বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচনের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা

বগুড়া প্রেসক্লাব নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাসহ সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছেন আদালত। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে ৩ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বুধবার বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ মো. শফিকুর রহমান এ আদেশ দেন।

জানা গেছে, বগুড়া প্রেসক্লাব নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল বুধবার। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক লালু ও সদস্য শফিউল আযম কমল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্যানেলের প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন; এমন অভিযোগে একাধিক প্রার্থী আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে বিচারক এই আদেশ দেন।

এদিকে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণের শেষ মুহূর্তে মামলার অন্যতম বাদী সভাপতি পদ প্রার্থী জিয়া শাহীন আদালতের আদেশের কপি নিয়ে প্রেসক্লাবে পৌঁছলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের সমর্থকরা তাকে জোর করে প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেয়। এরপর আদালতের একজন প্রতিনিধি আদেশের কপি নিয়ে প্রেসক্লাবে গেলে তাকেও বাধা দেয়া হয় এবং আদেশের কপি গ্রহণ না করে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

সভাপতি প্রার্থী সাংবাদিক জিয়া শাহীন বলেন, বেলা ১১ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট-গ্রহণের সময়। তারপর গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার সময়। কিন্তু আদালতের নোটিশ নিয়ে যাওয়ার পর বলা হয়, ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। তখনো বিকেল ৪টা বাজতে ৫ মিনিট বাকী ছিল। ভোটগনণা শুরু হওয়ার কথা না।

সভাপতি প্রার্থী আব্দুল মোত্তালিব মানিক বলেন, এটা একটা প্রহসনের নির্বাচন। আদালতের নোটিশ আমলে নেয়া উচিত ছিল। তবে, আমার বিশ্বাস বেশীরভাগ ভোটারই ভোট দেয়নি। তারপরও ভোট গ্রহণের সংখ্যা কীভাবে বাড়লো? এখানেও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী লিমন বাসার জানান, ‘নির্বাচন কমিশন একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেছে এবং ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছিলো, এ কারণেই আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং আদালত পর্যন্ত গিয়েছি। নতুন তফসিল দিয়ে ভুয়া ভোটার বাতিল করে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক লালু নোটিশ প্রদানের সময় বলেন, ‘আমি কোন ব্যক্তির কাছ থেকে নোটিশ নেবো না। ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর কোন কথা থাকতে পারে না। আদালত থেকে আমার কাছে নোটিশ এলে তা গ্রহণ করবো।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো: আফতাব হোসেন বলেন, ‘আদালতের এই আদেশের পর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা উচিত হবে না। আশা করি আমরা আদালতের কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাবো।’

মানবকণ্ঠ-বিএএফ