বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ফের পেছালো

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ফের পেছালো

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের তারিখ ফের পেছানো হয়েছে। এবারের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ মে। আগামী ৪ মে মহাকাশের পথে ওড়ার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির।

বুধবার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সভাকক্ষে টিআরএনবি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট: সম্ভাবনার মহাকাশ’শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, এর আগেও অনেক বার সম্ভাব্য তারিখ পিছিয়েছিল কিন্তু সর্বশেষ ৪ মে তারিখের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এমনকি কার্ডও ছাপার কাজও সেরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু আমরা জানতাম উৎক্ষেপণ বিভিন্ন কারণে পেছাতে পারে। তাই আমরা এর জন্যও প্রস্তুত ছিলাম।

প্রসঙ্গত, এর আগে এটির উৎক্ষেপণ তারিখ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, ৫ এপ্রিল এবং ২৪ এপ্রিল হতে পিছিয়েছে। স্যাটেলাইটটি এখন ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস এক্সের লঞ্চ প্যাডে রয়েছে। সেখান থেকেই উড়বে স্যাটেলাইটটি। এখন দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন ও রেডিও বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়ায় ব্যবহার করে। এতে প্রতি বছর ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে ১১০ কোটি টাকা ভাড়া গুনতে হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে দেশে এ বৈদেশিক মুদ্রারই সাশ্রয় হবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাট-১ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে দুই হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে। এই কৃত্রিম উপগ্রহ স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরণের সেবা দেবে। স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজটি বিদেশে হবে।

এটির নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই। আর এজন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের যন্ত্রপাতিও আমদানি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এরমধ্যে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ কেনা হয়েছে। মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস