বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে ফিল্ম তৈরি করছি: শামীম শাহেদ

বাংলাদেশের টেলিভিশন মিডিয়ায় বেশ সাফল্যের সঙ্গে যেকজন কাজ করেছেন তার মধ্যে শামীম শাহেদ অন্যতম। বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধানের পাশাপাশি তিনি কাজ করেছেন একুশে টেলিভিশন, প্রথম আলো, ভোরের কাগজসহ বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি নিউইয়র্কের টিবিএন২৪ টেলিভিশনে ‘ডিরেক্টর: প্রোগ্রাম অ্যান্ড মার্কেটিং’ পদে যোগ দিয়েছেন। তার সঙ্গে অনলাইনে কথা বলেছেন রেজাউর রহমান রিজভী-

নতুন জায়গায় ব্যস্ততা কেমন?
আমার উপর তো ভালো থাকার আদেশ আছে, তাই সব সময় ভালো থাকতে হয়। আর নতুন জায়গার ব্যস্ততা একটু তো থাকবেই। তবে দুঃশ্চিন্তা অনেক কম। আমেরিকাতে খুব প্রফেশনালি কাজ-কর্ম হয়। তাই বাড়তি যেই টেনশনটুকু থাকে সেটা নাই।

টিবিএন২৪ টেলিভিশনে আপনি ডিরেক্টর প্রোগ্রাম অ্যান্ড মার্কেটিং পদে যোগ দিয়েছেন। কেমন লাগছে?
টেলিভিশন চ্যানেলের কাজের ধরণ আমার জানা। তাই খুব চাপ অনুভব করছি না। বেশ ভালো লাগছে। টিবিএন২৪ টেলিভিশন উত্তর আমেরিকার খুব জনপ্রিয় চ্যানেলগুলোর একটি। তাই দর্শকদের বেশ ভালই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পরিচিত কমিউনিটি হলেও অনুষ্ঠানের চাহিদা এবং বিজ্ঞাপন সংগ্রহের ধরন একটু ভিন্ন। আমার ভালো লাগছে।

আপনি নিউইয়র্কে আরও কিছু কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, সেগুলো কেমন?
আমি একটা রিয়েল অ্যাস্টেট ফার্মের সঙ্গেও কাজ করছি। আর ল-তে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমেরিকাতে একজন অ্যাটর্নি হওয়ার আমার বর্তমান স্বপ্ন। আমি সেটা হতে চাই।

নিউইয়র্কে আপনার একটা রেডিও স্টেশন আছে ‘রেডিও ত্রিতাল বাংলা ইউএসএ’ এর বর্তমান অবস্থা কী?
‘রেডিও ত্রিতাল বাংলা’ তার নিজস্ব গতিতে চলছে। ‘রেডিও ত্রিতাল বাংলা’ অ্যাপটি ডাউনলোড করলে বাংলাদেশে বসেও আপনি শুনতে পাবেন। এখন শুধু বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এখানে সংবাদ ও অন্যান্য বিষয় যুক্ত হবে।

আপনি আগে ইউনিসেফ এর মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই প্রতিযোগিতার একজন জাজ ছিলেন। এখন এই ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কি যুক্ত আছেন?

আমি এখন নিউইয়র্কের একটা সংগঠন ডিসট্রেস্ড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফেন্ট ইন্টারনেশনাল এর মিডিয়া টিমের একজন কর্মী। এর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কাজ করে।

টেলিভিশনের সঙ্গে কাজ করাতে আপনার স্বাভাবিক পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে কি না?
তেমন হচ্ছে না, নিউইয়র্কে আমার প্রধান পরিকল্পনা একটা ডিগ্রী নেওয়া। পরের কাজ, নিজের একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। তার পরের কাজ ফিল্ম মেকিংয়ের কাজ চালিয়ে যাওয়া। এখন নিউইয়র্কের দুটি পরিবারকে নিয়ে আমি একটা ফিল্ম তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যার নাম ‘ব্রাদার্স’। একটি মুসলিম পরিবার এবং একটি জিউ ফ্যামিলিকে নিয়ে গল্প। সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে ফিল্মটি তৈরি হচ্ছে। পরবর্তি সামারের আগে কাজ শেষ হবে।

আপনার লেখালেখির কী অবস্থা?
‘উড়োজাহাজের উড়োচিঠি’ নামে আমার একটা কলাম ছাপা হতো ঢাকার ইত্তেফাক এবং নিউইয়র্কের আজকাল পত্রিকায়। সেটা নিয়ে এবার একটা বই প্রকাশিত হবে। পার্ল পাবলিকেশন্স বের করবে।

দেশে আসছেন কবে?
সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর, জানুয়ারিতেই আসব। দেশেও অনেক কাজ বাকি আছে। তবে বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই জায়গা মিলে কিছু একটা করার ভাবনা আছে। বেশ বড় প্ল্যান। মূলত বাংলাদেশের জন্য বড় কিছু করা। দেখা যাক।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.