বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে হয়ে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে -বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক:
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়ে প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে এগিয়ে যেতে চায়। গতকাল ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মেম্বার অফ ম্যানেজিং বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বরগে ব্রেনডি’র সঞ্চালনায় ভৌগলিক কৌশলগত ডিসকাশনে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাপটা, আপটা, বিবিআইএন, বিসিআইএমের মতো জোটে থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ তিনটি শর্ত পূরণ করে এডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে যাওয়ার প্রথম ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে পাঁচটি দেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে, এর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ একত্রে তিনটি শর্ত পূরণ করেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পরিপূর্ণভাবে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। তখন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা থাকবে না। তবে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাবে। অন্যান্য দেশের সাথে এফটিএ স্বাক্ষর করে বিশ্ববাণিজ্যে এগিয়ে যাবে। বাংরাদেশ সব দেশের আন্তরিক সহযোগিতা চায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যারা একসময় বলত, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি এবং বিশ্বের মধ্যে দরিদ্র দেশের রোল মডেল, আজ তারাই বলছে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল। গতবছর বাংলাদেশ ৩৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে, সেবা খাতসহ মোট রফতানি ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যাংকে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি, রেমিটেন্স ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একান্তই মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় প্রদান করেছেন। তিনি এ জন্য বিশ্ববাসীর কাছে থেকে মাদার অফ হিউমেনিটি খেতাব অর্জন করেছেন। প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের সঙ্গে সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ আশা করছে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে এবং রোহিঙ্গারা শিগগিরই তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন।
সম্মেলনে উপস্থিত মায়ানমারের ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন মিনিস্টার কাইও টিন বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেন বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভিয়েতনামের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ফামবিন মিন, মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মিনিস্টার ইগনেটিয়াস লেইকিং, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাংকাইয়ুং হুয়া, শ্রীলংকার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মিনিস্টার মালিক দেবপ্রিয় সামারাউইকরামা, কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাক, পাপুয়া নিউ গুইনিয়ার ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার চার্লিস আবেল।