ফ্রেমবন্দি হোক ভ্রমণের স্মৃতি

ফ্রেমিং: ছবি তোলার সময় আমরা বেশিরভাগ লোকেরই ফ্রেমিংটা বুঝি না। ফলে খুব সুন্দর একটা স্থানে ছবি তোলার পরও মনে হয় এই ছবির তেমন কোনো মূল্য বা দেখার কিছু নেই অথচ ফ্রেমিংয়ের কারণে অনেক সাধারণ দৃশ্য অসাধারণ হয়ে যায়। ফ্রেমিংসংক্রান্ত কয়েকটা টিপস দিয়ে রাখি তবে এই বিষয়ে একটু ভালো জ্ঞান নিয়ে রাখুন ইউটিউব থেকে। পরে কাজে লাগবে।
১। ছবিতে শুধু নিজেকে হাইলাইট করবেন না। পেছনের প্রকৃতিকেও তুলে ধরুন। নিজেকে এমনভাবে মেলে ধরুন যেন আপনি প্রকৃতির একটা অংশ।
২। নিজেকে ফ্রেমের মাঝে রাখবেন না তাহলে ছবির সবকিছুই নষ্ট করে দেবে। যে কোনো একপাশে যান কিংবা বাম অথবা ওপর কিংবা নিচে রেখে অন্যপাশে পারিপার্শি^ক পরিবেশটা নিয়ে আসুন। তারপর দেখুন ছবি কেমন হয়েছে।
৩। শুধু নিজের ছবি তুলবেন না। অন্যদেরও ফ্রেমে নিয়ে আসুন। ছবি এমনভাবে তুলুন যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছবিতে কেটে না যায়। যেমন ঘরের দরজা, বিশেষ পাথর, সুন্দর একটি গাছ, কোনো দরকারি লেখা ইত্যাদি কিংবা ছবির পাত্রপাত্রীদের শরীরের কোনো অংশ।
ওরিয়েন্টেশন: আমরা যারা মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহার করি তারা সবসময় ক্লোজ শর্ট আর ভার্টিক্যাল ফ্রেমে ছবি তুলি। এটা পার্সফেক্টিভের কারণে হয়, কারণ মোবাইলের স্ক্রিনের ওরিন্টেশন ও সাইজের কারণে এমন হয়। আর যারা ল্যাপটপ বা পিসিতে ছবি দেখেন তারা ঠিক উল্টো মানে হরিজোন্টাল ফ্রেমে ছবি তোলেন ও এডিট করেন। যদি অনেক ছবি তোলেন আপনি দুটোই করতে পারেন। কিন্তু আপনার মাস্টার ছবিগুলো হবে আপনার চোখের ফ্রেমিং বা ক্যামেরার ফ্রেমিং মতো এবং ফেসবুকে পোস্ট করা মুখ্য উদ্দেশ্য হলে ফেসবুকের নির্ধারিত সাইজ অনুসারে হলেই ভালো।
কম্বিনেশন: ছবি তোলায় কম্বিনেশন একটু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু লেখা দিয়ে এটা বোঝানো মুশকিল। যেমন কালার কম্বিনেশন, কোন কালারের জামার পাশে কোন কালারের জামা দাঁড়াবে, সাইজ কম্বিনেশন কার পাশে কে দাঁড়াবে কিংবা অন্যান্য বস্তু এবং বস্তুর সঙ্গে মানুষের কম্বিনেশন দেখতে হবে। যেমন ফুলের তোড়া আপনার কোথায় থাকবে। পুষি বিড়ালকে কীভাবে ধরবেন। পেছনের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে আপনার হাতের ডায়েরিটাকে কীভাবে ম্যাচ করবেন। ইত্যাদি শেখার বিষয় আছে। যারা শখ করে ঘুরতে চান ও ছবি তোলেন সম্ভব হলে একটি শর্টকোর্স করে নেবেন। কাজে লাগবে।
টেকনিক্যাল বিষয়: ছবি তোলার জন্য ক্যামেরার সেটিং আগে দেখে নেবেন এবং বিভিন্ন সেটিংয়ে ছবি তুলে দেখবেন কোনটা ভালো লাগে। ইনডোর আউটডোর সকাল-বিকেলের সেটিংগুলো বুজে নেবেন। বিভিন্ন ধরনের অপশন বুঝে নিয়ে আগেই কিছু প্র্যাকটিস করে দেখবেন এই ক্যামেরায় কোন সেটিংয়ে ভালো আসে।
এডিটিং: প্রয়োজনে ছবি সম্পাদনা করে নেবেন। ইমেজ কালার ও ইফেক্ট একটা ভালো দিক। ছবি তোলার সময় পর্যাপ্ত জায়গা রাখলে ছবি এডিট করা সহজ হয়ে যায়। এডিটের সময় সাইজ ওরিন্টেশন ও ইফেক্টের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন। ফটোগ্রাফার হিসেবে আপনার নাম জলছাপে দিতে পারেন। ছবি সম্পাদনা করার সময় ফ্রেমিং এবং কম্বিনেশন খেয়াল করুন। ভালো ছবিগুলো বিভিন্ন সাইজে এডিট করতে পারেন যেন বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। – ভ্রমণ ডেস্ক