ফ্লোরিডাতে কী ঘটেছিল সাকিবের সঙ্গে!

বিষয়টি অবাক করার মতোই। আমেরিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট খেলা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে উৎসবের বান ডেকেছিল। সেখানে পূর্ণতা পেয়েছিল ফ্লোরিডাতে দুটি ম্যাচই জয়ের মাধ্যমে। আমেরিকার মাটিতে আবার কবে বাংলাদেশ খেলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ব্যস্ত জীবনকে ছুটি দিয়ে প্রবাসীরা মেতেছিলেন ক্রিকেটারদের নিয়ে। ২২ গজের উইকেটের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও ক্রিকেটাররা চেষ্টা করেছেন তার সর্বোচ্চ প্রতিদান দিতে। যে কারণে ফ্লোরিডাতে ক্রিকেটারদের দেখা গেছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমভাবে।

বিদেশের মাটিতে যেখানে তারা যে কোনো ধরনের সংবর্ধনা এড়িয়ে চলেন, সেখানে ফ্লোরিডাতে তারা ছিলেন অনেক বেশি আন্তরিক। একটি অনুষ্ঠানে তারা প্রায় ঘণ্টাখানেকের মতো সময় দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। দর্শকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। দল বেঁধে দর্শকরা তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। শুধু এই নয়; সিরিজ জয়ের পর নেচে-গেয়ে ক্রিকেটাররা পুরো স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেছেন শুধুমাত্র দর্শকদের জন্য।

জয়কে অভ্যাসে পরিণত করার পর সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটারদের এরকম বিজয়োল্লাস করতে দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাকিব নিজেও বলেছেন আমেরিকার দর্শকদের কথা বিবেচনা করেই তারা এরকমটি করেছেন। সেখানে কিনা খবর এলো হোটেলে ফেরার পর লবিতে সাকিব এক দর্শকের সঙ্গে খুবই বাজে আচরণ করেছেন। মারার জন্য তেড়ে গেছেন। অশ্লীল কথা বলেছেন। এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগায়োগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি অবাক করার মতোই! ঘটনাটি সাকিব ঘটিয়েছেন বলেই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কারণ অতীতে দর্শকদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করার নজির রয়েছে সাকিবের। মানবকণ্ঠের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় খেলোয়াড়দের বাইরে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অ্যাথলেট সাঈদ-উর রব। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মানবকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ছেলেটি মেরিল্যান্ড থেকে এসেছে। খেলোয়াড়রা যখন হোটেলে ফিরছিলেন, তখন সে অটোগ্রাফ চেয়েছিল। কিন্তু সাকিব অটোগ্রাফ না দিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করে চলে যান। এ সময় সে ছেলেটি ‘ভাব দেখায়’ বলে মন্তব্য করেন। কথাটি সাকিব শুনে ফেললে তিনি ফিরে এসে তার সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে বাজে ব্যবহার করেন।

অশ্লীল শব্দও ব্যবহার করেন। ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে রুমে চল তোমাকে দেখাব বলেও শাসান সাকিব। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরে আবার তিনি তেড়ে আসেন ছেলেটির দিকে। এ সময় ছেলেটির সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী সাকিবকে দমানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করছে দেখে আমিও এগিয়ে গিয়ে সাকিবকে শান্ত করে ফিরিয়ে দেই। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে নিযুক্ত ডিফেন্স অ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজও ভালো ভূমিকা রেখে সাকিবকে শান্ত করে ফেরত পাঠান। এদিকে তামিমসহ অন্য কয়েকজন খেলোয়াড় সেই ছেলেকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।’ ছেলেটি আমেরিকান সিটিজেন বলে জানান সাঈদ-উর রব। এ সময় ছেলেটি তার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করার জন্য ৯১১-তে ফোন করে পুলিশ ডাকতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি ছেলেটিকে বুঝিয়ে পুলিশ ডাকা থেকে বিরত রাখেন। পুলিশ ডাকলে বিষয়টি অন্যরকম হতো বলে জানান তিনি।

এ ঘটনার সময় হোটেলে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক থেকে খেলা দেখতে যাওয়া তানজিল। তিনি সেই হোটেলেই উঠেছিলেন। মাঠে খেলা দেখে আসার পর তিনিসহ তার সঙ্গের কয়েকজন এবং আরো অনেকেই হোটেল লবিতে অবস্থান করছিলেন। গৌরব গাঁথা বিজয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তারা কয়েকজনে মিলে খেলোয়াড়দের গার্ড অব অনার দেয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। তানজিল বলেন, ‘আমরা লাইন ধরে হোটেলের গেটে দাঁড়িয়েছিলাম।

আমাদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা। খেলোয়াড়রা যখন হোটেলে প্রবেশ করছিলেন, তখন সেই ছেলেটি লাইন ভেঙে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সেলফি তুলতে তুলতে হোটেলে প্রবেশ করছিল। সাকিবের সঙ্গেও সে সেলফি তুলেছে। তার কারণে বিশৃঙ্খলাও দেখা দেয়। আমাদের অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। এরপর সেই ছেলে সাকিবের অটোগ্রাফ চাইলে সাকিব না দিয়ে চলে যান। তাছাড়া সাকিবের অটোগ্রাফ দেয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। তার দুই হাতেই লাগেজ ছিল।’ তানজিল জানান আসলে সাকিবের কোনো দোষ ছিল না। সব দোষ ছিল ওই ছেলের। সাকিব খেলে এসেছে। টায়ার্ড ছিল। তারপরও সে ছবি তুলেছে। এটি বুঝতে হবে।

এদিকে সাকিব ফেসবুকে নিজের পেজে এ ঘটনা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘প্রথমে আমার প্রিয় ভক্ত ও অনুসারীদের উদ্দেশ করে কিছু বলতে চাই। সম্প্রতি আমাকে নিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর লবিতে আমাকে এবং তথাকথিত ‘ফ্যান’-এর সঙ্গে তর্ক বিতর্ক করতে দেখা যায়। এই স্ক্রিপটি সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে না।

পরপর ম্যাচ থাকায় আমি ও আমার সহকর্মীরা বেশ ক্লান্ত ছিলাম এবং আমরা আমাদের রুমে ফিরে যাচ্ছিলাম। আমরা আমাদের সরঞ্জাম এবং ব্যাগ বহন করছিলাম। তাই আমাদের হাত পূর্ণ ছিল যা কোনোভাবেই অটোগ্রাফ দেয়ার অবস্থায় ছিল না। আমরা সর্বদাই ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি। তাই তাদের সঙ্গে ছবি তুলে, অটোগ্রাফ দিয়ে মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ভক্তদেরও বুঝতে হবে যে আমরাও মানুষ। আমরা মাঠে বিজয় অর্জনের প্রাণপণ লড়াই করি। আমাদের কি ব্যস্ত বা ক্লান্ত অনুভব করার অনুমতি নেই? আমরা আপনাদের সমর্থন বুঝি এবং প্রশংসা করি সবসময়। এই কঠিন কঠোর চেষ্টার মাঝে সবসময় নিজেকে গুছিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে।’

এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের সঙ্গে আমেরিকা থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ভিডিও ফুটেজটি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। টিম দেশে ফিরে আসুক। সবার সঙ্গে কথা বলে দেখব আসলে ঘটনা কী ছিল।

মানবকণ্ঠ/এএএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.