বিএনপিতে বহিষ্কার থামছে না

বিএনপিতে বহিষ্কার থামছে না

বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলটির তৃণমূলের নেতারা তা শুনছেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অনেকেই এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, যাদের একের পর এক বহিষ্কার করছে বিএনপি। গত এক সপ্তাহে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক উপজেলা পর্যায়ের নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরো শতাধিক নেতা বহিষ্কারের তালিকায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদেরকেও বহিষ্কার করা হবে। এনিয়ে কিছু নেতাকর্মীর মাঝে বহিষ্কার আতঙ্ক দেখা দিলেও অধিকাংশই পরোয়া করছেন না বলে জানা গেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ এই নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল দলটি। তবে তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

এ কারণে গত এক সপ্তাহ থেকে সিলেট, হবিগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার ৮২ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি, যাতে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে দলটির বহিষ্কৃত নেতার সংখ্যা ১০১ জনে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির প্যাডে দলের সহদফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ৮২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গতকাল মানবকণ্ঠকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বার বার নিষেধ করার পরও বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হলেও তা অগ্রাহ্য করেন। এ ছাড়া কোনো কোনো নেতা অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেন। ফলে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদেরকে দলের সর্বস্তরের পদ থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে এ পর্যন্ত যারা বহিষ্কার হলেন— হবিগঞ্জের এস এম শাহজাহান, মনজুর উদ্দিন আহমদ শাহীন, চুনারুঘাটের এস লিয়াকত হাসান, জেলা কৃষক দলের মাহবুবুর রহমান আওয়াল, মাধবপুরের আব্দুল আজিজ, বানিয়াচং উপজেলার তানিয়া খানম, সুফিয়া আক্তার হেলেন, বাহুবলের নাদিরা খানম, লাখাই যুবদলের তাউস আহমদ, সিলেটের মাজহারুল ইসলাম ডালিম, জিল্লুর রহমান সোয়েব, শামছুল আলম, মাওলানা রশীদ আহমদ, সোহেল আহমদ চৌধুরী, আব্দুর রহমান খালেদ, আশরাফ উদ্দিন রুবেল, নাজমা বেগম, স্বপ্না শাহীন, আবদাল মিয়া, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের খালেদুর রশীদ ঝলক, যুবদল নেতা সুন্দর আলী, জকিগঞ্জের ইয়াহইয়া বেগম, ছাত্রদলের ফজলে আশরাফ মান্না, গোয়াইনঘাটের লুত্ফুল হক খোকন, শাহ আলম স্বপন, জয়নাল আবেদীন, মহিলা দলের খোদেজা বেগম কলি, জৈন্তাপুরের আব্দুল হক, বিশ্বনাথের মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, আহমদ নূর উদ্দিন, জুবেল আহমদ, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন, কোম্পানীগঞ্জের লাল মিয়া, আবিদুর রহমান, ফেঞ্চুগঞ্জের ওয়াহিদুজ্জামান সুফী, মনির আলী নানু মিয়া, হারুন আহমদ চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম মুরাদ, সাহেদ আহমদ, ফেরদৌসী ইকবাল, বালাগঞ্জের গোলাম রব্বানী, সেবু আক্তার মনি।

এ ছাড়া বগুড়ার মাছুদুর রহমান (হিরু মণ্ডল), টিপু সুলতান, রাফি পান্না, সারিয়াকান্দির গোলাপী বেগম, সোনাতলার জিয়াউল হক লিপন, রঞ্জনা খান, নয়নতারা, শিবগঞ্জের মোছা. বিউটি বেগম, নন্দীগ্রামের আলেকজান্ডার, এ কে আজাদ, কাহালুর শাহাবুদ্দিন, মমতাজ আরজু কবিতা, ধুনটের আখতার আলম সেলিম, আলিমুদ্দিন হারুন, সদর থানার মোছা. নাজমা আক্তার, মাহিদুল ইসলাম গফুর, শাজাহানপুরের আবুল বাশার, জাহেরুল ইসলাম, সুলতান আহম্মেদ, মোছা. জুলেখা বেগম, মোছা. কোহিনুর বেগম, রহিমা খাতুন মেরি, ডা. মেহেরুল আলম মিশু, আনোয়ার এহসানুল বাশার জুয়েল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সুরাইয়া জেরীন রনি, গাবতলীর তাহমিনা আকতার রুমা, শ্যামল সরকার।

নওগাঁর নিয়ামতপুরের সদরুল আমিন চৌধুরী, মোছা. মনোয়ারা বেগম, মান্দার আহসান হাবীব, সাপাহার উপজেলার জয়নুল আবেদীন, আশরাফুল ইসলাম, ধামইরহাটের হিলা মোছা. শাহিনা, রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের নূর নাহার বেগম, নানিয়ারচরের নুরুজ্জামান হাওলাদার, রাঙ্গামাটির রনো চাকমা, বান্দরবানের আবদুল কুদ্দুছ, আবুল কালাম, শিরিন আক্তার, রুমা উপজেলার জিমসম লিয়ান বম ও হামিদা চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলার ভোটে বিএনপির অন্তত ২০-২২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন ১৮ মার্চ। ওই ধাপে ১২৯টি উপজেলায় নির্বাচন হবে। এই দুই ধাপে যারা নির্বাচনে আছেন তাদের বহিষ্কার চলছে। সারাদেশ থেকে তালিকা সংগ্রহ চলছে। জানা গেছে, অধিকাংশ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যানের দুটি পদেই প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। বিএনপির উপজেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হলেও হলফনামায় নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বহিষ্কৃৃত কোনো কোনো নেতা বলছেন, ভোটের মাঠ তাদের পক্ষে আছে, তাই নির্বাচিত হলে সংগঠন থেকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস