ফেসবুকে গুজব: অভিনেত্রী নওশাবা ফের রিমান্ডে

ফেসবুক গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদকে ফের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষ শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় নওশাবা আহমেদের ফের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে দুইদিন মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, নওশাবার সঙ্গে আর কার কার মেইল যোগাযোগ রয়েছে, তাদের মেইল আইডি, নওশাবার নিজের আর কোনো মেইল আইডি রয়েছে কি না তা জানার জন্য, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবারও তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। অন্যদিকে আসামির আইনজীবী জামিনের আবেদনে বলেন, নওশাবার অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল না। সরকার বিরোধিতার লক্ষ্যে কোনো কার্যক্রম ছিল না। তিনি ভুল তথ্য পেয়েছিলেন মাত্র।

এদিকে একই বিচারক এর আগে রোববার এই অভিনেত্রীকে চার দিনের হেফাজতে নেয়ার আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ের কর্মীদের সংঘর্ষে জিগাতলা এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলা সংঘর্ষে হেলমেট পরা একদল যুবককে দেখা গেছে, যাদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে। সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে অভিনেত্রী নওশাবা বিকেল চারটার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন। ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের লাইভ ভিডিওর শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি কাজী নওশাবা আহমেদ বলছি, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। ’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোই নওশাবার উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব। র‍্যাবের ভাষ্য, নওশাবা স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে আসার আগে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি জিগাতলা নিয়ে কথা বলার সময় উত্তরায় ছিলেন। রুদ্র নামের এক ছেলে তাঁকে লাইভ করতে বলেন। তাই তিনি উত্তরা থেকে লাইভ করেছেন।

ফেসবুকে গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুজব ছাড়ানোর কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে র‌্যাব বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে এ মামলা করে নওশাবাকে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ