বসন্তের কোকিল

আগামী সংসদ নির্বাচন নিকটে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বাজতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া। সংবিধানের বিধান অনুসারে আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ সংসদ নির্বাচন। সেই হিসেবে আরো প্রায় চার মাস হাতে রয়েছে নির্বাচনের জন্য। ফলে বড় এই দল দুটির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মাঠে গণসংযোগ বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। দুই রাজনৈতিক শিবিরে প্রকাশ্য ও গোপনে চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। রাজনৈতিক দলের এই প্রস্তুতির মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজেদের প্রস্তুত করে তুলছেন। ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে এবারের ঈদকে বেছে নিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। এই তালিকায় বর্তমান সংসদ সদস্যরা তো রয়েছেনই পাশাপাশি এলাকাবাসীর কাছে নিজেকে মেলে ধরতে ছুটছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতারাও। ঈদকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়ে জানান দেয়ার পাশাপাশি তারা ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঈদের দিনে রাজনৈতিক নেতাদের গণসংযোগমূলক কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে এই চিত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখী তৎপরতায় এ গন্ধ যেন ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। জমজমাট হচ্ছে নির্বাচনী আমেজ। এত দিন যারা এলাকার কথা মনে করতে সময় পাননি, তাদেরও ঘুম ভেঙেছে। চোখ কচলাতে কচলাতে হাজির হয়েছেন এলাকায়। তবে সবার ক্ষেত্রে সমভাবে বাক্যটি প্রযোজ্য নয়। ব্যতিক্রমও আছে। ব্যতিক্রম কখনোই উপমা হয় না। এ ক্ষেত্রে বসন্তের কোকিলরাই উপমা।
ঈদের আমেজ নির্বাচনী আবহাওয়াকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। উপলক্ষ ঈদ। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কোনো বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া একসঙ্গে এলাকার এত মানুষের একত্রে দেখা পাওয়াটা প্রকৃত অর্থেই বিরল ঘটনা। আবার এদের অধিকাংশই এক-একজন ভোটার। যারা আগামী নির্বাচনে ভোট দেবেন। এই ভোটের কারণেই এলাকার সাধারণ মানুষ এবারের ঈদে কিছুটা হলেও বেশি মর্যাদা পাবে বলে সবার ধারণা। এলাকার কর্ণধাররা ভোটের স্বার্থে এ মর্যাদা দিতে কার্পণ্য করছেন না। নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে আনন্দঘন ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে তাদের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। যে কোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদ অনেক বেশি উৎসবমুখর। বিশালাকৃতির পশু কোরবানির মধ্য দিয়েও নজর কাড়তে চাইছেন অনেকে। বেশিরভাগ প্রার্থী ঈদকে সামনে রেখে নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভূরিভোজ করানোর প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। আর সে কারণেই এবারের ঈদে রাজধানীর চেয়ে গ্রামীণ জীবনে গরুর কদর বেড়েছে। অনেকের মতে, গ্রামের পশুরা এবার জাতে উঠতে পেরেছে।
এবারের ঈদকে অনেকেই দেখছে একটু অন্যভাবে। তারা বলছে, রথ দেখা ও কলা বেচার মতো মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এবারের ঈদে রথও দেখবেন, কলাও বেচবেন।
মেলায় এলে কিছু খরচ তো আছেই। আর সে খরচে মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও কোনো অনীহা নেই। তারাও তৈরি। অন্যবারের চেয়ে প্রার্থীরা এবার আর্থিক অনুদান এবং উপহার হাতে চষে বেড়াচ্ছেন নিজ নিজ এলাকা। যদিও নির্বাচনী আইনে এভাবে অনুদান বা উপঢৌকন দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সামনে নির্বাচন হলেও ঈদকে সামনে রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা নেই। আর সে সুযোগটাকে কেউই হাতছাড়া করতে রাজি নন। নিয়মিতভাবে নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় তারা ঈদের দিনও নির্বাচনী এলাকার গিয়ে ঈদের জামাত আদায়সহ জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। অনেকটা বসন্তের কোকিলের মতো। ঈদকে সামনে রেখে এবারের উৎসব গ্রামীণ জীবনে যে একটু বেশি করে ঢেউ তুলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। – রাজনীতি ডেস্ক