বারবারই আমার নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে: খালেদা

খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমার নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বারবার। আমার বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে অসত্য ও কুৎসিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাকে রাজপথে নামতে হয়েছিলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা বলেন, বরাবরই প্রমাণ হয়েছে যে, দেশ ও এ দেশের জনগণের ভাগ্যের সঙ্গে আমার নিজের এবং আমার পরিবারের ভাগ্য একসূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে।

খালেদা আরো বলেন, মাননীয় আদালত, আমি যত সামান্য মানুষই হই না কেন, আমার প্রতি বর্তমান শাসকমহলের আচরণের কারণ, পটভূমি ও প্রেক্ষাপটের ব্যপ্তি কিন্তু সামান্য নয়। দেশ ও জাতির দূর্দশা থেকে এটিকে আলাদা করে দেখা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাভাষী সৈনিকদের প্রতিরোধ যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার সুযোগ আমাকে ইতিহাস দিয়েছে। এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি তা পালন করেছি।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্যে বেলা ১২ টায় ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যান বেগম খালেদা জিয়া।

এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্য দেয়া এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার দিন ধার্য রয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর দুর্নীতির দুই মামলায় দুই লাখ টাকা মুচলেকায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। একই সঙ্গে বিদেশ যেতে হলে খালেদা জিয়াকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে বলে শর্ত প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। তার বক্তব্য শেষ না হওয়ায় পরবর্তী বক্তব্যের জন্য ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।

গত ১২ অক্টোবর মামলা দুটিতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির কার্যক্রম শেষ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ঠিক করে দেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত।

মানবকণ্ঠ/এসএস