বরফের স্বর্গ মানালি

বরফ রাজ্য মানালি। প্রকৃতি তার সব সুন্দর যেন এখানে ঢেলে দিয়েছে পাহাড়ের কোণে কোণে। যারা ঠাণ্ডা আবহাওয়া ভালোবাসেন, তাদেরও হাড় কেঁপে উঠবে মানালিতে বেড়াতে এসে। আর পাহাড়ের গায়ে বরফের শুভ্র আল্পনা, সঙ্গে মেঘের আনাগোনা আপনাকে প্রতিমুহূর্তে মুগ্ধ করবে। পাহাড়ের পাথর কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে বলে মাথার ঠিক ওপরেই টুকরো টুকরো বিশাল পাথরের খণ্ড।
পাহাড় বেয়ে চলতে চলতে হঠাৎ ঢুকে পড়বেন পাহাড়ের ভেতরে। নিকষ কালো অন্ধকার, একটু পরপর বসানো আছে বাতি, তবু যেন অন্ধকার কাটছে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝে যাবেন এখন চলছেন পাহাড় কাটা টানেলের ভেতর দিয়ে। ভয় আর অ্যাডভেঞ্চারের এ এক অন্যরকম অনুভূতি। দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে এভাবেই। তারপর মিলবে আবার দিনের আলো।
মনে হবে এ যেন একই দিনের ভেতর আরেকটি নতুন দিন। মানালির আগেই রয়েছে কুল্লু শহর। কিছুক্ষণ সময় করে ঘুরে নিতে পারেন সেখানেও। আর যারা বিমানে চড়ে মানালি যেতে চান তাদের অবশ্যই কুল্লু বিমানবন্দরে নামতে হবে। গাড়িতে শিমলা থেকে মানালি পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাবে। সময় লাগবে আট ঘণ্টার ওপর।
মানালির মনোরম জায়গাগুলো: মানালির সবখানেই আকাশছোঁয়া পাহাড়, আপেলবাগান, বরফের শুভ্রতা আর মেঘ। তবে সবাই এক জায়গায় সমবেত হতে একটু ভিন্নভাবে উপভোগ করতে কিছু স্থান তো বেছে নিতেই হয় আলাদা করে। সোলাং ভ্যালি, রোথাংপাস, হাদিমবা টেম্পল, মনিকারন তার মধ্যে অন্যতম। বরফের দেশে এসে স্কেটিং তো করতেই হবে। আর তার জন্য আপনাকে যেতে হবে সোলং ভ্যালি। এখানে আপনি নির্ধারিত মূল্যে ভাড়ায় পেয়ে যাবেন স্কেটিংয়ের সবকিছু। নিয়ে নিন আর গড়াগড়ি দিতে থাকুন বরফের মাঝে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। আবার আপনি চাইলে পাখির ডানায় করে ভেসে বেড়াতে পারেন আকাশে।
আপনাকে সহায়তা করতে রয়েছেন অভিজ্ঞ প্যারাগ্লাইডার। তার সঙ্গে প্যারাস্যুটে বসে হাওয়ায় উড়তে উড়তে উপভোগ করুন পাহাড়, গাছপালা, ঘরবাড়ি সবকিছুর ওপর জমে থাকা বরফের শুভ্রতা, তার গায়ে রোদের আলোর ঝিকিমিকি। তবে প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য আপনাকে উঠতে হবে অনেক ওপরে, তার জন্য রয়েছে রুফওয়ে। এটি আপনাকে নিয়ে যাবে প্রায় তিন কিলোমিটার ওপরে। ওপরে উঠেই আত্মহারা হলে চলবে না। পাহাড়ের ওপরে উচ্চতার কারণে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে তাড়াতাড়ি। তাই সবকিছু করতে হবে সময়, নিয়ে ধীরে ধীরে। সোলং ভ্যালিতে ছোট বাচ্চা থেকে শুরু সব বয়সীর আনন্দ উপভোগের জন্য রয়েছে অনেক ধরনের রাইড। তার জন্য আপনাকে নির্ধারিত মূল্যের টিকেট নিয়ে নিতে হবে। সোলাং ভ্যালি দেখা শেষ করে চলে যান রোথাংপাস। মানালি থেকে রোথাং পাস যেতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার বেশি, রাস্তাও বেশ দুর্গম। রওনা দেয়ার আগে ভালোভাবে জেনে নিন রাস্তার অবস্থা। না হয় আটকা পড়তে পারেন রাস্তার ফাঁদে। রোথাংপাস পৌঁছে উপভোগ করুন বরফের সমুদ্র। কয়েক কিলোমিটার দূরেই চীনের সীমানা হওয়ায় আর সামনে আগানো মানা, তাই রুথাংপাসেই থেমে যেতে হবে আপনাকে। সবকিছু উপভোগ করতে করতে আনন্দে আত্মহারা হলে চলবে না।
মনে রাখবেন আপনি এখন পৃথিবীর ছাদে অবস্থান করছেন। অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে এখানে দ্রুত শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আর হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা হওয়ায় আপনাকে অবশ্যই শীত নিরোধক পোশাক ভালোভাবে চেপে নিতে হবে, প্রয়োজনে ভাড়া করেও নিতে পারেন মানালি থেকে। আর দিনের আলো থাকতেই ফিরে আসুন রোথাংপাস থেকে। পরদিন সকালের নাশতা করে প্রথমেই দেখে নিন হাদিমবা টেম্পল। মূল শহরের কাছেই অবস্থিত এটি। তাই দ্রুত হাদিমবা টেম্পল দেখে চলে যান মানিকারন। সেখানে রয়েছে গরম পানির ঝরনা। পাহাড়ের ভেতর থেকে সব সময় ঝরে পড়ছে গরম পানি। যেখানে ঠাণ্ডায় হার জমে আসে সেখানে এই গরম পানির ঝরনায় গোসল করা এক অন্যরকম আনন্দের ব্যাপার। আর এই বিশেষ কারণেই এটি ভারতের তীর্থ যাত্রীদের কাছে খুবই পবিত্র। হ্যাপি জার্নি ডেস্ক