বিএনপির মামলায় বিব্রত নয় আওয়ামী লীগ

বিএনপির মামলায় বিব্রত নয় আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন বিএনপি, গণফোরাম, পিডিপিসহ পরাজিত ৭৪ জন প্রার্থী। নির্বাচনে জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেয়া, একতরফা ভোট, কারচুপি ও ভোটডাকাতির অভিযোগ এনে ভোট বাতিলের দাবিতে এই মামলাগুলো করা হয়েছে। বিএনপি প্রার্থীদের মামলার বিষয়ে বিব্রত নয় আওয়ামী লীগ। বিএনপির এই মামলাগুলোর দায় বর্তায় নির্বাচন কমিশনের ওপর। এই মামলা বিষয়টা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বলে জানান আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন ৭৪ জন পরাজিত প্রার্থী। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের ছয়টি একক বেঞ্চ গঠন করেছেন। অভিযোগকারী পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৭০ জন, গণফোরামের তিনজন এবং প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) একজন প্রার্থী। তারা বিধি অনুযায়ী সশরীরে হাজির হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দাখিল করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতে পারেন, তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। নির্বাচনে পরাজিতরা ট্রাইব্যুনালের সম্মুখীন হন, ট্রাইব্যুনালে তাদের অভিযোগ পেশ করেন, এটা নতুন কিছু নয়। এটা তাদের অধিকারও আছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অধিকার আছে, তিনি মামলা করতে পারেন। এ বিষয়টায় আমাদের কিছু করণীয় নেই। যেহেতু নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনে যারা জয়লাভ করেছে, তাদের গেজেট প্রকাশ করেছে এবং বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে। এখন ট্রাইব্যুনালে যদি কেউ মামলা করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর, এ বিষয়টার দায়টা বর্তায় নির্বাচন কমিশনের। কাদের বলেন, তারাই এখন বিষয়টা নিয়ে আদালতে গিয়ে মোকাবেলা করবেন, লিগ্যাল ব্যাটেল তারা ফেস করবে, এটাই নিয়ম। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।

মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোটেও না, এটা তো অস্বাভাবিক বা নতুন কিছু বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যায়, আমি মামলা করার বিরুদ্ধে নই, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতে পারে। পরাজিত ব্যক্তির অবলম্বন আইনের কাছে আশ্রয় নেয়া, তিনি আইনের কাছে আশ্রয় নেবেন। আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, অসুবিধা কী? আদালত খতিয়ে দেখবেন নির্বাচন কমিশন জবাব দেবে, আমাদের কোনো বিষয় নয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপির নতুন করে নাম হয়েছে মামলাবাজ দল। মামলাবাজ ছাড়া কী বলব? ট্রাইব্যুনালে গেছেন, ট্রাইব্যুনালে গিয়ে কী হবে আমি বুঝতে পারি না। গেছেন, ভালো করেছেন। আপনার যাওয়ার অধিকার আছে, গেছেন। তিনি আরো বলেন, আজকে আপনারা মামলা করছেন। যারা হতাশ হয়, তারাই কিন্তু মামলা করে। রাজনীতিতে মামলার কোনো স্থান নেই। রাজনীতি হচ্ছে মাঠের, নির্বাচনের রাজনীতি, আন্দোলনের রাজনীতি। যেখানে মামলাবাজরা কোনোদিন জিততে পারে না। এ দেশে কিছু মামলাবাজ আছে, যারা অহেতুক মামলা করে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে কিছু হয় না। তারা জনগণের কাছে না গিয়ে আদালতে গিয়েছে। দেশের মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করেছে। তাদের দায়ের করা মামলা দিয়ে আমরা বিব্রত না। আমি আশা করি, তারা উপযুক্ত বিচার পাবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, এই মামলা নিয়ে আমরা বিব্রত না। তাদের কোনো লাভ হবে না। এই মামলার রায় তাদের পক্ষে যাবে আমার মনে হয় না। এই মামলা নিয়ে নির্বাচন কমিশন লড়বে। আমাদের কিছু আসে যায় না।

প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হয়। ২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

মানবকণ্ঠ/এসএস