বরিশালে খাল ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ

কয়েক বছর ধরে নগরীর খালগুলো উদ্ধারের বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন দফতরের উদ্যোগে উদ্ধারাভিযান চালানো হলেও ভূমিদস্যুদের কারণে ঐতিহ্যবাহী শোভারানী খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। খাল দখল করে এমনভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে যা দেখলে মনে হবে না এখানে কোনোদিন খাল ছিল। এমনকি ভূমিদস্যুরা ওই সব স্থাপনা থেকে ভাড়াও আদায় করছে। বাস্তবে খাল না থাকলেও কাগজ-কলমে শোভারানী খালের ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যায়। দাবি উঠেছে ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ করে শোভারানী খাল উদ্ধারের।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সামনে শোভারানী খাল ছিল। শোভারানী সেবাইত সম্পত্তি থেকে খালটি যাওয়ায় তার নামে নামকরণ করা হয়। ওই খালটি কীর্তনখোলা নদী এবং সাগরদী খালের সঙ্গে সংযোগ ছিল। এ খাল থেকে ছোট ছোট নৌযান চলাচল করত। ওই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে কিছু ঘর ও দোকানপাট তৈরি করে তা ভাড়া দিয়ে টাকা আয় করছে। ইতিমধ্যেই সেখানে গড়ে উঠেছে পাকা স্থাপনা, দোকান-পাট ও মার্কেট। এসব দোকান ভাড়া ও স্টলের পজিশনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন একটি চক্র। আর এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে ত্রিশ গোডাউন নদীর পাড়ে যাওয়ার রাস্তাটি হয়ে গেছে সরু। তখন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় দুষ্কর হয়ে পড়ে। যানজট হওয়ায় তা সামাল দিতে পুলিশের হিমশিম খেতে হয়। ইতিপূর্বে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ নিলে তা অদৃশ্য কারণে থেমে যায়। অবশেষে ভূমিদস্যুরা দখলকে স্থায়ী করতে মামলা দায়ের করলে সেখানেও হেরে যায়।

স্থানীয়রা জানান, নগরীর অন্য সব খালের মতো এ খালটি উদ্ধারে প্রথম থেকেই অভিযান পরিচালিত হলে খালটি বিলুপ্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। নগরীর অন্য সব খালের মতো এ খালটিও ছিল জনসাধারণের চলাচলের একটা প্রধান মাধ্যম। ভূমিদস্যুরা স্থায়ীভাবে দখল করে নিয়ে খালের ওপর নির্মাণ করেছে পাকা স্থাপনা। এখন বোঝার কোনো উপায় নেই এখানে একসময় শোভারানী খাল ছিল। এ খালটি থাকলে পরিবেশ ভালো থাকার পাশাপাশি বধ্যভূমিতে যেতে সড়কটিও আরো প্রশস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসন খালসহ সরকারি জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে থাকলেও ঐতিহ্যবাহী এই খালটি উদ্ধারে এখনো কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এলাকায় এসব দখলদার ভূমিদস্যুরা ক্ষমতারবলে দখল করে রেখেছে সরকারি শোভারানী খালটি।

এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, একাধিকবার উচ্ছেদেরও উদ্যোগ নিয়ে তা করা সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই জনস্বার্থে এই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এজন্য সবারই সহযোগিতা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিগগিরই যে কোনো মূল্যে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ