বাবা আমাকে কুমুদিনী স্কুলে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী কমপ্লেক্সে বক্তব্যকালে নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখানে আমি একবার এসেছিলাম, আমি তখন খুব ছোট্ট ছিলাম। তবে মনে আছে এই জায়গা এত সুন্দর দেখে বাবা বলেছিলেন- আমাকে এই কুমুদিনী স্কুলে ভর্তি করে দেবেন। তো হোস্টেলে রেখে পড়ানো আমার মায়ের খুব একটা মনোপুত ছিল না।

বৃহস্পতিবার কুমুদিনী কমপ্লেক্সে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক প্রদান এবং জেলার ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে টাঙ্গাইলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বর্ণপদক প্রদানের পর তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে মির্জাপুরের কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছেন।

তিনি বলেন, যখন এখানে এসেছিলাম, এটি বোধহয় ‘৫৬ কিংবা ‘৫৭ সালের দিকে হবে। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাসহ সবাই এসেছিলেন। দীর্ঘ সময় এখানে ছিলেন। এই স্কুল, হাসপাতাল সব ঘুরে ঘুরে দেখেছেন তারা। খুব ছায়ার মতো আমার এইটুকু স্মৃতি মনে আছে। এর বেশি আমার মনে নেই। এর পর ‘৫৮ সালে মার্শাল ল হয়। আমার বাবাকে জেলে নিয়ে যায়। আমাদের পড়াশোনা এমনিতেই বন্ধ। কাজেই আর আসা হয়নি। তবে ‘৮১ সালে দেশে ফেরার পর আমি অনেকবারই এসেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তর সালে ৭ মে হানাদাররা নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। তাদের পরিবার আর কখনোই তাদের ফিরে পায়নি। স্বজন হারানোর বেদনা যে কত কঠিন, কত যন্ত্রণাদায়ক সেটা আমরা বুঝতে পারি।

তিনি বলেন, মানুষের সেবা, নারী শিক্ষার প্রসারে রণদা প্রসাদ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, সমাজের বিত্তশালীরা যেন এভাবেই মানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন।

তিনি আরো বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু। জনগণের ভালোবাসা নিয়েই কাজ করেছি। বাংলাদেশকে এখন বিশ্ব উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে দেখে। আমরা আরো অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই।

প্রসঙ্গত, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ২০১৫ সাল থেকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ‘রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক’ চালু করেছে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেড।

এ বছর যে চারবিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক দেয়া হলো, তারা হলেন- পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), নজরুল গবেষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দীন আহমেদ।

সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহেনা এবং জাতীয় কবির পক্ষে কবির নাতনি খিলখিল কাজী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

মানবকণ্ঠ/এএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.