বদলে যাচ্ছে জলবায়ু-ঘটছে বিপর্যয়

প্রকৃতির এমন বদলে যাওয়া রূপ এর আগে লক্ষ্য করা যায়নি। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং পরিবেশগত সমস্যা পৃথিবীর উন্নত দেশের চেয়ে প্রকট। যদিও প্রাকৃতিক পরিবেশের এহেন অবস্থার জন্য উন্নত দেশগুলোই বেশি দায়ী। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার ঋতুবৈচিত্র্য আজকাল কোনো নিয়ম মেনে চলে না। আর এ ধরনের অনিয়ম মানুষের জীবনযাত্রাসহ দেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে, যা আগে দেখা যায়নি।

একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, ২০১৬ সালের তুলনায় পরের বছর বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে গেছে বেশি অর্থাৎ ২০১৭ সালের এপ্রিলে হাওরের বন্যা, আগস্টে উত্তরাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা এবং দেশে পাহাড় ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অধিক ঘটেছে। এ কারণে হাওরে বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের আমন ধান তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। দেশ হয়েছে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ বন্ধে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে অর্থ বরাদ্দে আজও তেমন সাফল্য অর্জিত হয়নি।

আইনি কাঠামো বাস্তবায়নে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যে আসেনি অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোকে সাহায্য প্রদান এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা লাঘবে অধিকমাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী ও উন্নত দেশগুলোকে অভিযোজন কার্যক্রমে জোরালোভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান কার্যকর হয়নি। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এক অঙ্গীকারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি যাতে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে কম থাকে, সে ব্যাপারে সব দেশ একাত্মতা ঘোষণা করে।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে একটি আইনি বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তিতে পৌঁছানো, অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা এবং পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করাই ছিল গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের উদ্দেশ্য। তবে এখনো আশানুরূপ তহবিল জোগাড় করতে সক্ষম হয়নি জিসিএফ। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সাল ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম বছর।

এ সময় সমুদ্রের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রাও অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে উন্নয়নের অভিযাত্রায় বায়ুমণ্ডলে অনবরত কার্বন নিঃসরণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। জলবায়ুর এমন পরিবর্তনের ফলে অদূর ভবিষ্যতে ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও সমুদ্র উপকূলবর্তী বদ্বীপ অঞ্চলগুলো টিকে থাকবে কি-না সন্দেহ। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া আবহাওয়া, প্রাকৃতিক পরিবেশের দ্রুত ঘটা আমূল পরিবর্তন-সহজেই চোখে ধরা পড়ে। জানা গেছে, এল নিনোর প্রভাবজনিত কারণে বাংলাদেশেও আবহাওয়ার তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এল নিনো হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরিভাগের জলরাশি তাপমাত্রার নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে গড়মাত্রার তুলনামূলক বিশ্লেষণ। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে প্রবল তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এল নিনোর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

আমেরিকার ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। জলবায়ুর আমূল পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও খরার প্রবণতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে কখনো খরায় মাঠঘাট, ক্ষেতের ফসল পুড়ে ছারখার হয়ে যায়, কখনোবা অতিরিক্ত জোয়ার এবং জলোচ্ছ্বাসের লবণাক্ত পানি ভূখণ্ডে ঢুকে ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ঋতুচক্রের অস্বাভাবিক পরিবর্তনে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে শ্যামল বৃক্ষরাজি, পশুপাখি। জীবজগতে পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব। শুকিয়ে যাচ্ছে হাওর, বিল, খাল।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গেল ৫০ বা ১০০ বছরের পরিসংখ্যান বিবেচনায় আগামীতে বাংলাদেশে ব্যাপক অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, অসময়ে প্রবল বন্যা, মরুময়তা, ঘূর্ণিঝড়, নিম্নচাপ, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় ২২ শতাংশ কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে দেশে খাদ্যাভাবসহ নানা অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত জুনে দেশব্যাপী প্রবল বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা দেশবাসীকে শোকাহত ও আতঙ্কিত করে তোলে। আলোচনায় উঠে আসে ভূমিধসের নানা কারণ। বৃক্ষনিধন, পাহাড়-টিলা কেটে অপরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা- এসব কারণে ভূমিধসের ঘটনা বাড়ছে। অর্থাৎ মনুষ্যসৃষ্ট কর্মকাণ্ড প্রকৃতিকে বিরূপ করে তুলছে।

অন্যদিকে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশের ঋতুগুলো ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। প্রকৃতির পরিক্রমায় দেশে এখন হেমন্তকাল। এ বছর গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম আর ঝুমবৃষ্টিতে কেটেছে শরতের প্রায় পুরোটা সময় এবং তা হেমন্তকেও গ্রাস করেছে। এবারের শরৎ ও হেমন্তে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা যেন ভরা বর্ষাকেও হার মানায়। দেশের বেশিরভাগ এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। সাধারণত গ্রীষ্মে এ ধরনের গরম অনুভূত হলেও এবার সেপ্টেম্বরের একটি বড় সময় পর্যন্ত এবং অক্টোবরেও গরম অনুভূত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার এই পরিবর্তন গত ৩০ বছর ধরেই ঘটছে।

আবহাওয়া অধিদফতর ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের (বিসিএএস) আলাদা দুটি গবেষণায় দেশের বৃষ্টিপাতের ধরন বদলের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৩০ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে পাহাড়ধস বাড়ছে। অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে আসছে। প্রাকৃতিকভাবে লবণাক্ত ওই অঞ্চলে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় পানি ও মাটির লবণাক্ততা আরো বাড়ছে। ফলে ওই অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে চা বাগান, বনাঞ্চল ও টিলাভূমি পরিবেষ্টিত সিলেট, মৌলভীবাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও। সেখানে অক্টোবরে বৃষ্টিপাতের পর ভ্যাপসা গরম পড়েছিল। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, সে সময় মাঝে মধ্যে কুয়াশাসহ শীতের আগমনী বার্তা উঁকি দিয়েছে। এর মধ্যেও ভ্যাপসা গরম আর বৃষ্টিপাত কোনোটিই ছেড়ে যায়নি। আবহাওয়ার এই তারতম্যের বিষয়টি বৈরী জলবায়ুর প্রভাব বলেই সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

শীতকালে শীত কমে যাওয়া, বৈশাখের আগেই কালবৈশাখী ঝড়, বর্ষার আগেই বৃষ্টি- এভাবে বদলে যাচ্ছে দেশের ঋতু বৈচিত্র্য। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউট দেশে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা বলছেন, অসময়ের এই বৃষ্টির কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। শুধু বৃষ্টি নয়, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের মতো বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রাও বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে এই শতকের মধ্যে দেশের তাপমাত্রা গড়ে দেড় থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লেই বছরে বোরো ও আমন ধানের উৎপাদন ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে।

অর্থাৎ, প্রায় ৪০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন কমতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সম্প্র্রতি বিশ্বের আটটি দেশকে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়া এবং বড় বন্যার জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সংস্থা ইউএসডিএ গত জুনে বাংলাদেশের ফসল পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রতিবেদনেও এ বছর ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) চতুর্থ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শতকের মধ্যে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে।

দেশের ১৯টি জেলার প্রায় ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ওই ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে প্রায় দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এসব তথ্য থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো, ইতিমধ্যেই জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব শুরু হয়েছে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় আবহাওয়ার পরিবর্তন গোটা ঋতুচক্রের পরিবর্তনেরই লক্ষণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩৬ কোটি কিলোটন কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। এর প্রায় ২৯ শতাংশ চীন এবং ১৪ শতাংশের বেশি কার্বন নির্গত করে যুক্তরাষ্ট্র।

আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ মিলে কার্বন নির্গত করে ৯ শতাংশ। অথচ ক্লাইমেট চেঞ্জ পারফরম্যান্স ইনডেক্স অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য বেশি দায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ওপর। এ দুই দেশ যদি বিদ্যুৎ ও জীবাশ্ম জ্বালানি শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডি-কার্বোনাইজ পদ্ধতি গ্রহণ করে, তাহলে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমে আসার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশে ক্ষরাসহিষ্ণু কৃষিপণ্য উৎপাদন, আধুনিক পদ্ধতিতে শস্য ও বীজ সংরক্ষণসহ কৃষিজমি রক্ষার্থে বনভূমি উজাড়, জলাধার ভরাট, ইটভাটা নির্মাণ বন্ধ করা ভিন্ন বিকল্প নেই। কাজেই বিশ্ব পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বলতে এতদিন বাংলাদেশসহ ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র ও দরিদ্র রাষ্ট্রের নাম শোনা যেত।

কিন্তু আজ তাপমাত্রা অধিক বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের ধনী দেশগুলোও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো এবার ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নামও উঠে এসেছে। এছাড়া বিশ্ব উষ্ণায়ন, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবন ধারার উন্নয়নের নিশ্চয়তা বিধানসহ দেশের সামগ্রিক চলমান অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি নিশ্চিতকরণের জন্য জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, কার্বন নিঃসরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে।- লেখক: লেখক ও কলামিস্ট

মানবকণ্ঠ/এএএম