বহিরাগত কর্মচারীদের দাপটে চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

বহিরাগতদের দিয়ে চালানো হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নতুন ভবনের কর্মচারীদের কাজ। হাসপাতালের নতুন ভবনে চালু হওয়া প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কাজগুলো চালানো হচ্ছে বহিরাগতদের দিয়ে। এতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, এমনিতেই হাসপাতালের নিয়োগ দেয়া কর্মচারীদেরও টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়। কিন্তু বহিরাগত এসব কর্মচারীকে দিতে হয় দ্বিগুণ টাকা। তারপরও তাদের দিয়ে ঠিকমতো কাজ করানো সম্ভব হয় না। বরং তারা নানাভাবে রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করার চেষ্টা করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের নতুন ভবনের মোট ১৬টি ওয়ার্ড চালু রয়েছে। এতে তিন সিফটে মোট ৪৮ জন বহিরাগত কর্মচারী ডিউটি করছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা, বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা এবং রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এরা ডিউটি করে থাকেন।

জানা গেছে, হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার রিয়াজ, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী রমিজ ও দিনা বহিরাগত প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে এই কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন ডিউটি শেষে আবার প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে জমা নিচ্ছেন তারা। আর এই টাকার জোগাড় করতেই এসব কর্মচারী রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করছেন।

শুধু তাই নয়, তারা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির লোকজন, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, ব্লাড ব্যাংকের দালালী, হাসপাতালের সিট বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্মের আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে তাদের আরো সহযোগিতা করছেন হাসপাতালের সুইপার মো. আলম, কর্মচারী মনহর আলী, আব্দুল হাকিম ও আবু হানিফ সরদার।

জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ক্যাথাটার লাগানোর জন্য দুই থেকে ৩শ’ টাকা করে আদায় করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ক্ষত স্থান ড্রেসিং, ময়লা পরিষ্কারসহ প্রতিটি কাজেই কয়েক গুণ টাকা আদায় করা হয়ে থাকে। রোগীদের সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রয়েছে বহিরাগতদের হাত। এখানেও তারা সিট প্রতি ১০০০ টাকা করে আদায় করে থাকেন। আর সিট না থাকলে ফ্লোরে থাকার ব্যবস্থা করার জন্য নিয়ে থাকেন ৩ থেকে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত। এভাবে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা অবৈধ উপায়ে আয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের লাইনের পানিও মিনারেল ওয়াটার বলে বিক্রি করা হচ্ছে রোগীদের কাছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে কোনো রোগী মারা গেলে তার রক্ষা থাকে না। লাশ বহনের জন্য এই চক্রকে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে তাদের গাড়িটি ভাড়া করতে হয়। অন্যথায় হাসপাতাল থেকে লাশ বহন করার সাধ্য কারো থাকে না।

হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েক কর্মচারী জানান, সরকারদলীয় কয়েক কর্মচারী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে এসব বহিরাগতদের কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস সাধারণ কর্মচারীদের নেই।

এ ব্যাপারে জানতে কর্মচারী নেতা রিয়াজ ও রমিজের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ