বিএনপির সংখ্যা তত্ত্বের নতুন জ্যোতিষ মওদুদ: কাদের

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বিএনপির ‘নতুন জ্যোতিষী’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আগে বিএনপিতে সংখ্যা তত্ত্বের জ্যোতিষ ছিলেন দলের মহাসচিব ফখরুল। এখন নতুন জ্যোতিষ মওদুদ। মওদুদ বলেছেন, খালেদা জিয়া একদিন কারাগারে থাকলে নাকি বিএনপির ১০ লাখ ভোট বাড়ে। আর আওয়ামী লীগের কমে। বিএনপির যে জনপ্রিয়তা বেড়েছে এর প্রমাণ কি?

শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা সফল করতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বড় বড় কথা বলেন মওদুদ আহমেদ। তিনি দেশের রাজনীতির বহুরূপী নেতা, ডিগবাজিতে ওস্তাদ। তিনি এখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, না আস্তে আস্তে অশান্তির ক্ষেত্র তৈরি করছেন? শান্তির কথা বলে জনগণের সহানুভূতি পেতে চান? দেশের মানুষ আপনাদের দুর্নীতির পক্ষে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ভোট দেবে জনগণ, আর জ্যোতিষ ফখরুল একেকবার একেক সংখ্যাতত্ত্ব দিচ্ছেন। এখন দেখি, মওদুদ আহমদও নেমেছেন নতুন জ্যোতিষী হিসেবে। তিনি এখন মাঠে নেমেছেন। ভোট বাড়ার হিসাব দিচ্ছেন। প্রমাণ আছে? আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীর জনসভায় এর প্রমাণ দেখিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দুর্নীতিবাজের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ে না। উল্টো প্রতিদিন আওয়ামী লীগের ১০ লাখ ভোট বাড়ছে আর দুর্নীতির জন্য বিএনপির ১০ লাখ করে ভোট কমছে। দুর্নীতিবাজদের পক্ষে দেশের লোক থাকে না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মওদুদ আহমদ এবং রিজভী— এ দু’জন যত বেশি কথা বলবেন বিএনপির ভোট তত বেশি কমবে। এজন্য আমরা বলি এরা অন্যায় করুক, অপরাধ করুক, যত বেশি বাজে কথা বলুক, এদেরকে গ্রেফতার করার দরকার নেই, এরা বাইরেই থাকুক। এরা বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগের জন্য ভালো। এদের বাজে বাজে কথাগুলো জনগণ থেকে বিএনপিকে সরিয়ে দিচ্ছে। আর বিএনপির বড় বড় কথার জবাব দেব জনগণের শক্তি দিয়ে।

তবে আওয়ামী লীগও সংকটমুক্ত নয় বলে মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু আমাদের শক্তি হচ্ছে, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তার সময়ে দেশের উন্নয়ন ও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের জনগণ এতটাই খুশি যে বাংলাদেশের জনগণ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

‘জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আগের চেয়ে অনেকটাই দুর্বল’ হলেও একেবারে নির্মূল না হওয়াকে সংকট হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, তারা একবারেই তাদের পথ থেকে সরে গেছে এ কথাটা মনে করার কারণ নেই। এ মুহূর্তে মনে হচ্ছে তারা একবারে নিষ্ক্রিয় কিন্তু বাস্তবে আমার কাছে প্রতি মূহূর্তে মনে হয় এই জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী তলে তলে আরো ভয়াবহ কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা— এটা আজকেও আমাদের ভাবতে হবে।

বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নামে অশান্তির ক্ষেত্র সৃষ্টি করছে দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যেই দল হাইকোর্টের সামনে প্রিজন ভ্যানে হামলা করেছে। তারা যখন বলে, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি— এটা কি কারো বিশ্বাস হয়? এই বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে? আমরা (আওয়ামী লীগ) আগের চেয়ে সতর্ক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও আগের চেয়ে তত্পর। যে কারণে এই অপশক্তি সাহস পাচ্ছে না। ওই হাইকোর্টের সামনের ন্যক্কারজনক ঘটানার পুনরাবৃত্তির সাহস তাদের নেই।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বক্তব্য দেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ