বাংলাদেশের জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব

untitled-1মহিউদ্দিন আহমদ
রামসুন্দর বসাকের নাম বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের জানার কথা নয়; জানার কথা নয় তাদের বাবা-মায়েরও। কিন্তু আমরা যারা সত্তরোর্ধ্ব তাদের রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্য শিক্ষা’ নামের চটি বই বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের মানুষজনের লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। প্রায় বাজারে হাটবাজারের দিন ছোটখাটো দোকানদাররাও মাটিতে মাদুর বা এ জাতীয় কিছু বিছিয়ে বিক্রির  জন্য অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর সঙ্গে ‘বাল্য শিক্ষা’ও রাখতেন। দাম বোধহয় তখন এক আনাই ছিল। দুই-চার মাইল অন্তর গ্রাম-গঞ্জের যে দু’ একটি টোল বা স্কুল ছিল সেখানে ‘বাল্য শিক্ষা’ দিয়েই বাংলা পাঠ শুরু হতো। খুব নিম্নমানের নিউজপ্রিন্ট জাতীয় কাগজে ৩০-৪০ পৃষ্ঠার এই বইয়ের শুরুতে বাংলা বর্ণমালা থাকত। তারপর অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে সপ্তাহের দিনগুলো, বছরের বাংলা মাসগুলো, ফুল-ফলের নাম কবিতা বা পদ্য আকারে ছাপা হতো। গ্রাম-গঞ্জের শিশুরা সুর করে এই ‘বাল্য শিক্ষা’ বইটি বলতে গেলে মুখস্থ করে ফেলত। তারপর যাদের সামর্থ্য ছিল তারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য দূরে হাইস্কুলে এবং আরো পরে আরো দূরে কলেজে ভর্তি হতো।
আমার আব্বা আট মাইল হেঁটে গিয়ে স্কুলে পড়তেন, আমি গিয়েছি চার মাইল দূরের স্কুলে। আমার বাড়ির ছেলেমেয়েরা এখন সকালে স্কুলে যায়, দুপুরে স্কুল ছুটি না হয়ে গেলে দুপুরে বাড়িতে খেয়ে বিকেলের স্কুলে আবার ফিরে যায়। স্কুলের সংখ্যা অনেক অনেক বেড়েছে, দূরত্বও তাই কমেছে। আমাদের ফেনীর জিএম গঙ্গাধর মজুমদারহাটে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত যে মাইনর স্কুলটি নব্বই বছর আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এখন সেখানে কলেজ হয়েছে। হয়েছে আরো পাঁচটি প্রাইমারি স্কুল এক বর্গকিলোমটারের মধ্যে। একটি গার্লস হাইস্কুল আছে এখানে এখন।
এই ব্যাকগ্রাউন্ডে এখন যদি শিক্ষার বিস্তার নিয়ে ভাবি তাহলে দেখা যাবে আমাদের এই ক্ষেত্রে প্রভূত অগ্রগতি ঘটেছে প্রত্যাশিতভাবেই। স্বাধীনতার পর আমাদের প্রতিটি সরকার শিক্ষা বিস্তারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। কারণ দুনিয়াব্যাপী এই কথাটি স্বীকৃত যে, শিক্ষা ছাড়া কোনো ধরনের উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্ভব নয়। জ্ঞান বিজ্ঞানে সতত পরিবর্তনশীল এই দুনিয়ায় তাল এবং মিল রাখতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার এবং গুরুত্ব দিতেই হবে। দুনিয়ার প্রায় দেশেই এই গুরুত্বটা লক্ষণীয়। ধর্মান্ধ পাকিস্তানেও মালালা ইউসুফ জাইয়ের কথা মনে পড়লে ওখানকার সাধারণ মানুষজনও শিক্ষাকে কেমন গুরুত্ব দিচ্ছে তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
শিক্ষা বিস্তারে মাতৃভাষার গুরুত্ব নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশেও যে আমরা শিক্ষা বিস্তারে এতটুকু অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছি তার পেছনেও বাংলায় শিক্ষাদান প্রধান কারণ। আমাদের বাবারা তাদের স্কুলজীবনে ক্লাস ফাইভ থেকে ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ক্লাসেও বাংলা ভাষায় শিক্ষাদান চলছে; বাংলা ভাষায় অধ্যাপক সাহেবরা বক্তৃতা দিচ্ছেন, বাংলা ভাষায় প্রশ্ন হচ্ছে, ছাত্রছাত্রীরাও তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর বাংলা ভাষায় পরীক্ষার হলে লিখছে। নিশ্চয়ই বাংলা ভাষার অনেক অগ্রগতি ও উন্নতি ঘটেছে বলেই এটি সম্ভব হচ্ছে। অনেক বিদেশি শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ আকসার ব্যবহৃত হচ্ছে, কথাবার্তায় লেখালেখিতে বক্তৃতা-বিবৃতিতে। সুতরাং যারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, বাংলা ভাষার অগ্রগতি থমকে গেছে আমি তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করি না। ভাষাকে প্রায় বহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রয়োজনে নতুন কিছু গ্রহণ করা হবে, আবার অপ্রচলিত কথাবার্তা-শব্দ হারিয়ে যাবে বা ডুবে যাবে। ব্যক্তিজীবন থেকেও বলতে পারি আমার শিক্ষক বাবা কোনোদিন সেই শৈশবে যুক্তাক্ষর পড়তে দিতেন না। তার যথার্থ কারণ হিসেবে তিনি আমাদের বোঝাতেন, ‘বাল্য শিক্ষা’ বইটির ‘শীতকালে কুজ্ঝটিকা হয়’ বাক্যের কুজ্ঝটিকা শব্দটি পরের জীবনে মাত্র হয়তো দু-একবার ব্যবহার করতে হতে পারে। সুতরাং পরে কখন কোন পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহার করবে, সেই কারণে শিক্ষা জীবনের শুরুতেই অতি কচি বয়সে এত শক্ত একটি শব্দ শেখার কোনো কারণ নেই বরং এই শব্দটি শিখতে গেলে বারবার ধাক্কা খেতে হবে। সুতরাং এমন যুক্তাক্ষর সম্ভব হলে সব সময় বর্জন করা উচিত। আমার বাবা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন, ১৯১৮ সালে তিনি এনট্রাস পাস করেছিলেন। সুতরাং তার চিন্তাধারা এবং শিক্ষাদান পদ্ধতি ভিন্নতর ছিল। আমিও আমার গত বিশ বছরে এই কলাম লেখক জীবনে যুক্তাক্ষর যেখানেই সম্ভব পরিহার করার চেষ্টা করেছি।
বাংলা ভাষার এই যে প্রচলন এবং প্রসার অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি এবং ভারতের পশ্চিম বাংলা ও ত্রিপুরা-আসামের বাংলাভাষী লন্ডন-নিউইয়র্ক এবং অন্যান্য দেশে অবস্থিত প্রায় ৩৫ কোটি বাঙালির এই ভাষাটি থেমে থাকবে তা চিন্তাই করা যায় না বরং আমরা যেমন এখন আর বঙ্কিমী ভাষা ব্যবহার করি না তেমন অপ্রচলিত এবং কঠিন ভাষা প্রয়োগ থেকে সহজতর এবং সহজপাঠ শব্দ এবং ভাষা ব্যবহারে আমরা এগিয়ে যেতেই থাকব বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলা ভাষায় এখন রক গানও হচ্ছে, বাংলা ভাষা কম্পিউটার জগতেও প্রবেশ করছে। সুতরাং বাংলা ভাষা নতুন নতুন গবেষণায় আরো নতুন নতুন ক্ষেত্রেও অবদান রেখে যাবে বলে বিশ্বাস করি। <br>তবে একটি ক্ষেত্রে আমার মনে হয় এখনো পেছনে আছি। আমাদের হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে রায়গুলো কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া ইংরেজিতে দেয়া হচ্ছে। যারা মামলা করে পক্ষে রায় পেলেন বা মামলা হারলেন, তিনি যদি তেমন শিক্ষিত না হয়ে থাকেন তাহলে তিনি বুঝতেই পারলেন না তিনি কী কারণে মামলায় হারলেন বা জিতলেন। ইংরেজি রায় দেয়ার পক্ষে একটি যৌক্তিক কারণ হচ্ছে, আমাদের বিচার ব্যবস্থাটি ব্রিটিশ শাসকদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। সুতরাং আইন-কানুন ও বিধি বিধানগুলো ব্রিটিশরা প্রথমে ইংরেজিতেই প্রণয়ন করেছিল। আইনে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য আমাদের লোকজন যখন ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ড গিয়েছেন তখন তারাও ইংরেজিতেই পড়েছেন, ইংরেজিতেই শিখেছেন। সুতরাং সেই ধারাটি এখনো কিছুটা অব্যাহত আছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, ইংরেজিতে রায়গুলো লেখা হলে ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থা যে সমস্ত দেশে প্রচলিত যেমন ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা, সেখানকার আদালতগুলোতে বিচার্য মামলার পক্ষে বা বিপক্ষে আমাদের রায়গুলো উদ্ধৃত করা যায়। যেমনটি করা হয় আমাদের হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে ভারত এবং পাকিস্তানের উচ্চতর আদালতগুলোর রায়গুলো। বাংলায় যদি আমাদের উচ্চতর আদালত রায় লিখেন সেগুলো তাহলে তো আর ওই দেশের উচ্চতর আদালতে ঠিকমতো উদ্ধৃত করা যাবে না। আর একটি উদাহরণ এই পর্যায়ে প্রাসঙ্গিক মনে করি। আমাদের দেশের একটি নামকর১ রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ‘এসেট’ তার নির্মিত শত শত বিল্ডিংয়ের কোনো একটিরও নাম বাংলায় রাখেনি। তাদের ঘোষিত নীতি অনুসারেই নাকি কোনো প্লট মালিক তার নির্মিতব্য বিল্ডিংয়ের নাম বাংলায় রাখতে পারবেন না। এমনকি প্রস্তাবও করতে পারবেন না। আমার জানা মতে, এই একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রীতিমতো বাংলাবিদ্বেষী। আমাদের বাংলা একাডেমি বা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাংলা ভাষা বিভাগ এই বিদ্বেষের কারণ জানতে চেয়ে ‘এসেট’ কোম্পানির মালিক-মোক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথাটি সত্য হলে নীতিটি বাদ দিতে বাধ্য করতে পারেন।
আমাদের দেশে যে দোকানপাটগুলো আছে, বিশেষ করে সাম্প্রতি চেইন স্টোরগুলোতে প্রায় হিন্দি-ইংরেজি কদাচিৎ বাংলায় গান বা মিউজিক বাজতে শুনি। এই স্টোরগুলোতে তো বাংলা গান বা মিউজিক অনেক শ্রুতিমধুর হবে বলে মনে করি। স্টোর মালিকদের যে সংগঠনটি আছে তাদের অনুরোধ করলেই বোধহয় এখানে সাফল্য পাওয়া যাবে।
এক সময় আমাদের বাসগুলোতে মাওলানা সাঈদীর ওয়াজ বাজতে থাকত। এখন আর সেই ওয়াজ নেই তবে আছে হিন্দি গানের দাপট এবং প্রতাপ। এই বাসগুলোর মালিক সংগঠনকে যদি আমাদের বাংলা একাডেমি বাংলা গান বা হালকা মিউজিক বাজাতে অনুরোধ করে তাহলে আমার ধারণা, বাসমালিকদের সংগঠনটি এই অনুরোধ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করবে। বাংলা একাডেমি বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাংলা ভাষা বিভাগগুলো আলাদাভাবে বা সম্ভব হলে যৌথভাবে এই সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে দেখা করে সামনা-সামনি অনুরোধ করলে তা আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে হয়।
ইংরেজি ভাষার গুরুত্বও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা কোনোভাবেই খাটো করে দেখতে পারি না। ইংরেজি ভাষীর সংখ্যা চীনা বা হিন্দি ভাষীদের তুলনায় কম-বেশি হলেও ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব কিংবা প্রাধান্য সাহিত্য-সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় দুনিয়ার শীর্ষ স্থানেই আছে। যা কিছু আধুনিক প্রযুক্তি দিন দিন আমাদের সমৃদ্ধ করে চলেছে তার বেশিরভাগই তো আমেরিকা-যুক্তরাজ্য-কানাডা-অস্ট্রেলিয়াতেই ঘটছে। এসব দেশের ভাষা যেহেতু ইংরেজি সুতরাং এসব প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে হলে আমাদের তো ইংরেজিতেই এগুলো শিখতে এবং জানতে হবে। হতে পারে কয়েক বছর বা দশক অপেক্ষা করলে এগুলো অন্য ভাষাতেও পাওয়া যাবে। কিন্তু বাংলা ভাষায় তো এত দ্রুত এগুলো পাওয়া যাবে না। আমাদের দেশের প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের গবেষণায় মাঝে মাঝে চমক দেখি তা তো তারা বিদেশে থেকে ইংরেজিতেই পাচ্ছে; তারা ইংরেজিতেও চর্চা করছে। এই ধরনের আরো সাফল্যের জন্য তাদের তো ইংরেজি ভাষাতেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
আমাদের দেশের প্রায় ৭০-৮০ লাখ লোক বিদেশে কাজ করে। বছরে তারা বৈধপথেই ১৫ বিলিয়ন ডলার, এক ডলার ৮০ টাকা হিসেবে একশ’ বিশ হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠাচ্ছে। এক হিসাবে দেখলাম উন্নত দেশগুলো থেকে এখন প্রতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চারশ’ সাতাশ বিলিয়ন ডলার পাঠানো হচ্ছে। আবারো বলি, আমরা এখন পাচ্ছি মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং আমাদের প্রাপ্তিটা বলতে গেলে অল্পই। ভারত পাচ্ছে প্রতি বছর ৭০ বিলিয়ন ডলার; চীনও কাছাকাছি অংকের টাকা প্রতি বছর বিদেশ থেকে পেয়ে থাকে।
আমাদের পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ ফিলিপিন্স পায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। বিদেশে ওই দেশের কর্মী সংখ্যা ১ কোটির মতো। বিদেশ থেকে আসে তাদের রেমিট্যান্স আমাদের প্রায় দ্বিগুণ; অথচ তাদের মোট জনসংখ্যা দশ কোটি, এর  বিপরীতে আমাদের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। সুতরাং আমাদের লোকসংখ্যা বিদেশে বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদেশে আমাদের লোকসংখ্যাও কম, রেমিট্যান্সও সেই তুলনায় কম। এছাড়া আমাদের মানুষজন নিম্নহারের বেতন-ভাতায় কাজ করে থাকে। কারণ তারা দক্ষ শ্রমিক নয় এবং ইংরেজি বা স্থানীয় ভাষায় দক্ষ নয়। এই প্রসঙ্গে ফিলিপিন্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ফিডেল রামোসের একটি মন্তব্য এত বছর পরও আমার মনে দাগ কেটে আছে। ১৯৯৮ সালে ফিলিপিন্সের স্বাধীনতার একশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বিবিসি টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। ফিলিপিনো কর্মীদের বিদেশে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট রামোস বলেছিলেন, ‘বিদেশে আমাদের দেশের কর্মীরা স্বাছন্দ্যে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে; কারণ ছোট কাল থেকে তারা ইংরেজি ভাষায় অভ্যস্ত। তারপর তারা সবাই স্বাস্থ্যবান এবং তারা উচ্চতর স্কেলের কাজগুলোই করে থাকে। তাই বিদেশে তাদের চাহিদা বেশি। তারা দেশে বেশি টাকাও তাই পাঠাতে পারে; আমাদের অর্থনীতির জন্য তা একটি বড় অবদান।’
ব্যক্তিগত জীবনে আমি সৌদি আরবে আমাদের দূতাবাসে কাজ করার সময় তো প্রত্যক্ষও করেছি। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষজনের চাইতে চাকরিদাতারা ফিলিপিনোদের অগ্রাধিকার দিতেন। ইংরেজি ভাষা জানাটা তেমন কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়। অন্য যে কোনো ভাষা শিখতে যদি ছয় মাস লাগে, ইংরেজি ভাষা শিখতে তার চাইতে বেশি লাগার কথা নয়। বিদেশে চাকরির আকর্ষণে আমাদের দেশের মানুষরা এখন কত রকমের ভাষাই তো শিখছে-আরবি, কোরিয়ান, জাপানিজ, চীনা ইত্যাদি। সুতরাং বিদেশে চাকরির খোঁজে দৈনিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে ইংরেজি শেখা এমন কোনো দুরূহ অভিযান তো নয়।

লেখক : সাবেক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এসএস