বদিকে দিয়ে মাদক আর শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ!

সড়কে দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশমালা প্রণয়নে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে গঠিত ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নিয়েও সংসদে প্রশ্ন ওঠেছে। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সদস্য মো. ফখরুল ইমাম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘বদিকে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ, শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ। গতবার শাজাহান খানের একটা হাসি নিয়ে কতকিছু ঘটলো। সেই শাজাহান খানকে প্রধান করে গঠিত কমিটি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা সক্ষম হবে?’

এই প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববারের বৈঠকে যখন শাজাহান খানের নাম প্রস্তাব করা হয়, তখন কেউ কিন্তু বিরোধিতা করেননি। তার নেতৃত্বে আরো ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। এখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়। অতীতে কোনো ব্যক্তির কারণে কোনো সমস্যার উদ্ভব হয়েছে কিনা সেটা আমি দেখব না। আমি দেখব সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কমিটি কি সুপারিশ তৈরি করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবো।

সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই আলোচনা হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রশ্ন উত্থাপনকারী মো. ফখরুল ইমামের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেখুন না, আপনি যতটুকু আশা করছেন তার চেয়েও ভালো রিপোর্ট আসতে পারে।’ পরে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে সরকার দলীয় এমপি শামীম ওসমান এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘শাজাহান খান একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার হাসির জন্য ঘটনা ঘটেছে নাকি ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, সেটা দেখার বিষয়।’

সরকারি দলের সদস্য সাইফুজ্জামানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ডিভাইডারই একমাত্র সমাধান নয়। এখানে চালক, পথচারী ও যাত্রীদের সচেতনতাও জরুরি। কারণ রাস্তায় দেখা যায় ফুটওভার ব্রিজ থাকার পরেও ডিভাইডার দিয়ে লাফ দিয়ে মানুষ রাস্তা পার হচ্ছেন। মহিলারা বাচ্চা কোলে নিয়ে রাস্তা পার হয়। এমনকি ফ্লাইওভারের এপাশ থেকে ওপাশে হামাগুড়ি দিয়ে মানুষ পার হচ্ছে। মানুষ সড়কে শৃঙ্খলা মানছে না। মানুষের বিবেকটা এখানে খুব জরুরি। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটিও করা হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, যারা ঢাকার রাস্তায় চলাচল করেন তারা দেখবেন মানুষ মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছেন। এরমধ্যে গাড়ি এসে চাকায় পিষ্ট করে দিচ্ছে। এখানে কী শুধু চালককে দায়ী করবেন? অনেক গাড়িচালক ট্রাফিক সিগনাল মানেন না। ভিআইপি হয়ে অনেকে রং সাইডে গাড়ি নিয়ে যান। এটা ঠিক নয়। ভিআইপিরা তো অসাধারণ, তারা যদি রং সাইডে চলেন তাহলে সাধারণ মানুষ কেন রং সাইডে যাবে না! মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, সকল মহাসড়কে ফোরলেনের পাশাপাশি বাইলেন ও ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে। সড়ক মন্ত্রণালয় সেইভাবেই কাজ করছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, চার লেন বিশিষ্ট কাঁচপুর ব্রীজ থেকে মেঘনা ব্রীজ পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য বাই-লেন নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। বর্তমানে জরিপের কাজ চলছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ