী এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, এখন প্রয়োজন একাত্তরের মত, আশির দশকের মত, ২০০৪ সাল থেকে গড়ে ওঠা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নের শক্তির অটুট ঐক্য। ভোটের হিসাব কষতে গিয়ে হেফাজতকে তোষণ, কারিকুলাম পাল্টে দেয়া, ভাষ্কর্য অপসারণ, সংসদের কিছু আসন দিয়ে খুশি করা- এসবই হবে নির্বুদ্ধিতা। সাপ খোলস বদলায়, কিন্তু দাঁতের বিষ ঠিকই থাকে।

মেনন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। গর্জন করবে, বর্ষাতে পারবে না। এতিমের টাকা কেবল নয়, আরও অন্যসব অপরাধের কারণেও বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন দূরে থাক, বিএনপির আহ্বানে কোনো আন্দোলনেই জনগণ মাঠে নামবে না। তাই বলে আমাদের নিজের অন্যায়গুলোর বিষয়ে আমরা যেন চোখ বুজে না থাকি। বাড়ি-জমি-প্রতিষ্ঠান দখল, মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, ঘুষ , দুর্নীতি মানুষকে ত্যক্তবিরক্ত করে ফেলেছে। অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ আমলা, অসৎ রাজনীতিবিদের চক্র সব জায়গায় তৎপর। সুবচন ক্রমাগত নির্বাসনে। উন্নয়ন যেমন জনগণকে আস্থাশীল করে, তেমনি এ ধরনের আচরণ মানুষকে দূর সরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রীও এই হুশিয়ারি জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদের পর মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। বন্দুকযুদ্ধ এর সমাধান নয়। প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধের। প্রয়োজন গডফাদারদের বিচারের আওতায় এনে তাদের মৃত্যুদ-দান করা। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। দেশের তারুণ্যকে রক্ষা করতে মাদক নির্মূল করতেই হবে। নির্মূল করতে হবে দুর্নীতি। চুনোপুঁটিতে থামলে চলবে না, রাঘব বোয়ালদের জালে আটকাতে হবে। তাদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানের পর এবার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নির্দেশ দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, ২০১০ সালের পর প্রতিবছরই বাজেট বড় লোকদের দিকে হেলে পড়েছে। এবার আরও বেশি। তাদের জন্য বড় বড় ছাড় দেয়া হয়েছে। গরিব-মধ্যবিত্তের সঞ্চয়কে টান দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। বাজেটে সবচেয়ে সুবিধা পেয়েছেন ব্যাংক মালিকরা। অথচ এই ব্যাংক সেক্টরে চলছে অবাধ লুটপাট, ঋণখেলাপ ও অর্থ পাচারের মহোৎসব। আর এই লুটপটের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারি চাকরির বয়স ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর করার প্রস্তাব করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ