বগুড়ায় ফেভারিট আসনগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াত!

বগুড়ায় ফেভারিট আসনগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াত!
নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়েই নির্বাচনের মাঠে সরব হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলী অবস্থান নিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো দল তাদের কৌশল পরিবর্তন করছেন। বগুড়ায় ফেভারিট আসনগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াত !

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াত নেতারা। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) থেকে সাবেক এমপি মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) থেকে কাহালু উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী এবং বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) থেকে শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ দবিবুর রহমান। গত বুধবার তারা নিজ নিজ এলাকার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
বুধবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের নিকট থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন সাবেক এমপি মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান। এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানসহ জামায়াতের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) এলাকা হতো জামায়াত নেতা কাহালু উপজেলা পরিষদের টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী বুধবার বিকেলে কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আরাফাত রহমান ও নির্বাচন অফিসার আব্দুর রশিদের নিকট থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) থেকে শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ দবিবুর রহমান।

জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, জেলার ৭টি আসনের মধ্যে ৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তারা জানান।

এদিকে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে নির্বাচন করার কথা উঠেছে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হলে এই আসনটি তার জন্য ছেড়ে দেয়া হতে পারে এমন কথা বিএনপির নীতি নির্ধারণী মহল থেকে শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাইরে থাকা জামায়াত এককভাবে নির্বাচনের জন্য তাদের ফেভারিট আসনগুলোতে কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবহিকতায় বগুড়ার শিবগঞ্জ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। তিনি এই আসনের সাবেক এমপি।

এদিকে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে ছেড়ে দেয়া এই আসনে জামায়াতের মনোনয়ন ফরম তোলায় নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ নতুন করে কষতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এই আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ আবারো মনোনয়ন প্রত্যাশায় আছেন। যদিও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব অনেক। আওয়ামী লীগ এবার এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। তারাও বিএনপি জোটের দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের ভালো ফলাফল করতে পারবেন এমন আশায় কেন্দ্রের কাছে শক্ত দাবি করেছেন মনোনয়নের জন্য।

বর্তমানে জামায়াত, বিএনপি এবং ঐক্যফ্রেন্টের নেতারা আলাদাভাবে মনোনয়ন উত্তোলন করায় আওয়ামী লীগ এটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মান্না এর আগে এই আসনে একাধিকবার আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেছিলেন। যদিও তিনি কোনোবারেই এমপি হতে পারেননি। তবে এবার যদি বিএনপি জোট থেকে এককভাবে তিনি নির্বাচন করেন তাহলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এই আসনটিতে বিএনপি এবং জামায়াতের ভোট সমান। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াতের। এই চেয়ারম্যান আবার বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে জামায়াতের একটা শক্ত অবস্থান রয়েছে এই আসনে। যদি জোট থেকে এককভাবে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে তিনি এই ভোটগুলো একাই পাবেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান বলেন, কেন্দ্রের নিদের্শনা এবং জনগণের চাহিদার আলোকেই তিনি মনোনয়নপত্র তুলেছেন। জোটগতভাবে যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় সেক্ষেত্রে জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করেবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকায় বড় নেতা হলেই এলাকায় ভোট পাওয়া যায় না। ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে এবং তাদের মন জয় করতে হবে। তিনি বলেন, গত দু’বছর ধরে এই এলাকায় তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএ