বাণিজ্যমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে

বাণিজ্যমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী বুধবার শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯। প্রতিবছর এ মেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী করলেও এবারই প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মেলার উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া এবারই প্রথম অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। তবে এবার নির্বাচনের কারণে মেলা এক সপ্তাহ পরে নির্ধারণ করার পরেও সেদিন থেকে শুরু হবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিলেন সবাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি মেলার উদ্বোধন করার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে জোরেশোরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতিযজ্ঞ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ আয়োজনে বিগত বছরগুলোর মতো এবারো রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অস্থায়ী মাঠে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছর এ মেলা বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়। তবে এবার ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় এক সপ্তাহ পরে শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই মেলা নির্ধারিত সময়ে শুরু হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। কারণ, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মেলার দুই দিন আগে শপথ নিতে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী এবার ব্যস্ততার কারণে মেলা উদ্বোধন করতে যেতে পারবেন না। এরফলে মেলা শুরুর তারিখ পেছানোর বিষয়ে ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু হবে। এ কারণেই তারিখ না পিছিয়ে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে উদ্বোধন করানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিবির উপ-পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ আবদুর রউফ মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়েই অর্থাত্ আগামী ৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করবেন। মেলা আর পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তিনি বলেন, ‘মেলার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে, আশা করছি উদ্বোধনের আগেই বেশিরভাগ স্টল ও প্যাভেলিয়ন প্রস্তুত হয়ে যাবে।’

তিনি জানান, এবার মেলায় নতুনত্ব হিসেবে অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং থেকে পেমেন্ট অপশনের মাধ্যমে গ্রাহকরা টিকিট কাটতে পারবেন। আবার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও টিকিট কাটার সুযোগ থাকছে। তবে কোন কোন প্লাটফর্ম থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সভা আছে। সেই সভা থেকেই সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

ইপিবি সূত্র জানায়, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী এবার মেলায় ৫৭৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এর সবগুলোই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সাধারণ প্যাভিলিয়ন রয়েছে ১৬টি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন রয়েছে ৭টি, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬১টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ২৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৭টি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ৮টি, রেস্টুরেন্ট ২টি, প্রিমিয়ার স্টল ৬৬টি, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল ১৭টি, সাধারণ স্টল ২৬৯টি এবং ফুড স্টল রয়েছে ২৯টি।

মেলার আয়োজক কমিটি জানিয়েছে এবারের বাণিজ্য মেলাকে আরো দৃষ্টিনন্দন করতে প্রধান গেট মেট্রোরেলের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের থিম থাকবে মেলাজুড়ে। এরইমধ্যে মেলার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

মেলা সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের মেলায় ভিন্ন আঙ্গিক আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মেলার প্রধান ফটকেও আসবে পরিবর্তন। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য মেলার ভেতরে খোলামেলা স্থান রাখা হবে। যাতে পরিবার ও পরিজনদের নিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারেন। আর মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে ইকো পার্ক করা হবে। সেইসঙ্গে থাকবে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার (ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি)। যার মাধ্যমে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন অতি সহজে খুঁজে বের করতে পারবেন। এ ছাড়া মেলায় কোনো সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে না। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

ইপিবি সূত্র জানায়, এ বছর মেলায় মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্কসহ পর্যাপ্ত এটিএম বুথ থাকবে। আরো থাকছে তৈরি পোশাক, হোমটেক্স, ফেব্রিকস, হস্তশিল্প, পাট-পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া-চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পণ্য, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী। থাকবে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল।

এ ছাড়া মেলায় বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। থাকবে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ স্টলের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং, সাজসজ্জা ও রাস্তা তৈরির কাজ।

মানবকণ্ঠ/এসএস