উম্মুক্ত পরীক্ষার ঠাণ্ডা ফি ১ হাজার টাকা

অনিয়ম ও নকলের অভিযোগে বাতিল হওয়া সেই পটুয়াখালীর বাউফল ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ফের ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষা চলছে। উন্মুক্ত পরীক্ষা উন্মুক্তভাবে দেয়ার জন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে ঠাণ্ডা ফি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ওই কলেজের শিক্ষকদের মাধ্যমে কক্ষ পরিদর্শকেরা এতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১১ মে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীনে স্নাতক (পাস) ও বিএসএস প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ১০ আগস্ট। এতে বাউফল সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রথম বর্ষে ৩১৮ জন, দ্বিতীয় বর্ষে ৩৩১ জন, তৃতীয় বর্ষে ২৮৯ জন, চতুর্থ বর্ষে ১৫২ জন, পঞ্চম বর্ষে ১৯২ জন ও ষষ্ঠ বর্ষে ১৬৮ জন। এর আগে ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে বাউবি কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসেন। তখন তারা ব্যাপক অনিয়ম ও নকলের প্রবণতা দেখতে পান।

এছাড়া বাউফল ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে একজনের পরীক্ষা অন্যজনে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে পরবর্তী বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হয় ওই কেন্দ্রে থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ ডিগ্রি কলেজে। সেখানে সুষ্ঠু ও অপেক্ষাকৃত অনেকটা নকল-মুক্ত পরিবেশে ওই বছর ভালো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বছরের ১৪ অক্টোবর দৈনিক মানবকণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ‘অনিয়মের অভিযোগে বাউফলে বাউবির কেন্দ্র পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

গত শুক্রবার ছিল স্নাতক প্রথম বর্ষের ইংরেজি পরীক্ষা। বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অনুপস্থিত। তিনি আবার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন একই কলেজের ইসলামিক শিক্ষা বিষয়রে প্রভাষক মো. শহিদুল ইসলামকে। পরীক্ষার্থীরা যে যার মত করে পরীক্ষা দিচ্ছে। কক্ষ পরিদর্শক থাকলেও তারা সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রত্যেক কক্ষে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকলেও তা বন্ধ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন প্রভাবশালীর পরীক্ষার্থীর জন্য ফের ভেন্যু পরিবর্তন করে যে কলেজের শিক্ষার্থী আবার সেই কলেজেই পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ ওই পরীক্ষার্থীরা নিজে কক্ষে বসে পরীক্ষা না দিয়েও বিগত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। কিভাবে সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিরা পরীক্ষা দেয়। যা এই কেন্দ্রেই সম্ভব। যে কলেজের ছাত্র সেই কলেজের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিলে কোনোভাবেই নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, উন্মুক্ত পরীক্ষা উন্মুক্তভাবে দেয়ার জন্য ঠাণ্ডা ফি (অতিরিক্ত টাকা) বাবদ প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উন্মুক্ত পরীক্ষার নেয়ার জন্য সিসি ক্যামেরার প্রয়োজন নেই। ঠাণ্ডা ফি বাবদ কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে পরীক্ষা পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। পরীক্ষার বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। অনিয়মের বিষয়টি দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে বাউবির উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘নকল যাতে না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিতর্কিত কেন্দ্রে ফের পরীক্ষা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ