বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয় না

একটি কার্যকর বিরোধী দল ছাড়াও যে গণতন্ত্র চলতে পারে, ২০৪১ সাল পর্যন্ত চলতে পারে এমনকি অনন্তকাল ধরে চলতে পারে এমন মত আমজনতার পক্ষ থেকে দেয়া হলে সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিচার বোধের ব্যাপার বলে ছেড়ে দেয়া যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এমন মন্তব্য বা এর চেয়েও পক্ষপাতসম্পন্ন মন্তব্য এমন সব বুদ্ধিজীবীর পক্ষ থেকে আসে যারা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের বিবেক হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছেন।

বাংলাদেশের বিবেক হিসেবে পরিচিত এইসব বুদ্ধিজীবীর কাছে প্রশ্ন, কেবল ক্ষমতায় থাকাই কি চূড়ান্ত সাফল্য? কোনো সামরিক ছাউনি থেকে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়নি, একেবারে তৃণমূল, জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা জনগণের-ই দল বলে আওয়ামী লীগের যে মাহাত্ম্য, একটি হাস্যকর বিরোধী দল নিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকা কি সেই মাহাত্ম্যকে ক্ষুন্ন করে না? যদি সত্যি-ই এসব বুদ্ধিজীবী নিঃস্বার্থভাবে আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন বলে দাবি করেন তাহলে তাদের উচিত যা নিয়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের গৌরব তাকে ক্ষুন্ন হতে না দেয়া। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নকল করে জিপিএ পাঁচ পাওয়া আর সত্যিকার পড়াশোনা করে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া দুইয়ের মধ্যে তফাৎ তো আছে। প্রথম ক্যাটাগরির পরীক্ষার্থীর গ্লানি এক জীবনে কাটার নয়। সংসদে সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আর সরাসরি নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদের মর্যাদা কি এক? কাগজে কলমে মর্যাদা যদি একও হয়, জনগণের মনে এক নয়।

জনগণের প্রকৃত ভোটে প্রকৃতই নির্বাচিত সরকার আর ‘আসসালামালাইকুম, জাতির সেবার জন্য এসে গেছি’ সরকারের মর্যাদা কি এক? নিশ্চয়ই নয়। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী নেতারা এই বলে গরিমা প্রকাশ করে এসেছেন যে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে পর্যন্ত এই গরিমা আওয়ামী লীগের মানাত। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিগত চার বছর আওয়ামী লীগ যেভাবে ক্ষমতায় আছে তাতে তাদের এই গৌরব ক্ষুন্ন হয়েছে।

আওয়ামী লীগের গায়ে পাকাপোক্তভাবে কলঙ্কের সিল পড়ে যাবে যদি আবারো ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে চান। বিএনপির জন্মকালীন কলঙ্ক, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ পাস, ৭৭ এর হ্যাঁ-না ভোট বিএনপির গায়ে চিরকালের মতো কলঙ্কের তকমা এঁটে রেখেছে। যে কলঙ্কের তকমা থেকে থেকেই আওয়ামী লীগ স্মরণ করিয়ে দেয়। এও স্মরণ করিয়ে দেয় বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগ কত বড় গণতান্ত্রিক দল। জাতি জানত ক্ষমতাসীন থাকার জন্য জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি হেন কোনো কাজ নাই যা করতে পারে না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগও সেই কাতারে যুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থকরা যতই চেষ্টা করুন আর যত যুক্তিই দেখান, যতই সংবিধানের দোহাই দেন না কেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কলঙ্ক আমৃত্যু বয়ে বেড়াতে হবে আওয়ামী লীগকে। বশংবদ বুদ্ধিজীবী এবং অন্ধ আওয়ামী সমর্থকরা বর্তমান বিরোধী দলকে শিক্ষিত মার্জিত রুচিশীল কার্যকর বিরোধী দল বলে যত বেশি প্রচারণা চালান, যত তাদের অদ্ভুত ফরম্যাট গোপন করার চেষ্টা করুন না কেন স্বয়ং বিরোধী দলের আক্ষেপ আফসোসের মধ্যে তা প্রকাশ হয়েই যায়। হাস্যকর এই বিরোধী দল নিয়ে বশংবদ বুদ্ধিজীবীদের গ্লানি না থাক স্বয়ং বিরোধী দলের নেতারই আছে। যদিও গত চার বছর ধরে এই দম্পতি কলঙ্ক ও গ্লানিযুক্ত বিরোধী দল এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে প্রাপ্ত শান-শওকত, গাড়ি বাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ ভোগ করে আসছেন। সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে বিরোধী দলের মাননীয় নেতার মনে তীব্র আক্ষেপ আফসোস জš§ হয়েছে। সংসদের শেষ অধিবেশনে তিনি প্রশ্ন করেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা কি সরকারি দল নাকি বিরোধী দল? বিদেশে গেলে বলতে পারি না। আপনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে বললে জাতীয় পার্টি বেঁচে যেত। সম্মানের সঙ্গে থাকতে পারত। আমরা সম্মানের সঙ্গে নাই।
দুই
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল। বাংলাদেশের অন্যতম, প্রধানতম রাজনৈতিক দল, দেশজুড়ে যে দলের ছড়িয়ে রয়েছে কোটি কোটি ভক্ত অনুরাগী। এই ভক্ত অনুরাগীরা আওয়ামী লীগকে অনন্তকাল ধরে ক্ষমতায় দেখতে আগ্রহী থাকতে পারে। তাতেও কোনো দোষ নেই। কিন্তু দলের যতবড় ভক্ত অনুরাগীই হোন, দলের প্রতি যত অন্ধ পক্ষপাত থাক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন দেখতে চাওয়া অন্যায়। এভাবে ক্ষমতাসীন থাকা কোনো দিক থেকেই আওয়ামী লীগের জন্য মঙ্গলজনক নয়। যারা তা চান তারা আওয়ামী লীগকে টেনে নিচে নামান। এভাবে ক্ষমতাসীন থাকার মধ্যে কোনো গৌরব নেই। এটা কেবল আওয়ামী লীগের জন্য নয় যে কোনো দলের জন্য ওই একই শর্ত এবং সত্য প্রযোজ্য। নির্বাচন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক। কিন্তু দুঃখজনক যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবির মতো একটি ন্যায্য দাবি উত্থাপনের পেছনেও ‘বিখ্যাত বুদ্ধিজীবীরা’ দুরভিসন্ধি খুঁজে পাচ্ছেন। যারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলছেন তারা নাকি ইনিয়ে বিনিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দাবির কথা বলছেন। কথা হলো এটা ইনিয়ে বিনিয়ে বলার তো কিছু নেই। বিএনপি না আসলে যে নির্বাচন ইনক্লুসিভ হয় না এই সত্য দল অন্ধ ছাড়া প্রত্যেকেই বোঝে। যদি আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বিএনপি এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা ভাবনা করত তাহলে সেটাও কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতো না। মোদ্দা কথা আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয় না। যদি কেউ তা করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে একে সাংবিধানিকভাবে বৈধ নির্বাচন বলেন তাতে কাগজের সংবিধান রক্ষা পায় বটে তবে গণতন্ত্রের মূল স্পিরিট ধ্বংস হয়ে যায়। দেশের অন্তত ত্রিশ ভাগ এবং সেই সঙ্গে ফ্লোটিং ভোটার অন্তত আরো বিশ ভাগের ভোটের অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো নির্বাচন হলে তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে তা বুঝতে পারি না। কাউকে কাউকে বলতে শুনি বিএনপি নির্বাচনে আসলো কি আসলো না তার ওপর নাকি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের কোনোকিছু নির্ভর করে না। নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নাকি কেবল দেখবার বিষয় ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারল কিনা। কিন্তু কোন ভোটারদের ভোট নির্বিঘœ করার জন্য এ আয়োজন? শুধু আওয়ামী লীগের ভোটার এবং তাদের পাতানো প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ভোটারদের? দেশের অন্তত পঞ্চাশ ভাগ মানুষকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে যে নির্বাচন তা কীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে দল অন্ধরা ইউরোপ আমেরিকার উদাহরণ টেনে দেখান সেখানে নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট প্রয়োগ হয়। পরিসংখ্যানও হাজির করেন। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই, ইউরোপ আমেরিকার নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ ভোট কাস্ট হয় তাতেও বাংলাদেশের পাঁচ শতাংশ ভোট কাস্টিংকে জায়েয করা যায় না। বাংলাদেশে যেমন নির্বাচনকে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ইউরোপ আমেরিকায় মোটেই তা নয়। ওইসব মহাদেশের নাগরিকদের জীবন মান বহু আগেই বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন মান অতিক্রম করে গেছে। সেখানকার সমাজের টেক্সচার আর বাংলাদেশের মানুষের টেক্সচার একেবারেই বিপরীত। বাংলাদেশের একটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের যে উৎসাহ ও উৎসবমুখরতা লক্ষ করা যায় তা বিশ্বে আর অন্য কোনো দেশে আছে বলে জানা নেই। নির্বাচনকে উপলক্ষ করে এখানকার এলাকাভিত্তিক একেকটি চায়ের দোকানও রূপান্তরিত হয় নির্বাচনী বুথে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের এই উদ্দীপনা উৎসাহ উৎসব বিশ্বের আর কোনো দেশে খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণের জীবন এখনো পর্যন্ত ব্যক্তিসর্বস্ব হয়ে ওঠেনি। ব্যক্তি এখনো সমাজের সঙ্গে যেভাবে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইউরোপ আমেরিকায় সেটা কল্পনা করা যায় না। সেখানে তো বাবা-মাও সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে এ্যাপয়েন্টমেন্ট করেন, বাংলাদেশের সমাজে কি তাই? ইউরোপ গণতন্ত্রের জš§দাতা। গণতন্ত্রের বিকাশও সেখানে। তা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের জন্য ইউরোপ মানসের সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানসের চেতনাকেও মিলিয়ে ফেলা যাবে না। একটি সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জš§। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হয়েছে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে। অথচ এখন বলা হচ্ছে গণতন্ত্র একটু কম হলেও চলবে যদি দেশের উন্নয়ন হয়। কম গণতন্ত্র এবং বেশি উন্নয়নের এই তরিকাও এই ভূখণ্ডের মানুষের কাছে নতুন নয়। আইয়ুব খানের আমলে জনগণ তা দেখেছে। ‘কম গণতন্ত্র বেশি উন্নয়নের’ পক্ষে বশংবদ বুদ্ধিজীবীরা কীভাবে সাফাই গান তাও বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। আইয়ুব খান, অতদূর পর্যন্ত না যাই। আরেকটু নিকটবর্তী সময়ে আসি। উন্নয়নের নেতা এরশাদের দিকে তাকাই। বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মিটিং মিছিল সমাবেশ করার স্বাধীনতা হরণ করে তিনি একাই রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।

টেলিভিশনের সুইচ অন করলেই দেখা যেত এরশাদ-রওশন এরশাদ এবং একদল অনুগত মন্ত্রীর চেহারা। এনারা ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন বাকিদের জন্য কতটুকু সময় বরাদ্দ রেখেছিল জানি না। তবে সে সময় টেলিভিশনের সুইচ অন করে অন্য আর কারো চেহারা দেখা গেলে তা ছিল দুর্লভ অভিজ্ঞতা টেলিভিশনের শতভাগ সময় দখল করেও খায়েশ মিটছিল না। সব জাতীয় দৈনিক এবং সাপ্তাহিকের প্রথম পাতায় কবিতা ছাপা হওয়ার খাইও ছিল। নানা প্রলোভন দেখিয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের কবিদের বাগে আনতে না পেরে নিজেই প্রতিষ্ঠা করলেন এশীয় কবিতা উৎসব নামের এক অদ্ভুত জিনিস। ভাবার কোনো কারণ নেই যে সেখানে কেবল হেজিপেজি কবিরাই যোগ দিয়েছিলেন। আল মাহমুদ, সৈয়দ আলী আহসান এবং ‘প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য’র বিখ্যাত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ও যোগ দিয়েছিলেন এতে। বুদ্ধিমান বুদ্ধিজীবীরা সময় বিশেষে কতখানি চাটুকর এবং তোষামোদকারী হয়ে উঠতে পারেন এটি তার একটি দৃষ্টান্ত।

কোনো দল দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জবিহীন পরিবেশে থেকে যখন এককভাবে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে তখন তাদের চারদিকে বশংবদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের রেকর্ড খুব ভালো নয়। একটি প্লটের জন্য, একটি টেলিভিশন লাইসেন্সের জন্য, ব্যাংক-বীমা-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়ার জন্য, বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ কমিশনের ভিত্তিতে আদায় করে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের বিশেষ পারঙ্গমতা আছে। পরিবর্তে সরকারের যে কোনো অনৈতিক কাজকে সমর্থন করে দু’কলম লিখে দিতে হবে অথবা টক শোতে এসে জনগণকে দশ মিনিটের নসিহত দিতে হবে।
তিন
যে সহিংসতার আশঙ্কা থেকে বিএনপিকে সভা সমাবেশ করতে দেয়া হয় না এখন তো দেখছি সেই আশঙ্কা আওয়ামী লীগকে ঘিরে। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ যে ক’টি সভা সমাবেশ করেছে তার কোনটিতে গোলমাল হয়নি? ৭ মার্চের জনসভায় বিএনপির নেতাকর্মীরা যোগ দিতে যাচ্ছিলেন এমন ভাবার তো কারণ নাই। যারা সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তারা আওয়ামী লীগ অথবা তাদের অঙ্গ সংগঠনেরই কেউ না কেউ। এদের হাতে যে মেয়েরা লাঞ্ছিত হয়েছে ভাগ্যিস তাদের স্টিল ফটোগ্রাফি আওয়ামী লীগ বা পুলিশ বাহিনীর অস্বীকারের আগেই ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল সারাদেশে। নয়তো কখনো জানা হতো না মহোৎসবে যোগদানের আগে পথে পথে তারা আরো কত ‘উৎসব’ আয়োজন করে গেল। এই ঘটনা যদি বিএনপির কোনো সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটত তাহলে আমৃত্যু বিএনপির সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ হয়ে যেত। বশংবদ মিডিয়াও এ নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলত নানান ফিলার। ঘটনাটি আওয়ামী লীগের তাই বশংবদ মিডিয়াও নীরব। এখন ওবায়দুল কাদেরের মতো অনুগত মিডিয়াও যদি এদের দায় নিতে অস্বীকার করে তাহলেও প্রশ্ন থাকে এরা ছাত্রলীগের নয় বলেই কি দায় নিচ্ছেন না? এরা কারা তবে? ভাড়াটে কেউ? এও কি সম্ভব? আওয়ামী লীগের জনসভায় কি ভাড়াটিয়ার দরকার পড়ে? নাকি এখন এসব ভাড়াটিয়াকে দিয়েই স্মরণকালের সব মহাসমাবেশ হচ্ছে?

বাংলাদেশে ছাত্রলীগের যেখানে যত সংগঠন আছে একটি সংগঠন খুঁজে পাওয়া যাবে না যা দল-উপদল-কোন্দলে বহুধাবিভক্ত নয়। কখনো নিজ দলের কর্মীদের হত্যা করে, কখনো আহত করে, কখনো নিজেদের মধ্যে মারামারি করে তারা তাদের দলীয় কোন্দল জানান দেয়। ছাত্রলীগের জনসভাস্থল স্থানীয়দের জন্য আতঙ্ক। সম্প্রতি লালদীঘির ময়দানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণ সভায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি করেও তারা তাদের দম্ভ জানান দিয়েছে। কিন্তু পুলিশের কাছে এসব কোনো আতঙ্কের বিষয় নয়। উল্টো পুলিশ বিশেষ প্রহরার মাধ্যমে তাদের জনসভা করতে সাহায্য করে। আর বিএনপির শেষ জনসভায় কীভাবে মির্জা ফখরুলকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে পুলিশ, পত্রিকায় তার ছবি দেখা গেছে। একজন কর্মীকে বিবস্ত্র করার ছবিও ছাপা হয়েছে। তিনি নাকি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কে নয় তা বোধহয় তারা নিজেরাও জানেন না। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ যে অমানবিকভাবে বিএনপি কর্মীদের পেটায় এবং পিটিয়ে আবার তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তোলে তা সবকিছু দেখেশুনেও বুদ্ধিজীবীরা নীরব থাকেন। কেন? বিএনপির পক্ষে একটি ন্যায্য কথা বললে কি বুদ্ধিজীবীতার মান পড়ে যায়? নাকি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে যান? আমাদের বুদ্ধিজীবীরা কেন দলের ঊর্র্ধ্বে উঠতে পারেন না? উত্তর আছে ১০ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘বুদ্ধিজীবীরা কখন অবান্তর হয়ে যান?’ নিবন্ধে।
চার
যারা আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির বিরুদ্ধে তারা লক্ষ কোটি অভিযোগ তুলতে পারেন। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই। তারপরও বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবেই বিএনপির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগও কম নয়। কিন্তু তা বলে বিএনপির সভা সমাবেশ করার ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা না বলেও পারা যায় না। আজকে বিএনপির এই ন্যায্য অধিকারের কথা না বললে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার হত্যায় আমরাও একেকজন অংশীজন হয়ে উঠি।
লেখক : কলাম লেখক

মানবকণ্ঠ/বিএএফ