বরফ চাপা শহর আওমোরি

বরফ চাপা শহর আওমোরি

পৃথিবীর যেসব শহরে সব চেয়ে বেশি বরফ পড়ে, জাপানের আওমোরি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা। তাই বলে তারা এটাকে অভিশাপ মনে করেন না। বরং তারা এটাকে প্রকৃতির আশির্বাদ বলে মনে করেন। কারণ এ বরফ মৌসুমে এ শহর সাজে অন্যরূপে। এখানকার গাছপালা, ঘরবাড়ি ঢেকে যায় বরফে। পাওয়া যায় প্রচুর সামুদ্রিক মাছ। প্রকৃতির এ রূপ দেখতে এখানে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ছুটে যান।

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় টোহোকু এলাকার উপকূলীয় শহর আওমোরিতে প্রায় তিন লাখ লোকের বসবাস। এ বছর এখানে অনেক বরফ পড়েছে। বার্তা সংস্থা সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এখানে ২১ ফুট উচ্চতার বরফ পড়ে; যা দিয়ে সহজেই দুই তলা একটি বাড়ি ঢেকে দেয়া যায়। প্রতি বছর আওমোরি শহর প্রবল তুষার পাত ও বরফ ঝাড়ের শিকার হয়; যা এখানকার গাছপালা ও ঘরবাড়ি ঢেকে দেয়। একই সঙ্গে এটা পর্যটকদের পছন্দের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কেন এখানে এত বরফ পড়ে? এখানে প্রচণ্ড বরফ পড়ার কারণ হলো প্রতি নভেম্বরে জাপানের ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা চিলি-সাইবেরিয়ার ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যায়। যেহেতু উপকূলীয় পর্বতের ওপর দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হয়; যা পানিকে আর্দ্র করে ফেলে। এ আর্দ্রতা বাড়তে বাড়তে বরফে পরিণত হয়। এরই মধ্যে এ বছরের প্রথম মাসে এখানে ৮ ফুট বরফ পড়েছে। শীতকালে জাপানের কথিত সাগরের প্রভাবে সৃষ্ট তুষার আওমোরি শহর এবং এর শহরতলীতে ঘন বরফের স্তর তৈরি করে। এপ্রিল পর্যন্ত পুরো শহর প্রায় সাদা দেখায়। ছাদ ঢাকা থাকে। পার্শ্বরাস্তা অবরুদ্ধ থাকে। অনেক রাস্তা যেন বরফের দেয়াল ঘেরা থাকে। এসব রাস্তা থেকে বরফ পরিষ্কার করে পরিসেবা কর্তৃপক্ষ।

জুলিয়া মিনাটোয়া এই আওমোরি শহরতলীতে বেড়ে উঠেছেন। মাঝেমধ্যে তার বাড়ির পেছনের উঠানে এত বেশি বড় বরফের স্তর জমে যে তারা নিচতলার অধিকাংশ দরজা ও জানালা ব্যবহার করতে পারেন না। শীতকালে প্রতি বছর, প্রতিনিয়ত প্রতি মুহূর্ত যেন যুদ্ধ করে চলতে হয়। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করা সত্ত্বেও শীতকালে আওমোরি শহর কিন্তু কন্ধ হয়ে যায় না। পক্ষান্তরে এ বরফ এ শহরকে স্কি ব্যবহারকারী ও পর্যটকদের কাছে একটা আনন্দ ভূমিতে পরিণত করে। ফুকুওয়ার মাছের ডিলার ইয়োনে নাত্সুমি বলেন, আওমোরি শহর মাছের জন্য সর্বোত্কৃষ্ট সময় হলো শীত। বিশেষ করে কড জাতীয় বিপুল মাছ এখানে এ সময় আসে ডিম পাড়ার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের টিম রবার্টস সম্প্রতি এখানে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন। তিনি এখানে বেশ কয়েকটি দিন কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা সত্যিই দারুণ জায়গা। এখানকার পর্বত কিছুটা ভিন্নতা তৈরি করেছে। এটা সত্যিই অ্যাডভেঞ্চার।

শীতকালের সাদা বরফ মানুষকে ভ্রমণে প্রেরণা দেয়, উত্সাহ দেয়, কর্ম উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। শীতকালে বরফে ঢাকা এ শহর ভ্রমণ করা বিন্তু কঠিন কিছু নয়। জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে উচ্চ গতির বুলেট ট্রেনে সেখানে যেতে সময় লাগবে তিন ঘণ্টা। সেখানে বিমানেও যাওয়া যায়। আওমোরি বিমানবন্দরে দিনে ২০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। দুই দশকে এখানকার কোনো ফ্লাইট দেরি হয়নি। কারণ ১২০ জনের একটি দল সেখানে উচ্চ ক্ষমতার আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে বরফ পরিষ্কার করে; যাদের বলা হয় হোয়াইট ইমপালস বা সাদা প্রেরণা।

মানবকণ্ঠ/এসএস