বাংলাদেশে চালু হবে ইউটিউব অফিস

শিগগিরই বাংলাদেশে অফিস চালু করতে যাচ্ছে ইউটিউব। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভিডিও শেয়ারিং পোর্টাল ইউটিউব তাদের অফিস বাংলাদেশে চালু করতে পারে। নির্দিষ্ট সময় বা মাস সম্পর্কে ধারণা না পাওয়া গেলেও তাদের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসার কথা। এ দলে থাকবেন ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার সেবাদানকারী বহুজাতিক কোম্পানি গুগলের পোর্টাল ইউটিউবের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বাংলাদেশ সফরকালে সরকারের একাধিক মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে। বিস্তারিত লিখেছেন নাজমুল হক ইমন

বিশ্বের ৬১তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে অফিস চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ডিজিটাল বিপণনের বড় ক্ষেত্র তৈরি, বাজেট বৃদ্ধি, কনটেন্ট বৃদ্ধি, চ্যানেলের সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদিতে চোখ পড়েছে তাদের কর্মকর্তাদের।
শিগগিরই বাংলাদেশে অফিস চালু করতে যাচ্ছে ইউটিউব। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে ভিডিও শেয়ারিং পোর্টাল ইউটিউব তাদের অফিস বাংলাদেশে চালু করতে পারে। নির্দিষ্ট সময় বা মাস সম্পর্কে ধারণা না পাওয়া গেলেও তাদের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসার কথা। এ দলে থাকবেন ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার সেবাদানকারী বহুজাতিক কোম্পানি গুগলের পোর্টাল ইউটিউবের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বাংলাদেশ সফরকালে সরকারের একাধিক মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে।
এ সম্পর্কে এনটিভি অনলাইনের প্রধান ফকরউদ্দীন জুয়েল জানান, তাদের সঙ্গে ইউটিউব কর্মকর্তাদের বেশ কয়েক মাস আগে ইমেইলে কথা হয়েছিল। তখন তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশে ইউটিউব তাদের অফিস করার ব্যাপারে আগ্রহী। কারণ বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে ইউটিউবের ব্যবহার বাড়ছে। এখন থেকেই যদি ঠিক মতো পরিচর্যা করা যায় তবে এটি অনেক বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।
ফকরউদ্দীন জুয়েল বলেন, ইউটিউব অফিস চালু করলে আমরা অনেক বেশি সুবিধা পাবো। আর এটি সত্যিই আনন্দের খবর হবে। আমরা মানে বাংলাদেশ যে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছি এই ইঙ্গিত থেকে বোঝা যায়। এটি মানতেই হবে, ইউটিউবে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। অনেক ইউটিউবার, ইউটিউব কনটেন্ট আর ইউটিউব চ্যানেল কম সময়ে সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া কিছু কিছু ভিডিও কনটেন্ট ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ইউটিউবে ভিউ কয়েকগুন বেশি।
দেশসেরা ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির বলেন, ইউটিউব বাংলাদেশে দ্রুত অফিস শুরু করছে এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে বাংলাদেশে ইউটিউব তাদের অফিস চালু করবে এর জন্য পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, কথা চলছে। আমি যতটুকু জানি, ইউটিউবের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবে। তারা কথা বলবেন, আলোচনা করবেন। যদি রেন্সপন্স ভালো মনে করেন, তবে অফিস চালু হতে পারে। কারণ বেশ কিছু সমস্যা আছে। কনটেন্ট ক্রিয়েন্ট, কপিরাইট ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু। সব মিলিয়ে যদি ইউটিউব হাই অফিশিয়ালরা মনে করেন বাংলাদেশে অফিস শুরু করে লাভবান হবেন, তবেই ইউটিউবের অফিস পাবো আমরা।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, ইউটিউবের কর্মকর্তারা মনে করেন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরেই বাংলাদেশ অবস্থান। কেননা বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে নাটক প্রচার, কিছু কিছু গান ‘কোটি ভিউ’ পাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারটিকে ‘অমিত সম্ভাবনাময়’ বলে মনে করছে ইউটিউব। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউটিউব দেশে অফিস চালু করলে কনটেন্ট ফিল্টারিং, কনটেন্ট প্রত্যাহার, বিজ্ঞাপন দেয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো সহজ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, যারা ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করেছেন তারাও সরাসরি পোর্টালটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আয়, চ্যানেল ব্লক করে দেয়া ইত্যাদির বিষয়ে কথা বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার একটি অনলাইন পোর্টালকে বলেন, আমরা আশা করছি মাস দুয়েকের মধ্যে বাংলাদেশে ইউটিউবের অফিস চালু হবে। ইউটিউব মনে করছে, বাংলাদেশ তার জন্য নতুন বিজনেস হাব হবে। ইউটিউব এলে বিষয়টি (রেসপন্স পাওয়া) আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমাকে একটি মাধ্যম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, বাই অক্টোবর আপনি দেশে ইউটিউবের অফিস পাচ্ছেন। ওই মাধ্যম আমাকে আরো জানিয়েছে, এটা একটা (ইউটিউব) গোল্ড মাইন (স্বর্ণ খনি), যদি ঠিকমতো পরিচর্যা করা যায়। ইউটিউবে বাংলাদেশের কনটেন্ট কম। টিভি চ্যানেলগুলো নাটকসহ অন্যান্য কনটেন্ট দিয়ে চলছে। এর বাইরে কনটেন্টের প্রচুর চাহিদা। আমাদের ওই জায়গাটা ধরতে হবে। এ ছাড়া চ্যানেলগুলো শুরুতে যে অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে তাদের ব্যবসা ইউটিউবে অন্তত ১০০ গুণ বেড়েছে।
মন্ত্রী জানান, একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের কর্ণধার তাকে জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি ইউটিউব থেকে একটি ‘গোল্ডেন বাটন’ পেয়েছেন। সিএমএসের (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) দায়িত্বও পেয়েছেন তারা। প্রসঙ্গত, কোনো চ্যানেল ১০ লাখ গ্রাহকের মাইলফলক অর্জন করলে স্বীকৃতিস্বরূপ ইউটিউব থেকে গোল্ডেন প্লে বাটন দেয়া হয়। দেশের একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে ইউটিউবে তাদের চ্যানেলের গ্রাহকপ্রিয়তার কারণে অ্যাপ্রিসিয়েশন হিসেবে গোল্ডেন প্লে ও সিলভার প্লে বাটন পেয়েছে। তথ্য ও ছবি: ইন্টারনেট