বাহারি নকশার পাটপণ্যে ক্রেতাদের ভিড়

বাহারি ডিজাইনের পাটপণ্যের ব্যাগ। দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। তাই কিনে নিলাম। প্রতি বছরেই কিনে থাকি। কারণ এটা আমাদের দেশের পণ্য। এভাবেই আগারগাঁও থেকে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মিথিলা পাট পণ্যের চাহিদার কথা জানান। শুধু তিনি একা নন, সঙ্গে অন্য বান্ধবীরাও আছেন। গতকাল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলাতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) প্যাভিলিয়নে এভাবেই পাট পণ্যের চাহিদার কথা জানান তারা। শুধু ওইখানে নয়, মেলায় কারাপণ্য, রংপুরের শতরঞ্জি প্যাভিলিয়নসহ অন্যান্য স্টলেও দেখা যায় একই দৃশ্য।

ক্রেতারা থরে থরে পাটের তৈরি নানা নকশার ব্যাগ, পার্টস, জুতা, পুতুল, ম্যাট, শতরঞ্জি, শিকা, পাপোশ, সুতা, ঝুড়ি, ল্যাম্পশেড, কাপড়, টুপি, চাবির রিং, মানিব্যাগ, কম্বল, পাট ও প্লাস্টিকের সমন্বয়ে তৈরি ফাইবার গ্লাসসহ বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে দর্শনাথীদের আকৃষ্ট করছেন। গতকাল মেলা ঘুরে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ২৩তম মাসব্যাপী এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকছে এ মেলা। প্রবেশ ফি প্রতিজন ৩০ টাকা, ছোটদের জন্য ২০ টাকা।

মেলায় দেখা যায়, রংপুরের শতরঞ্জি বিভিন্ন ছাড় দিয়ে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। ভিড়ও বেশি করছেন দর্শনার্থীরা। এসব পণ্যের সঙ্গে ক্রেতারা পাচ্ছেন আকর্ষণীয় অফার। বাহারি নকশা করা এসব শতরঞ্জি সবাইকে আকর্ষণও করছে। কারণ কারুপণ্য হস্তশিল্প রংপুর নামের প্রতিষ্ঠানটি এবারের বাণিজ্যমেলায় নানা রকম পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। এর মধ্যে ফ্লোর ম্যাট, ডোর ম্যাট, বাথ ম্যাট, ডাইনিং টেবিল ম্যাট, বেডসিট, বেড কভার, তাঁতের তৈরি পর্দা, কুশনকভার, ব্যাগসহ প্রায় ২০ ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির প্যাভিলিয়নে। আর দেশীয় পণ্য ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে এবারের মেলায় তাদের বিভিন্ন পণ্যে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। এ ব্যাপারে শতরঞ্জির সুমন সরকার মানবকণ্ঠকে বলেন, রফতানিমুখী আমাদের সব পণ্য মেলায় আনা হয়েছে। এক হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার বেডসিটে ১০ থেকে ২০ শতাংশ, ২শ’ থেকে ৩ হাজার টাকার পর্দায় ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যেও ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে। বিক্রি উদ্দেশ নয়, প্রচার করতেই মেলায় আমাদের আসা। দেশি পণ্য ব্যবহারে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করাই মূল লক্ষ্য। এ সময় মিরপুর থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্য বছরেও এখানের পণ্য কিনি। তাই এবারো বেডকভার, কুশনকভার ও কয়েকটি ব্যাগ কিনেছি।

পাটের পণ্যকে আকৃষ্ট করতে মেলায় প্যাভিলিয়ন নিয়েছে জিডিপিসি। এর সেক্রেটারি আব্দুস সালাম মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের বাছাই করে এবারে ২৫ জনকে মেলায় তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। তারা প্রায় ২৩২টি আইটেমের পণ্য মেলায় এনেছে। পাট পণ্যকে প্রমোট করতেই আমাদের এ উদ্যোগ। ২০০৬ সাল থেকে মেলায় আসা। প্রতিনিয়ত এর চাহিদা বাড়ছে। ওই প্যাভিলিয়নের পাশেই বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনও স্থান করে নিয়েছে।

মেলায় সহব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, আগে জিডিপিসির প্যাভিলিয়নে অংশ নিলেও এবার আলাদা করে প্যাভিলিয়ন নেয়া হয়েছে। বিক্রি নয়, সবার কাছে পাটের বিভিন্ন পণ্যের তথ্য দেয়ার জন্যই আসা। তবে ছোট ছোট ব্যাগ বিক্রি করা হচ্ছে। পাট পণ্যের মধ্যে পাট পাতার চা এবং সোনালি পাট নতুন উদ্ভাবন। এটা এখনো বাজারে ছাড়া হয়নি। তবে অর্ডার পাওয়া গেছে। মেলায় ভালোই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ভালো ৫০ কেজি বস্তা ৪২ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি করা হচ্ছে। তবে মোটা বস্তা কম দামে ৪৪ টাকা পিস বিক্রি করা হচ্ছে। এসব বস্তা রাইসমিল মালিকরা অর্ডার দিচ্ছেন। তাই তাদেরই বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ কারাগারও স্থান করে দিয়েছে মেলায়। ৫নং কারাপণ্য স্টলে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন কারাগারের উত্পাদিত পণ্য। এর মধ্যে পাটের ব্যাগও স্থান করে নিয়েছে। জানতে চাইলে বিক্রয়কর্মী মামুন বলেন, বিভিন্ন কারাগারের কয়েদিদের বানানো এসব ব্যাগ ৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পিস বিক্রি করা হচ্ছে। ভালো মানের হওয়ায় চাহিদাও বেশি। প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ