পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

এশিয়াডে কাতারকে হারিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে যে নতুন করে জাগরণ তৈরি হয়েছিল তা অব্যাহত আছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও। প্রথম ম্যাচেই তাড়িয়েছিল ভুটানের ভুত। জয় পেয়েছিল ২-০ গোলে। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৮৫ মিনিটে তপু বর্মনের দেয়া একমাত্র গোলে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ বীজ বপন করেছে শিরোপা জেতার। টানা দুই জয়ে সেই চারা ক্রমেই ফুটতে শুরু করেছে। সেমির পথে এক পা দিয়েই রেখেছে। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে লাল-সবুজের দেশটি। শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ নেপালের বিপক্ষে। বাংলাদেশর প্রয়োজন শুধু ড্র। হারলেও সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে না। ভুটানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে নেপালও সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে।

এদিকে পাকিস্তান শেষ ম্যাচ খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। সেমিতে খেলতে হলে তাদের জিততে হবে। আবার গোল গড়ের বিষয়টিও রাখতে হবে মাথায়। নেপাল ও পাকিস্তান নিজ নিজ ম্যাচে জিতলে এই দুই দলের সঙ্গে বাংলাদেশের পয়েন্টও সমান হয়ে যাবে। তখন গোল গড়ে গ্রুপের স্থান নির্ধারণ করা হবে। তবে যেভাবে বাংলাদেশ খেলছে তাতে করে শেষ ম্যাচে নেপালও পাত্তা পাওয়ার কথা নয়।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ উইনিং কম্বিনেশন নিয়ে মাঠে নামেনি। ভুটানের সঙ্গে খেলা সেরা একাদশে একটি পরিবর্তন ছিল। রক্ষণভাগের আতিকুর রহমান ফাহাদের পরিবর্তে ইংলিশ কোচ জেমি ডে একাদশে রাখেন অভিজ্ঞ মামুনুল ইসলামকে। প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারানোর পর এদিন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম দর্শকে প্রায় ভরে উঠেছিল। প্রথম ম্যাচের চেয়ে এ ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। জয়ী হওয়াতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে তারা ফিরেছেন ঘরে।

বাংলাদেশ জিতলেও প্রথমার্ধে নিজেদের খুব একটা মেলে ধরতে পারেনি। এই অর্ধে আধিপত্য বেশি থাকলেও গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উপরন্তু গোল হজম করতে যাচ্ছিল। কিন্তু গোল রক্ষক সোহেলের দৃঢ়তায় রক্ষা পায়। ৯ মিনিটে পাকিস্তানের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আলীর হেড গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল লাফিয়ে ফিস্ট করে রক্ষা করেন। ২৯ মিনিটে সাদ উদ্দিন একটি সুযোগ করেন। তপু বর্মনের কাছ থেকে পাওয়া বল বাইরে মারেন। ৩৮ মিনিটেও সাদ উদ্দিনের আরেকটি চেষ্টা সফল হতে পারেনি। ৪০ মিনিটে মাসুক মিয়া জনি ও ৪২ মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলের চেষ্টা সফলতার মুখ দেখেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে বাংলাদেশ নিজেদের গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করে। তারা সফলও হয়। যদিও গোলের মুখ দেখতে পারেনি। কিন্তু নিজেদের পায়ে বল রেখে পাকিস্তানকে চাপে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলপতি জামাল ভুইয়ার ফ্রি কিক গোলরক্ষক ইউসুফ বাট গ্লাভসবন্দি করেন। ৫৫ মিনিটে আবার ভুটানের ম্যাচের মতো ভুলে রক্ষণের টুটুল হোসেন বাদশার গোল হজম করতে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। বাঁ দিকে থাকা বাদশা বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান আলি। তার নেয়া তীব্র শট গোলরক্ষক সোহেল রক্ষা করেন।

আগের ম্যাচের ২৫ মিনিটের সময় বাদশার ভুলে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়েছিলেন চেঞ্চু। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পানেননি। ৫৮ মিনিটে বিপলুর শর্ট পাকিস্তানের গোলরক্ষক কর্নার করে রক্ষা করেন। ৬৯ মিনিটে ওয়ালি ফয়সালের কাছ থেকে বলে মাসুক মিয়া জনি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ৮০ মিনিটে মামুনুল ইসলামের ডান পায়ের শট রক্ষণের খেলোয়াড় দ্ধারা বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের অব্যাহত চাপের মুখে অবশেষে গোলের মুখ দেখে ৮৫ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের লম্বা থ্রো থেকে একজন খেলোয়াড় হেড করার পর দ্বিতীয় বার দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় তপ বর্মন তড়ি দৌড়ে এসে মাথা লাগিয়ে গোল করার পর গোটা গ্যালারি বসা থেকে উঠে উৎসবে মেতে উঠে। এই উৎসবের মাঝেই রেফারি বাজান শেষ বাঁশি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.