একান্ত সাক্ষাৎকারে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম

বর্ষার আগেই নদী ভাঙন রোধ প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রথমবারের মতো শরীয়তপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি পানি সম্পদ উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রণালয়ে বসার অভিজ্ঞতাও এবার প্রথম। দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা হতে পারে কি না, বর্তমানে চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটির চৌম্বক অংশ প্রকাশ করা হলো।

মানবকণ্ঠ: দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা হতে পারে কি না?

এ কে এম এনামুল হক শামীম: এ দুটো কাজ করতে গিয়ে আমার কোনো অসুবিধা হবে না। কোনো জায়গায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং সুবিধা আছে। আমি এমন একটা বিভাগে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে আছি যেখানে মন্ত্রণালয়ের কাজ করতে হবে বেশি। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আমার দায়িত্ব চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগে নোয়াখালী, স›দ্বীপ ও হাতিয়া রয়েছে। ওইসব এলাকায় মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ভ‚মিকা থাকা দরকার। তারা আমার পূর্ব পরিচিত। তাদের তো আমি সার্বক্ষণিক পাবই।

মানবকণ্ঠ: নদী মার্তৃক বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে উপমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে কোন জায়গাটাতে প্রথমে হাত দেবেন?
এ কে এম এনামুল হক শামীম: প্রথম রোগ নির্ণয় করব। নদী ভাঙনের বিষয়ে সারাদেশের মানুষেই জানে। আমি একটু বেশি জানি কারণ আমি নদী ভাঙন এলাকার অর্থাৎ শরীয়ত নড়িয়ার মানুষ। ভাঙন রোধ আগে করব। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বসে কোথায় কোথায় কী সমস্যা আছে তা দেখে সংকট নির্ণয় করতে হবে। আপনি জানেন ৫৭টি নদী আছে ৫৪টি ভারতের সঙ্গে এবং ৩টি মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত। সেই বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও কাজ করার বিষয় আছে। তিস্তা আছে। তাই যে কাজগুলো আগে করার দরকার তাই করব।

মানবকণ্ঠ: নতুন দায়িত্বটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কী না?
এ কে এম এনামুল হক শামীম: সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী হিসেবে আমি নতুন কিন্তু রাজনীতিতে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেই স্কুল জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি করি। স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি. স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের আমলে জাগসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ৯৪-৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। তিন তিনবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। এখনো সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এ জায়গাগুলো অতিক্রম করে এসেছি। যখন থেকে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শিখেছি- তখন থেকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই আমরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছি।

মানবকণ্ঠ: পূর্বসূরিদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কীনা?
এ কে এম এনামুল হক শামীম: আমাদের আগে যে মন্ত্রীরা ছিলেন তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শতভাগ সফল। তারা সফল না হলে বাংলাদেশ সফল হতো না। কোনো মন্ত্রণালয়েরই কোনো ব্যর্থতা নাই। সফল না হলে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের এভাবে নির্বাচিত করত না। সেই সফলতা কীভাবে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করব। শেখ হাসিনার নির্দেশেই কাজ করব।

মানবকণ্ঠ: শেখ হাসিনার টানা তিনবারের জয়ের রহস্য কী?
এ কে এম এনামুল হক শামীম: ১৯৮১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসার পর আওয়ামী লীগকে শুধু আওয়ামী লীগের নয়, উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ এবং জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে তিনি পরিণত করেছেন। তিনি নিজেও আজ শুধু বাংলাদেশ আর উপমহাদেশের নন, তিনি বিশ্বের সেরা একজন প্রধানমন্ত্রী। শততা, মেধা এবং যোগ্যতায় শেখ হাসিনার উদাহারণ শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার পথকে সুগম করে দিয়েছেন। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেন নাই শুধু, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, নারীর ক্ষমতায়ন তথা ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তিত করেছেন। সমুদ্রসীমা বিজয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি থেকে শুরু করে আমাদের দেশের যা কিছু অর্জন তিনি সব করেছেন। অন্যদিকে, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল ছিল। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিন্তু নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তারা আজকে জনগণকর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, শততার প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলবার চেষ্টায় তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দুর্নীতিবাজ, আগুনসন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। গত দশ বছরে শুধু উন্নয়নে পরাজিত হয়েছেন এমন নয় আন্দোলনেও পরাজিত হয়েছেন। এ জন্য ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা আন্দোলনে পরাজিত হয় তারা নির্বাচনেও পরাজিত হয়। সে কারণে শেখ হাসিনা শেখ হাসিনাই। সারাদিন বাংলাদেশকে নিয়েই তার চিন্তা। সন্তানকে যেভাবে বড় হওয়ার জন্য বাবা-মা লালন করেন সেভাবেই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে লালন করছেন। সে জন্য শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।

মানবকণ্ঠ: যে দায়িত্ব পেয়েছে তা কতটুকু সফল হবে বলে আশা রাখেন?
এ কে এম এনামুল হক শামীম: আমাকে যে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তার কথা মোতাবেক দায়িত্বের সঙ্গে, শততার সঙ্গে এবং বিশ্বস্থতার সঙ্গে আমি পালন করব। মানুষের সেবা করে যাব। ইনশাআল্লাহ এবং আমরা শতভাগ সফল হব। আমরা যেহেতু শেখ হাসিনার রাজনীতি করি তাই সফলতার বাইরে আমাদের কোনো চিন্তা-চেতনা নেই। আমরা স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই এবং সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি।

মানবকণ্ঠ: দল ও সরকার আলাদা করা হলে উন্নয়নের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কীনা?
এ কে এম এনামুল হক শামীম: এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা ভালো মনে করেন সেটা করবেন। উনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ, দলেও অভিজ্ঞ। তিনি ৩৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি এই দলটিকে কোথায় থেকে তিলে তিলে গড়ে তুলে এই জায়গা নিয়ে আসছেন। দেশকে নিয়ে আসছেন। দেশ ও দলের ক্ষেত্রে যা ভালো হবে তা শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেবেন।

এমপি ও উপমন্ত্রী হওয়ায় এনামুল হক শামীম বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে, কৃতজ্ঞতা জানাই আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সর্বোপরি আমার নড়িয়া ও সুখীপুরের জনগণের কাছে। তারা ভোট না দিলে হয়তো আমার পক্ষে কিছুই হওয়া সম্ভব ছিল না।

মানবকণ্ঠ/এএম