বঙ্গবন্ধুর ৬ খুনিকে ধরতে রেড নোটিশ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গের হত্যাকারী সাজাপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ তথ্য জানান।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এ এম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) আব্দুর রশীদ, লে. (বাধ্যতামূলক অবসর প্রাপ্ত) আবদুল মাজেদ, রিসালদার (অব.) খান মোসলেমউদ্দিন। একইসঙ্গে খুনিদের দেশে ফিরিযে আনা ত্বরান্বিত করতে টাস্কফোর্স হতে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে ইন্টারপোল সদস্যভুক্ত দেশসমুহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, জাতির পিতার খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে ২০১০ সালের ২৮ শে মার্চ আইনমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করা এবং দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে টাস্কফোর্স সর্বাত্বক কার্যক্রম গ্রহণ করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে বর্তমান সরকার নতুনভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই টাস্কফোর্সটি পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত টাস্কফোর্স ইতিমধ্যে একাধিক সভায় মিলিত হয়েছে। তারা জাতির পিতার হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করা এবং দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের ছবি সংবলিত তথ্য পাঠিয়ে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো জানান, আসামি লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এ এম রাশেদ চৌধুরীর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং আসামি লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরীর অবস্থান কানাডাতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের আইনি জটিলতার কারণে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত আনতে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে চট্রগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে বিভিন্ন মেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৮৬ জন। তাদের মাথাপিছু গড়ে ৫৬ টাকা হারে প্রতিদিন খাবার বাবদ ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬শ’ টাকা ব্যয় হয়।

পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে বেগম হাজেরা খাতুনের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানকল্পে পুলিশ সদস্যদের আরো সেবা ভাবাপন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তথ্য প্রযুক্তিসহ নৈতিকতা বিষয়ে বিভিন্নমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা পুলিশ স্টাফ কলেজ, ৫টি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়াও ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার বিষযে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এদিকে নুরুল ইসলাম সুজনের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

মানবকণ্ঠ/জেকে/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.