বঙ্গবন্ধু পরিবারের মতো ক্রীড়ামোদী পরিবার দ্বিতীয়টি নেই: খালিদ

বঙ্গবন্ধু পরিবারের মতো ক্রীড়ামোদী পরিবার পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতির পিতার পরিবারের প্রায় সব সদস্য ক্রীড়াক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের একক কৃতিত্ব। শুক্রবার জেলার সেতাবগঞ্জ বড় মাঠে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থিত খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে খালিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার সঙ্গে সবসময় ক্রীড়াঙ্গনকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। তরুণ বয়সে অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি একসময় ঢাকার মাঠ মাতিয়েছেন ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের স্ট্রাইকার ফুটবলার হয়ে। ক্লাব ফুটবলে এ দলকে তিনবার চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। স্কুল জীবনেও জাতির পিতা গোপালগঞ্জ ফুটবল ও ভলিবল দলে খেলেছেন।

খালিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে জড়িয়ে আছেন। শেখ কামাল নিজ হাতে গড়েছেন আবাহনী লিমিটেড। তিনি ফুটবল, বাস্কেটবল খেলেছেন। ক্রিকেটেও পারদর্শী ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়ার পরও রাজনীতির চেয়ে খেলাধুলাতেই তার বেশি মনোযোগ ছিল। শেখ কামাল নিজেকে একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলার মাঠ রক্ষায় তরুণ শেখ কামাল শক্ত প্রতিবাদ গড়েছেন। খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, খেলোয়াড়রা যাতে খেলাধুলার পাশাপাশি আয়ের একটা নির্ভরতা খুঁজে পায় ও পেশা হিসেবে নেয়ার চিন্তাভাবনা করতে পারে সেজন্য ক্লাব ফুটবলে নতুনত্ব আনেন শেখ কামাল।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ছিলেন গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জল নক্ষত্র। ‘জয় বাংলা’ বলে দীর্ঘ লাফ দিয়ে তিনি নিখিল ভারত ও পাকিস্তান অলিম্পিকে পদক জিতেছিলেন। মেয়েরা যেন খেলাধুলায় মন ঢেলে দেয়, সেজন্য রীতিমতো কাউন্সিলিংও করতেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাথলেটিক্সে প্রথম নারী ব্লু ছিলেন বঙ্গবন্ধুর এ পুত্রবধু।

বঙ্গবন্ধুর আরেক ছেলে শেখ জামালের নামে ধানমন্ডি ক্লাবের নামকরণ করা হয়েছে- ‘শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড’। এ ক্লাবের জন্মলগ্ন থেকেই আজীবন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ধানমন্ডির বাসিন্দা হিসেবে বর্তমানে এ ক্লাবের পৃষ্ঠপোষক এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পেশাদার লীগের বড় দল- শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র।

খালিদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সময় পেলেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সমর্থন যোগাতে স্টেডিয়ামে চলে যান। সাহস যোগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দিক-নির্দেশনাও দেন তিনি। সারাদেশের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়ামও করে দিয়েছেন। তরুণদের উদ্দেশ্যে খালিদ বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চায় মনোযোগী হতে হবে। মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল হাসান, উপজেলা চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ইগলু, বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার আলী, সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুস সবুর প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.