বইয়ের হাট…

‘বায়ান্ন বাজার’ তকমা অনেক আগেই পেয়েছে ঢাকা। তাই গ্রামগঞ্জের মতো সাপ্তাহিক হাট খুব একটা নেই ঢাকা নগরে। তবে বিশেষায়িত গুটি কয়েক হাট বসে নগরে। এর মধ্যে আছে কবুতরের হাট, গরুর হাট, গাড়ির হাট। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিপরীতে ছবির হাট। ঢাকার হাটের ক্ষেত্রে এবার যুক্ত হলো বইয়ের হাট। আর এটাই নগরে প্রথম কোনো বইয়ের হাট। কাঁটাবনে মাঝে মাঝে বসে বইয়ের হাট।
বইয়ের হাটে বিক্রেতাদের ঝাঁকা নতুন নতুন বইয়ে ভরপুর থাকে। থাকে ঝাঁকাভর্তি শিশুদের বই থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর পাঠকের জন্য সৃজনশীল ও মননশীল বইয়ের সমাহার। বইয়ের হাট বসছে- এই খবর শুনে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ছুটির দিনে আমরা বাছাই করে বই কিনতে পারব।
রামপুরা থেকে আসা একজন হাট থেকে বই কিনছিলেন। তিনি বলেন, এটি একটি ইতিবাচক দিক। একুশে বইমেলা ছাড়া কোথাও খোলামেলা পরিবেশে বই পাওয়া যায় না। বইয়ের হাট বসায় আমরা সেই সুযোগটা পাচ্ছি।
বইয়ের হাট শুধু বই বেচাকেনাই নয়। লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, প্রকাশক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে যোগাযোগের ভিত গড়েও তুলবে বলে জানান এক প্রকাশক। প্রকাশকেরা জানান, গরুর হাট, গাড়ির হাটসহ অনেক হাট রয়েছে। আর এই বইয়ের হাটটি ভিন্নতর একটি উদ্যোগ। দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় এই হাট অনেক কাজে আসবে। বইয়ের হাট সম্পর্কে শাহাবাগের এক প্রকাশক বলেন, বই হাতের কাছে না থাকায় পাঠক তৈরি হচ্ছে না। একুশে বইমেলার সময় পাঠক ও ক্রেতা অনেক দেখা যায়। সারাবছর এমন আর কোনো আয়োজন থাকে না। অন্যদিকে ঢাকা শহরে দিন দিন বাড়ছে শপিং মল। শুধু বইয়ের জন্য একটি মার্কেট গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তার মতে, এরই অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে কয়েকটি বইয়ের দোকান। বইপ্রেমীদের প্রিয় মার্কেট ছিল আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেট। কিন্তু সে মার্কেটে এখন পোশাকশিল্পের প্রসারে দোকান ভাড়া বেড়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা এই এলাকাতে চলে এসেছেন।
বইয়ের হাটের আহ্বায়ক বলেন, বই প্রকাশ করে যদি বিক্রি না হয় তাহলে প্রকাশকেরা কীভাবে বাঁচবে। এখন আমরা ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় আছি। আমাদের নির্দিষ্ট একটা মার্কেট প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার আমাদের জন্য এই এলাকায় একটি বইয়ের মার্কেট তৈরির ব্যবস্থা করুক-এটা আমাদের দাবি। তাহলে আমাদের মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই হবে।
বইয়ের হাট শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়। চলে রাত আটটা পর্যন্ত। বইয়ের হাটে যেকোনো প্রকাশক তাদের বই বিক্রি করতে পারবেন। লেখক আর লিটলম্যাগ সম্পাদকদের জন্য বইয়ের হাট উন্মুক্ত। এখানে বই বিক্রি হয় বিশেষ ছাড়ে। তবে শুরুর দিকে এই বইয়ের হাটের উদ্বোধন করেন এমন একজন, যিনি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে বই পৌঁছে দিয়েছেন। মানুষের মধ্যে গড়ে তুলেছেন বই পড়ার অভ্যাস। সেই সাদা মনের মানুষ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের পলান সরকার। বইয়ের হাটের মাধ্যমে মানুষ বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে বলে মনে করেন। উদ্বোধনের সময় পলান সরকার বলেন, ‘ভালো বই পড়ার পাঠকের অভাব আছে। মানুষ ভালো বই পড়ে না। আর তাই শিক্ষিত মানুষগুলো খারাপ হয়, যা দেশের জন্য বিপজ্জনক। তাই ভালো বই পড়তে হবে।’
– রাজু ইসলাম, পাঠক মানবকণ্ঠ