বাংলাদেশের পোশাক কারখানা সবচেয়ে নিরাপদ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ কারখানাগুলো মধ্যে পড়ে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট বলেন, গত ৫ বছরে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় দেশটির তৈরি পোশাক শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ দেশে থাকার কারণে স্বচক্ষে তা দেখার সুযোগ হয়েছে। তবে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতই বাংলাদেশের পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাধা। পোশাক শিল্পে শ্রম আইন বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণœœ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বিদেশি ক্রেতাদের অন্যদিকে ঝুঁকে পড়ার হুমকিও বাড়বে। গতকাল বিজিএমইএর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর কাওরান বাজারে বিজিএমইএর সম্মেলন কক্ষে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সিদ্দিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের ‘ফেয়ার প্রাইস’ দিতে বার্নিকাটের প্রতি অনুরোধ জানান।
ঢাকাস্থ বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে এ দেশের লাখো শ্রমিক দারিদ্র্যের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আগামীতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বিশেষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কষ্টার্জিত অগ্রগতিকে ধরে রাখার পরামর্শ দেব। তিনি আরো বলেন, পোশাক শিল্পে সামনে সবচেয়ে বড় বাধা শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ের অগ্রগতি ছিল শ্লথ। আমি এ কথাটি অনেকবার জোর দিয়ে বলেছি। আবারো বলব, আন্তর্জাতিক শ্রমনীতি মেনে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। এ জন্য দ্রুত আইনগত পরিবর্তন জরুরি, এটা সম্ভব করা গেলে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে। কারণ, ভোক্তারা এখন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শ্রম ইস্যুগুলো বেশি বিবেচনায় নেয়। আর শ্রমনীতি মানতে দেরি করলে এ দেশের সুনাম ক্ষুণœœ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। বাংলাদেশের পোশাক কারখানা সংস্কারে যে বিনিয়োগ হয়েছে সে বিষয়ে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বলেন, এই বিনিয়োগের সুফল আপনারা পাবেন, যদি আত্মতৃপ্তিতে না ভোগেন। কারণ সামনের দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে। জাতীয় কর্ম পরিকল্পনার আওতায় কারখানাগুলোর সংস্কার কাজ শেষ করা ও সংস্কারে অর্জিত অগ্রগতি বজায় রাখা।
বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকার শ্রমবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশে অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে, প্রবৃদ্ধি এখন ৮ শতাংশের কাছাকাছি। সম্প্রতি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিন ধাপে ৩৮১ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ বিগত বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পণ্যের মূল্য কমেছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা যেন ‘ফেয়ার প্রাইস’ দেন তা দেখার জন্য বার্নিকাটের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল রাখার আহ্বানও জানান তিনি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া পর্যন্ত মার্শা বার্নিকাট সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও আশা করেন সিদ্দিকুর। বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, মার্শা বার্নিকাট বাংলাদেশ ও দেশের পোশাক খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। ২০১৪ সালের শেষার্ধে তিনি এমন সময় এসেছিলেন যখন রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর শিল্পটি হুমকির মুখে পড়ে। পোশাক শিল্পের সেই সংগ্রামমুখর সময়ে তিনি শিল্পের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছেন।