‘বিএনপির পাপ ধুলে বুড়িগঙ্গা আরো নোংরা হবে’

বিএনপি যে পাপ করেছে তা ধৌত (ধুতে) করতে গেলে বুড়িগঙ্গা আরো বেশি নোংরা হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জাতীয় শ্রমিক লীগের সমাবেশে তিনি বলেন, বিএনপির পাপ যদি ধৌত করতে যায় তাহলে বুড়িগঙ্গা আরো ময়লা হয়ে যাবে। আচরি ধর্ম পরকে শেখানো আগে নিজেরা শুদ্ধ হোন। তারপর অন্যকে বলুন শুদ্ধ হতে। আপনাদের চেয়ে অনেক ভালো আমরা। আমাদের ভুলক্রটি আছে, আমরা শতভাগ শুদ্ধ একথা বলব না। কিন্তু আপনারা তো শতভাগের কাছাকাছি অশুদ্ধ।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়া, সবনিয়ে বলি- লুটপাট, খুন, আগুন, সন্ত্রাসে আপনাদের পাপে পাপে, অনেক পাপ জমে গেছে। এটা ধৌত করবে এমন শক্তি কারো নাই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মোশাররফ সাহেব কি বলেছেন- ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে? ১৫৪ জন নয়, ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এটাও জানেন না তিনি! অথচ তিনি যে এই কথাটা কতবার বলেছেন!

সেতুমন্ত্রী বলেন, আসেন চ্যালেঞ্জ করুন। এখানে আইনের কি সমস্যা, গণতন্ত্রের কি সমস্যা, নির্বাচনের কি সমস্যা? আপনি নির্বাচনে এলেন না, অপ্রতিদ্বন্দ্বী করলেন অনেকেই। এর দোষ কি জনগণকে নিতে হবে? আপনি এলেন না, দোষ আপনার। এতে নির্বাচনেরও কোনো দোষ নেই, বৈধতারও কোনো সংকট নেই। আদালত কি তাদের (বিএনপি) মত ঘোড়ার ঘাস খায় নাকি? যে সেই ব্যাপারে রায় দিয়ে দেবে। এখনতো মনে হয় আদালতের স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি রায় দিতে হবে যে- নির্বাচন কমিশনকে একটি ম্যান্ডেট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে জিতাতে হবে, তা না হলে হয়তো দেশে আবার আগুন-সন্ত্রাস শুরু হবে। এটা দিলেই বিএনপি খুশি হবে।

‘বিচারপতির পদত্যাগ অশনি সংকেত’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, যেভাবে নেতিবাচক রাজনীতি আঁঁকড়ে ধরেছে- এটা বিএনপির জন্য অশনি সংকেত। নির্বাচনে না এলে তাদের ভবিষ্যত অশনি সংকেত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনোস্কো কর্তৃক স্বীকৃতির ঘোষণা উপলক্ষে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতিহাসের মহানায়কের পাশে ইতিহাসের ফুটনোটকে (জিয়াউর রহমান) তুলনা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে যখন স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়, তখন মনে হয় তিনি কবরে শুয়ে ছটফট করেন। কারণ তিনি নিজেই বলে গেছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষণা স্বাধীনতার গ্রীণ সিগন্যাল।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/এইচএইচ/এফএইচ